ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদের ভয়াবহ পরিণাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৪৫০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রদত্ত ঋণের ওপর নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাকে সুদ বলে বা একই জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কম পণ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ করাকে সুদ বলা হয়। তবে সুদকে কোনো কোনো এলাকায় লাভ, উপরি বা রহঃবৎবংঃ বলে।

সুদকে আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ দেওয়া, সুদ নেওয়া বা কোনোভাবে সুদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হওয়া নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম অপরাধ এবং এর পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সুদি লেনদেনের মাধ্যমে একপক্ষ সর্বদা লাভবান হয়, অন্যপক্ষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুদ সমাজে অপরাধ, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার করে এবং মানুষকে করে অতি দুনিয়ালোভী। কিন্তু অতি দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, সুদ আমাদের সমাজে আজ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিরা কেয়ামতের দিন পাগল এবং মাতাল অবস্থায় উঠবে। সেদিন লোকজন তাদের দেখেই চিনতে পারবে এরা সুদখোর।

মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, যারা সুদ ভক্ষণ করে, কেয়ামতের দিন তারা ওই ব্যক্তির মতো দায়মান হবে, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতো। অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হয়, পূর্বে যা হয়ে গেছে তা তার এবং তার ব্যাপারটি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। আর যারা ফের সুদের দিকে ধাবিত হয়, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। চিরকাল তারা সেখানে অবস্থান করবে। (সূরা বাকারা : ২৭৫)।

মহান আল্লাহ কোরআনের অন্যত্র আরও এরশাদ করেন, হে মুমিনরা! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আলে-ইমরান : ১৩০)। মহান আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা শোনার পরও যারা সুদি লেনদেন থেকে বিরত না হয়, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ২৭৯নং আয়াতে এরশাদ করেন, আর যদি তোমরা সুদ পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম কর না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর অভিশম্পাত করেছেন এবং এহেন অপরাধের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেনদেনের লেখক এবং সাক্ষীদাতা সবার ওপর লা’নত (অভিশম্পাত) করেছেন। (মুসলিম)।

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো, সুদের সর্বনিম্ন স্তরের গোনাহ যদি হয় আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা, তাহলে সর্বোচ্চ গোনাহ কত নিকৃষ্ট ও ভয়াবহ! সুতরাং যারা এখনও সুদের মতো ভয়াবহ গোনাহের জালে আটকে আছেন, তাদের অতি দ্রুত তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং কাতর কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান স্রষ্টার দরবারে তওবা করে সুদমুক্ত ও পবিত্র জীবন গঠনে সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুদের মতো গর্হিত অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার  তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদের ভয়াবহ পরিণাম

আপডেট টাইম : ০১:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রদত্ত ঋণের ওপর নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাকে সুদ বলে বা একই জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কম পণ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ করাকে সুদ বলা হয়। তবে সুদকে কোনো কোনো এলাকায় লাভ, উপরি বা রহঃবৎবংঃ বলে।

সুদকে আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ দেওয়া, সুদ নেওয়া বা কোনোভাবে সুদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হওয়া নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম অপরাধ এবং এর পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সুদি লেনদেনের মাধ্যমে একপক্ষ সর্বদা লাভবান হয়, অন্যপক্ষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুদ সমাজে অপরাধ, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার করে এবং মানুষকে করে অতি দুনিয়ালোভী। কিন্তু অতি দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, সুদ আমাদের সমাজে আজ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিরা কেয়ামতের দিন পাগল এবং মাতাল অবস্থায় উঠবে। সেদিন লোকজন তাদের দেখেই চিনতে পারবে এরা সুদখোর।

মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, যারা সুদ ভক্ষণ করে, কেয়ামতের দিন তারা ওই ব্যক্তির মতো দায়মান হবে, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতো। অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হয়, পূর্বে যা হয়ে গেছে তা তার এবং তার ব্যাপারটি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। আর যারা ফের সুদের দিকে ধাবিত হয়, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। চিরকাল তারা সেখানে অবস্থান করবে। (সূরা বাকারা : ২৭৫)।

মহান আল্লাহ কোরআনের অন্যত্র আরও এরশাদ করেন, হে মুমিনরা! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আলে-ইমরান : ১৩০)। মহান আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা শোনার পরও যারা সুদি লেনদেন থেকে বিরত না হয়, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ২৭৯নং আয়াতে এরশাদ করেন, আর যদি তোমরা সুদ পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম কর না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর অভিশম্পাত করেছেন এবং এহেন অপরাধের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেনদেনের লেখক এবং সাক্ষীদাতা সবার ওপর লা’নত (অভিশম্পাত) করেছেন। (মুসলিম)।

একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো, সুদের সর্বনিম্ন স্তরের গোনাহ যদি হয় আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা, তাহলে সর্বোচ্চ গোনাহ কত নিকৃষ্ট ও ভয়াবহ! সুতরাং যারা এখনও সুদের মতো ভয়াবহ গোনাহের জালে আটকে আছেন, তাদের অতি দ্রুত তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং কাতর কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান স্রষ্টার দরবারে তওবা করে সুদমুক্ত ও পবিত্র জীবন গঠনে সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুদের মতো গর্হিত অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার  তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা