,

a11

আতঙ্কে বিএনপি নেতারাও

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আওয়ামী লীগ সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে সমালোচনা সত্ত্বেও এতে জড়িত যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে দলটি। তবে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। ক্যাসিনো ইস্যুতে বিএনপি নেতারা প্রতিদিন সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। কিন্তু তাদের এ উচ্ছ্বাস বেশিদিন নাও থাকতে পারে। কারণ ক্যাসিনোর সঙ্গে বিএনপি নেতারাও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

তাছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো সম্পৃক্ততায় একাধিক বিএনপি নেতার নাম উঠে আসছে তদন্তে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এরপরই বিএনপির কয়েকজন নেতা ক্যাসিনোর চাকায় আটকে যেতে পারেন।

জানা গেছে, ক্যাসিনো সম্পৃক্ততায় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, টেন্ডার কিং জি কে শামীম ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে লোকমান ও জি কে শামীম একসময় সরাসরি বিএনপির রাজনীতি করতেন। আর খালেদও বিএনপি সমমনা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তারা সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জি কে শামীম জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

শামীম জানান, মির্জা আব্বাসের তত্ত্বাবধানে শামীমের টেন্ডার রাজত্ব চলত। গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালেই আব্বাসের মাধ্যমে শামীমের প্রতিপত্তি বাড়ে। শামীমের অফিস থেকে উদ্ধার করা একটি খাতায় নথিতে আব্বাস এবং নজরুল ইসলাম খানকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। এই টাকার অংকটা কোটি টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া দলের নামও উঠে আসছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম তদন্তে উঠে আসছে। এ বিষয়েও কিছু তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

এসব বিষয় হাওয়া দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘জি কে শামীম যাদের টাকা দিত, তাদের নামের তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানের নামও রয়েছে। ফখরুল সাহেব এত খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। মদ-জুয়া চালু করেছিল আপনাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। আপনাদের নেতা তারেক রহমান দুর্নীতির বরপুত্র। আপনাদের যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ছাড়া গত শুক্রবার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ক্যাসিনো চালু হয়। মির্জা আব্বাস, মোসাদ্দেক আলী ফালু, সাদেক হোসেন খোকারা ক্যাসিনো চালু করেছিল। যারা ক্যাসিনো পরিচালনা করছে ও যারা চালু করেছিল, তারা কেউই দায় এড়াতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এইচ টি ইমামসহ আওয়ামী সিনিয়র নেতারা ক্যাসিনোর সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার কথা নিয়মিত বলছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা হঠাৎ করেই বিএনপির নাম জড়াচ্ছে তা নয়। এসব দুর্বৃত্তায়ন ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চেহারা বলে ফেলে। কারণ অর্থ ও ক্ষমতার কাছে সব গডফাদারের চেহারা একই। ফলে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কিছু না কিছু তথ্য রয়েছে। তা না হলে বিএনপির নেতাদের নাম উঠে আসত না।

তবে এসব অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যারা ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে ধরুন। এখন বিএনপির দোষ দিচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াতের লোকদের দলে নিয়েছেন কেন?

সরকারের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোন নেতা যিনি ক্যাসিনো চালাতেন তিনি নাকি প্রতি মাসে তারেক রহমানকে এক কোটি টাকা পাঠাতেন। আচ্ছা, আপনারা গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায়। আপনারা তখন কি বসে বসে আঙুল চুষছিলেন না?’

সাঁড়াশি অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথম দিন যুবলীগ নেতা খালেদ ভূঁইয়া পরিচালিত ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবসহ চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। আটক করা হয় খালেদকে। এরপর ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ধানমণ্ডি ক্লাব, মোহামেডান ও ফুয়াং ক্লাবসহ বেশকিছু জায়গায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, মদ আর বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় অনেককে।

ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে। যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক কারবারি তাদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও অভিযান শুরু হচ্ছে। গুটিকয়েক লোকের কারণে দলের অপকর্মের দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সেখানে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, মহিবুল চৌধুরী নওফেল, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং দলটির অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর