ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

যাদের চাতাল শ্রমিক বলা হয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০১৯
  • ৪৮০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। যেদিকে চোখ যায় কেবল ধানক্ষেত আর ধানক্ষেত। ব্যাপক ধান উৎপাদন হওয়ায় এদেশে চালকলও গড়ে উঠেছে অনেক। আর এসব চালকলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রচুর শ্রমিক, যাদের চাতাল শ্রমিক বলা হয়। এদের বেশির ভাগই নারী। ধানের রাজ্য নওগাঁ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় ও চালকল মালিকদের তথ্যমতে, এ জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে।

জেলায় ১ হাজার ২৮০টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি অটোরাইস মিল এবং বাকিগুলো হাসকিং মিল। চালকলগুলোতে নারী শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি। নারী শ্রমিকদের মজুরি কম হওয়ায় চালকল মালিকদের আগ্রহও থাকে বেশি। এসব শ্রমিকের মাসিক নির্দিষ্ট কোনো বেতন থাকে না। কাজের ওপর মজুরি।

সূত্র মতে, ঈশ্বরদীতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ৬০০টি চাতাল রয়েছে। এখানে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ২৫ ভাগ রয়েছেন নারীশ্রমিক। যেখানে এমনিতেই মজুরি কম। সেখানে তারা ক্ষেত্রবিশেষে পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করেন। কিন্তু মজুরি পান পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক। জীবিকার তাগিদে এই বৈষম্য মেনে নিয়েছেন চাতালের নারীশ্রমিকরা।

এদিকে চালকলে নারী শ্রমিকরা অধিকাংশ স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা। তাই নিরুপায় হয়ে চালকলে তারা কাজ করে থাকেন। তবে আলো-বাতাসহীন ছোট খুপড়ি ঘরে গরমে কষ্ট করে থাকেন এসব শ্রমিক। ফলে অধিকাংশ শ্রমিক অসুস্থতায় ভোগেন। খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত না। চাতালশ্রমিকদের ‘এক চাতাল’ বা ‘এক দাগ’ হিসেবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এক চাতালে ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান সিদ্ধ করা হয়। এক চাতাল ধান সিদ্ধ, চাল উৎপাদন এবং বিপণন পর্যন্ত সময় লাগে দুই-তিন দিন। আবহাওয়া খারাপ থাকলে পাঁচ-সাত দিন লেগে যায়। চাতালে পুরুষ শ্রমিকদের এক দাগ (দুই দিন) হিসাবে মজুরি দেওয়া হয় (দুই দিন হিসাবে) ৮০০ টাকা। এ হলো পুরুষ শ্রমিকের কথা।

কিন্তু এক্ষেত্রে নারীশ্রমিকদের কোনো টাকা দেওয়া হয় না। এক দাগ হিসাবে তারা জনপ্রতি ১৪ কেজি খুদ ও ১৪ কেজি ধানের গুঁড়া পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়ে থাকেন। বাজারদর হিসেবে ওই পরিমাণ খুদ ও গুঁড়ার মূল্য ৪৪০ টাকা। আজকের এই বিশ্বে, সভ্যতার এই পর্যায় এসে এমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন অনাচারের শিকার শ্রমিকরা; তার চেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার আজ নারী শ্রমিকরা; নারী চাতাল শ্রমিকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

যাদের চাতাল শ্রমিক বলা হয়

আপডেট টাইম : ০৫:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। যেদিকে চোখ যায় কেবল ধানক্ষেত আর ধানক্ষেত। ব্যাপক ধান উৎপাদন হওয়ায় এদেশে চালকলও গড়ে উঠেছে অনেক। আর এসব চালকলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রচুর শ্রমিক, যাদের চাতাল শ্রমিক বলা হয়। এদের বেশির ভাগই নারী। ধানের রাজ্য নওগাঁ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় ও চালকল মালিকদের তথ্যমতে, এ জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে।

জেলায় ১ হাজার ২৮০টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি অটোরাইস মিল এবং বাকিগুলো হাসকিং মিল। চালকলগুলোতে নারী শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি। নারী শ্রমিকদের মজুরি কম হওয়ায় চালকল মালিকদের আগ্রহও থাকে বেশি। এসব শ্রমিকের মাসিক নির্দিষ্ট কোনো বেতন থাকে না। কাজের ওপর মজুরি।

সূত্র মতে, ঈশ্বরদীতে বর্তমানে ছোট-বড় মিলে ৬০০টি চাতাল রয়েছে। এখানে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ২৫ ভাগ রয়েছেন নারীশ্রমিক। যেখানে এমনিতেই মজুরি কম। সেখানে তারা ক্ষেত্রবিশেষে পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করেন। কিন্তু মজুরি পান পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক। জীবিকার তাগিদে এই বৈষম্য মেনে নিয়েছেন চাতালের নারীশ্রমিকরা।

এদিকে চালকলে নারী শ্রমিকরা অধিকাংশ স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা। তাই নিরুপায় হয়ে চালকলে তারা কাজ করে থাকেন। তবে আলো-বাতাসহীন ছোট খুপড়ি ঘরে গরমে কষ্ট করে থাকেন এসব শ্রমিক। ফলে অধিকাংশ শ্রমিক অসুস্থতায় ভোগেন। খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত না। চাতালশ্রমিকদের ‘এক চাতাল’ বা ‘এক দাগ’ হিসেবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এক চাতালে ২০০ থেকে ৩০০ মণ ধান সিদ্ধ করা হয়। এক চাতাল ধান সিদ্ধ, চাল উৎপাদন এবং বিপণন পর্যন্ত সময় লাগে দুই-তিন দিন। আবহাওয়া খারাপ থাকলে পাঁচ-সাত দিন লেগে যায়। চাতালে পুরুষ শ্রমিকদের এক দাগ (দুই দিন) হিসাবে মজুরি দেওয়া হয় (দুই দিন হিসাবে) ৮০০ টাকা। এ হলো পুরুষ শ্রমিকের কথা।

কিন্তু এক্ষেত্রে নারীশ্রমিকদের কোনো টাকা দেওয়া হয় না। এক দাগ হিসাবে তারা জনপ্রতি ১৪ কেজি খুদ ও ১৪ কেজি ধানের গুঁড়া পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়ে থাকেন। বাজারদর হিসেবে ওই পরিমাণ খুদ ও গুঁড়ার মূল্য ৪৪০ টাকা। আজকের এই বিশ্বে, সভ্যতার এই পর্যায় এসে এমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন অনাচারের শিকার শ্রমিকরা; তার চেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার আজ নারী শ্রমিকরা; নারী চাতাল শ্রমিকরা।