ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রহস্যময় এক ফলের গল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯
  • ৩০২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ফল নয়, রীতিমতো ধাঁধা যেন। দেখতে আদতে ফল মনে হলেও পরিবর্তিত রূপটা ফুলের মতোই। ফল আপনাআপনি ফেটে গিয়ে ফুলের অবয়ব তৈরি হয়। এই রহস্য ভেদ করতে সময় লাগল ৪ বছর। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েই রূপসী ফলটির লোভনীয় রঙে আকৃষ্ট হই। ছবিও তুলি। পাতা দেখতে অনেকটা বড় আলুর পাতার মতোই। কিন্তু পরিচয় জানতে গিয়েই দেখা দিল বিপত্তি।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন গাছটির সঠিক পরিচয় জানালেন। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম erythropalum scandens। ইংরেজি নাম রেডস্টেক ক্লাইম্বার। কেননা, বাংলা নাম পাওয়া গেল না। আসামের স্থানীয় নাম ল’জাংঠু। ১৯৫৫ ও ১৯৯৫ সালের রেকর্ড থেকে জানা যায়, গাছটি সিলেট ছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে পাওয়া যায়। অবশ্য বর্তমানে নিজস্ব আবাসে গাছটি কতটা সহজলভ্য, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এটি আরোহী গুল্ম বা লতানো ধরনের গাছ। শাখা-প্রশাখা সরু, লম্বা, মসৃণ ও বাকল হলুদাভ বাদামি। পাতা একান্তর, সরল ও ডিম্বাকার, ওপরের পিঠ গাঢ় সবুজ। পুষ্পমঞ্জরি কাংখিক, স্তবক। ফুল উভলিঙ্গ, সাদা বা হলুদ, ক্ষুদ্র, ৩ মিলিমিটার লম্বা। বৃতি পেয়ালার মতো। দলমণ্ডল গভীরভাবে খণ্ডিত হয়ে পাঁচটি অংশে বিভক্ত। পুংকেশর পাঁচটি, পাপড়িগুলো প্রতিমুখ। ফল ঝুলন্ত, পরিপক্ব অবস্থায় হলুদাভ। নীল রঙের ঝুলন্ত বীজের সংখ্যা একটি। ফুল ও ফলের মৌসুম আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।

সূত্র- প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রহস্যময় এক ফলের গল্প

আপডেট টাইম : ০৫:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ফল নয়, রীতিমতো ধাঁধা যেন। দেখতে আদতে ফল মনে হলেও পরিবর্তিত রূপটা ফুলের মতোই। ফল আপনাআপনি ফেটে গিয়ে ফুলের অবয়ব তৈরি হয়। এই রহস্য ভেদ করতে সময় লাগল ৪ বছর। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েই রূপসী ফলটির লোভনীয় রঙে আকৃষ্ট হই। ছবিও তুলি। পাতা দেখতে অনেকটা বড় আলুর পাতার মতোই। কিন্তু পরিচয় জানতে গিয়েই দেখা দিল বিপত্তি।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন গাছটির সঠিক পরিচয় জানালেন। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম erythropalum scandens। ইংরেজি নাম রেডস্টেক ক্লাইম্বার। কেননা, বাংলা নাম পাওয়া গেল না। আসামের স্থানীয় নাম ল’জাংঠু। ১৯৫৫ ও ১৯৯৫ সালের রেকর্ড থেকে জানা যায়, গাছটি সিলেট ছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে পাওয়া যায়। অবশ্য বর্তমানে নিজস্ব আবাসে গাছটি কতটা সহজলভ্য, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এটি আরোহী গুল্ম বা লতানো ধরনের গাছ। শাখা-প্রশাখা সরু, লম্বা, মসৃণ ও বাকল হলুদাভ বাদামি। পাতা একান্তর, সরল ও ডিম্বাকার, ওপরের পিঠ গাঢ় সবুজ। পুষ্পমঞ্জরি কাংখিক, স্তবক। ফুল উভলিঙ্গ, সাদা বা হলুদ, ক্ষুদ্র, ৩ মিলিমিটার লম্বা। বৃতি পেয়ালার মতো। দলমণ্ডল গভীরভাবে খণ্ডিত হয়ে পাঁচটি অংশে বিভক্ত। পুংকেশর পাঁচটি, পাপড়িগুলো প্রতিমুখ। ফল ঝুলন্ত, পরিপক্ব অবস্থায় হলুদাভ। নীল রঙের ঝুলন্ত বীজের সংখ্যা একটি। ফুল ও ফলের মৌসুম আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।

সূত্র- প্রথম আলো