ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

প্রধানমন্ত্রীকে ইমনের খোলা চিঠি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৪৫২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোটবেলায় স্কুল আর ছোটাছুটিতে ব্যস্ত থাকত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু ইমন আলম। বিভিন্ন চিকিৎসকের চিকিৎসা শেষে জানা গেল জুবেনাইল আইডিওপেডিক আরথাইটিস রোগে আক্রান্ত সে। দিনে দিনে তাকে কেবলই কাবু করেছে রোগটি। ইমন আলম এখন ২২ বছরের তরুণ। তার সুস্থ হওয়ার আকাঙ্খা আর ঘরবন্দি হয়ে থাকার কষ্টগুলো জানিয়ে ইমন আলম ‘মানবতার মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি লিখেছেন। পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু তুলে দেয়া হলো।

মানবতার মা, আমি ইমন আলম। ক্রিকেট ভালোবাসি। স্কুলে যেতে ভালো লাগত। দলবেঁধে ঘুরতে ভালো লাগত। এখন তার কিছুই পারি না। অষ্টম শ্রেণিতে উঠে স্কুল ছাড়তে হয়। কারণ আমার কোমর দাঁড়াতে দেয় না আমাকে। জুবেনাইল আইডিওপেডিক আরথাইটিস রোগে আক্রান্ত আমি।

এখন আমার সঙ্গী বিছানা। শুয়ে শুয়ে বই পড়ি। মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধু-মনীষীদের বই। কত স্বপ্ন তৈরি হয় মনে। এবারের নির্বাচনে যখন আমার বন্ধু ও গ্রামের ছেলেরা আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে উত্তুঙ্গ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে যায়, আমারও ইচ্ছে হতো, আহা যদি যেতে পারতাম মিছিলে। এত কষ্ট লাগত তখন! এ রকমই উত্তাল ছিল ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে, আমার স্কুলশিক্ষক বাবার কাছে শুনেছি। বইয়ে পড়েছি।

তবে মিছিলে না যাওয়ার কষ্ট কিছু দূর হয়, যখন আব্বার সাহায্যে আমার স্কুলের কেন্দ্রে গিয়ে জীবনের প্রথম ভোটটি নৌকা মার্কায় দিতে পেরেছি।

আমার চাচা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে বিদ্রোহ করেন যশোর সেনানিবাসে। সেখানেই যুদ্ধ করে শহীদ হন তিনি। আমার দাদি ও আব্বার কাছে কত গল্প শুনেছি চাচাকে নিয়ে। আমি শহীদ পরিবারের সদস্য-এটা আমার এক বড় গর্ব।

আমার দাদি শহীদ চাচার পেনশনের সামান্য টাকাটা আমার জন্য খরচ করতেন। দাদি মারা গেছেন ২০১৫ সালে। কিন্তু আমি কারও জন্য কিংবা দেশের জন্য কিছু করতে পারি না। এটা আমাকে কুঞ্চিত করে সব সময়।

দিনের বেশির ভাগ সময় শুয়ে শুয়ে টিভিতে-জননেত্রী, আপনাকে দেখি দেশের উন্নয়নে ছুটে বেড়াতে। বঙ্গবন্ধুকে দেখি। আপনার আদরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে প্রায়ই দেখি। ভালো লাগে। এমন বয়সেই আমি অসুস্থ হতে থাকি। আপনি যখন রোহিঙ্গাদের বুকে টেনে নেন কিংবা আপনার সহায়তার হাত পেয়ে জেগে উঠেছে অনেকের মরে যাওয়া স্বপ্ন, তা দেখেও ভালো লাগে। ভালো লাগে আপনাকে যখন ডাকা হয় ‘মানবতার মা’।

আমি প্রায়ই অনুভব করি, আব্বার জন্য, আম্মার জন্য আমার অনেক মায়া হয়। সেই কবে থেকে (১৫ বছর ধরে) তারা আমাকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে। আমার চিকিৎসার পেছনে শেষ করেছেন সবকিছু। এর ওপর ২০১৩ সালে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসের সময় আমার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বাবার একমাত্র অবলম্বন দোকানটি আগুনে পুড়ে তাকে নিঃস্ব করে দেয়। তার ১৫ দিন পর ভয়াবহ টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্ত করে বাড়িঘর। মাননীয় এমপি মহোদয় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী চাচা তখন বাবাকে সাহায্য করেন।

সেবারই ধরা পড়ে আমার কোমরের জয়েন্টে একটা হাড় ক্ষয়ে গেছে। অপারেশন করালে আমি ভালো হয়ে যাব। কিন্তু আব্বার সেই সামর্থ্য কোথায় যে অপারেশন করাবেন! বড় বোন এলিজা আপনার সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন (২০১৩ সালে), সেটি বোধ হয় তখন আর পৌঁছায়নি।

এখন শুনছি কোমরের আরও একটি হাড় ক্ষয়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন না করালে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে আমাকে। আব্বা-আম্মার অসহায় আলোচনা থেকে বুঝতে পারি তারা অথই সাগরে পড়েছেন। এমনিতেই তারা আমাকে নিয়ে কী কষ্টটাই না করছেন! এত বড় ছেলের খাবার-গোসল থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কর্ম আমার আম্মাকে একা করতে হয়।

অথচ আমি যখন সুস্থ ছিলাম, সেই বালকবেলায় ছোট ছোট পায়ে কত ফুটবল-ক্রিকেট খেলেছি, দৌড়েছি, স্কুলে গিয়েছি। আম্মার এটা-সেটা আনতে বাজারে দৌড়ে গেছি। কত বন্ধু ছিল আমার। তারা এখনো আছে, মাঝে মাঝে এসে আমার বিছানার পাশে বসে, আমাকে উঠে বসতে সাহায্য করে। গল্প করে। কিন্তু আমি এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাইরে গিয়ে হাঁটতে-দৌড়াতে পারি না।

আমি আবার সবার মতো সুস্থ হতে চাই। ডাক্তাররা বলেছেন, তিন মাস অন্তর আমার কোমরে দুটি অপারেশন করতে হবে। ঢাকার পঙ্গু হাসাপাতালে এর ব্যবস্থা আছে। তবে অনেক টাকার দরকার। নানা খরচসহ প্রায় চার লাখ টাকা। আমার আব্বার সেই সামর্থ্য নেই।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মানবতার মায়ের স্নেহের হাতটি কি আমার অসহায় বাবার প্রতি বাড়াবেন? আপনার মানবতার পরশে আর আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক মানুষ হব, দেশের একজন যোগ্য কর্মী করে তুলতে পারব নিজেকে- এই আশা করি সারাক্ষণ।

আপনার গুণমুগ, ইমন আলম, বাবা: বদিউল আলম (বাহার মাস্টার), গ্রাম: চান্দপুর, পোস্ট: পাঘাচং

উপজেলা-জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রীকে ইমনের খোলা চিঠি

আপডেট টাইম : ০৬:১৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোটবেলায় স্কুল আর ছোটাছুটিতে ব্যস্ত থাকত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু ইমন আলম। বিভিন্ন চিকিৎসকের চিকিৎসা শেষে জানা গেল জুবেনাইল আইডিওপেডিক আরথাইটিস রোগে আক্রান্ত সে। দিনে দিনে তাকে কেবলই কাবু করেছে রোগটি। ইমন আলম এখন ২২ বছরের তরুণ। তার সুস্থ হওয়ার আকাঙ্খা আর ঘরবন্দি হয়ে থাকার কষ্টগুলো জানিয়ে ইমন আলম ‘মানবতার মা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি লিখেছেন। পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু তুলে দেয়া হলো।

মানবতার মা, আমি ইমন আলম। ক্রিকেট ভালোবাসি। স্কুলে যেতে ভালো লাগত। দলবেঁধে ঘুরতে ভালো লাগত। এখন তার কিছুই পারি না। অষ্টম শ্রেণিতে উঠে স্কুল ছাড়তে হয়। কারণ আমার কোমর দাঁড়াতে দেয় না আমাকে। জুবেনাইল আইডিওপেডিক আরথাইটিস রোগে আক্রান্ত আমি।

এখন আমার সঙ্গী বিছানা। শুয়ে শুয়ে বই পড়ি। মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধু-মনীষীদের বই। কত স্বপ্ন তৈরি হয় মনে। এবারের নির্বাচনে যখন আমার বন্ধু ও গ্রামের ছেলেরা আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে উত্তুঙ্গ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে যায়, আমারও ইচ্ছে হতো, আহা যদি যেতে পারতাম মিছিলে। এত কষ্ট লাগত তখন! এ রকমই উত্তাল ছিল ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনে, আমার স্কুলশিক্ষক বাবার কাছে শুনেছি। বইয়ে পড়েছি।

তবে মিছিলে না যাওয়ার কষ্ট কিছু দূর হয়, যখন আব্বার সাহায্যে আমার স্কুলের কেন্দ্রে গিয়ে জীবনের প্রথম ভোটটি নৌকা মার্কায় দিতে পেরেছি।

আমার চাচা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে বিদ্রোহ করেন যশোর সেনানিবাসে। সেখানেই যুদ্ধ করে শহীদ হন তিনি। আমার দাদি ও আব্বার কাছে কত গল্প শুনেছি চাচাকে নিয়ে। আমি শহীদ পরিবারের সদস্য-এটা আমার এক বড় গর্ব।

আমার দাদি শহীদ চাচার পেনশনের সামান্য টাকাটা আমার জন্য খরচ করতেন। দাদি মারা গেছেন ২০১৫ সালে। কিন্তু আমি কারও জন্য কিংবা দেশের জন্য কিছু করতে পারি না। এটা আমাকে কুঞ্চিত করে সব সময়।

দিনের বেশির ভাগ সময় শুয়ে শুয়ে টিভিতে-জননেত্রী, আপনাকে দেখি দেশের উন্নয়নে ছুটে বেড়াতে। বঙ্গবন্ধুকে দেখি। আপনার আদরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে প্রায়ই দেখি। ভালো লাগে। এমন বয়সেই আমি অসুস্থ হতে থাকি। আপনি যখন রোহিঙ্গাদের বুকে টেনে নেন কিংবা আপনার সহায়তার হাত পেয়ে জেগে উঠেছে অনেকের মরে যাওয়া স্বপ্ন, তা দেখেও ভালো লাগে। ভালো লাগে আপনাকে যখন ডাকা হয় ‘মানবতার মা’।

আমি প্রায়ই অনুভব করি, আব্বার জন্য, আম্মার জন্য আমার অনেক মায়া হয়। সেই কবে থেকে (১৫ বছর ধরে) তারা আমাকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে। আমার চিকিৎসার পেছনে শেষ করেছেন সবকিছু। এর ওপর ২০১৩ সালে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসের সময় আমার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বাবার একমাত্র অবলম্বন দোকানটি আগুনে পুড়ে তাকে নিঃস্ব করে দেয়। তার ১৫ দিন পর ভয়াবহ টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্ত করে বাড়িঘর। মাননীয় এমপি মহোদয় উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী চাচা তখন বাবাকে সাহায্য করেন।

সেবারই ধরা পড়ে আমার কোমরের জয়েন্টে একটা হাড় ক্ষয়ে গেছে। অপারেশন করালে আমি ভালো হয়ে যাব। কিন্তু আব্বার সেই সামর্থ্য কোথায় যে অপারেশন করাবেন! বড় বোন এলিজা আপনার সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন (২০১৩ সালে), সেটি বোধ হয় তখন আর পৌঁছায়নি।

এখন শুনছি কোমরের আরও একটি হাড় ক্ষয়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন না করালে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে আমাকে। আব্বা-আম্মার অসহায় আলোচনা থেকে বুঝতে পারি তারা অথই সাগরে পড়েছেন। এমনিতেই তারা আমাকে নিয়ে কী কষ্টটাই না করছেন! এত বড় ছেলের খাবার-গোসল থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কর্ম আমার আম্মাকে একা করতে হয়।

অথচ আমি যখন সুস্থ ছিলাম, সেই বালকবেলায় ছোট ছোট পায়ে কত ফুটবল-ক্রিকেট খেলেছি, দৌড়েছি, স্কুলে গিয়েছি। আম্মার এটা-সেটা আনতে বাজারে দৌড়ে গেছি। কত বন্ধু ছিল আমার। তারা এখনো আছে, মাঝে মাঝে এসে আমার বিছানার পাশে বসে, আমাকে উঠে বসতে সাহায্য করে। গল্প করে। কিন্তু আমি এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাইরে গিয়ে হাঁটতে-দৌড়াতে পারি না।

আমি আবার সবার মতো সুস্থ হতে চাই। ডাক্তাররা বলেছেন, তিন মাস অন্তর আমার কোমরে দুটি অপারেশন করতে হবে। ঢাকার পঙ্গু হাসাপাতালে এর ব্যবস্থা আছে। তবে অনেক টাকার দরকার। নানা খরচসহ প্রায় চার লাখ টাকা। আমার আব্বার সেই সামর্থ্য নেই।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মানবতার মায়ের স্নেহের হাতটি কি আমার অসহায় বাবার প্রতি বাড়াবেন? আপনার মানবতার পরশে আর আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক মানুষ হব, দেশের একজন যোগ্য কর্মী করে তুলতে পারব নিজেকে- এই আশা করি সারাক্ষণ।

আপনার গুণমুগ, ইমন আলম, বাবা: বদিউল আলম (বাহার মাস্টার), গ্রাম: চান্দপুর, পোস্ট: পাঘাচং

উপজেলা-জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া