ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নবীজির (সা.) সৌন্দর্য সম্পর্কে সাহাবাদের পাঁচ বর্ণনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮
  • ৩৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বকালের সকল মানুষের জন্যই অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। মানবীয় চরিত্রের সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার সামঞ্জস্যে তিনি ছিলেন এক অসামান্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

একইসাথে তার দৈহিক সৌন্দর্যও ছিল সকলের কাছে অনন্য আকর্ষণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবী কবি হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে তার এক কবিতায় বলেন,

“আমার চোখ আপনার চেয়ে

যথাযথ কাউকে দেখেনি,

কোন নারীই জন্ম দেয়নি

আপনার চেয়ে সুপুরষ

আপনার সৃষ্টি যেন

সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত –

যেন আপনার ইচ্ছার অনুরূপ

আপনি সৃষ্ট।”

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে বিভিন্ন বিবরণ আমরা হাদীসগ্রন্থ এবং তার জীবনি থেকে পাই। তন্মধ্য থেকে এখানে তার সৌন্দর্য সম্পর্কে পাঁচটি বর্ণনা উল্লেখ করা হল।

১. যেন রূপায় মোড়ানো অবয়ব

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত,

“আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতই পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ, সুন্দর এবং সুপুরষ ছিলেন, যেন তার শরীর ছিল রূপায় মোড়ানো। তার চুল ছিল হালকা কোঁকড়ানো।”

২. পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও সুন্দর 

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,

“আমি একবার আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) কে এক পূর্ণিমার রাতে দেখেছিলাম। সে রাতে তিনি লাল ডোরাকাটা একটি জামা পড়েছিলেন। আমি একবার পূর্ণিমার চাঁদ, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দিকে তাকাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি সিদ্ধান্তে এলাম, আল্লাহর রাসুলুল্লাহ পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদের থেকেও বেশী সুন্দর এবং উজ্জ্বল।”

৩. নিখুঁত ও যথাযথ শারীরিক গঠন

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত,

“রাসূলুল্লাহ (সা.) খুব লম্বাও নন বা খুব খাটোও ছিলেন না। রঙের দিক থেকে তিনি অধিক সাদাও ছিলেন না বা অধিক কালোও ছিলেন না (বরং উজ্জ্বল ছিলেন)।”

৪. সুন্দরতম ব্যক্তি

বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন,

“রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মধ্যমাকৃতির একজন মানুষ (হালকা লম্বা); তার ছিল চওড়া কাঁধ, কানের লতি পর্যন্ত ঘন চুল; যখন তিনি লাল ডোরাকাটা জামা পড়তেন, আমার তখন কিছুই তার থেকে অধিক সুন্দরতর মনে হতোনা।”

৫. সূর্যালোকিত মুখ

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন,

“আমি এমন কোন ব্যক্তি দেখিনি, যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর তুলনায় সুপুরুষ। যেন তার পবিত্র চেহারা সূর্যের মত চমকাতো। আমি তার তুলনায় দ্রুত হাঁটতে কাউকে দেখিনি, যেনো পৃথিবীকে তার জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষন পূর্বেই তিনি এক জায়গায় ছিলেন, পরের মূহুর্তে তিনি অনত্র চলে গিয়েছেন। আমরা তার সাথে হাটলে তার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হয়ে যেত।”

উপরের সবগুলো বর্ণনা সহীহ তিরমিযি থেকে সংগ্রহিত। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে হাদীসের বিভিন্ন স্থানে বিপুল বর্ণনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীজির (সা.) সৌন্দর্য সম্পর্কে সাহাবাদের পাঁচ বর্ণনা

আপডেট টাইম : ০৪:০২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বকালের সকল মানুষের জন্যই অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। মানবীয় চরিত্রের সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার সামঞ্জস্যে তিনি ছিলেন এক অসামান্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

একইসাথে তার দৈহিক সৌন্দর্যও ছিল সকলের কাছে অনন্য আকর্ষণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবী কবি হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে তার এক কবিতায় বলেন,

“আমার চোখ আপনার চেয়ে

যথাযথ কাউকে দেখেনি,

কোন নারীই জন্ম দেয়নি

আপনার চেয়ে সুপুরষ

আপনার সৃষ্টি যেন

সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত –

যেন আপনার ইচ্ছার অনুরূপ

আপনি সৃষ্ট।”

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে বিভিন্ন বিবরণ আমরা হাদীসগ্রন্থ এবং তার জীবনি থেকে পাই। তন্মধ্য থেকে এখানে তার সৌন্দর্য সম্পর্কে পাঁচটি বর্ণনা উল্লেখ করা হল।

১. যেন রূপায় মোড়ানো অবয়ব

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত,

“আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতই পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ, সুন্দর এবং সুপুরষ ছিলেন, যেন তার শরীর ছিল রূপায় মোড়ানো। তার চুল ছিল হালকা কোঁকড়ানো।”

২. পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও সুন্দর 

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,

“আমি একবার আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) কে এক পূর্ণিমার রাতে দেখেছিলাম। সে রাতে তিনি লাল ডোরাকাটা একটি জামা পড়েছিলেন। আমি একবার পূর্ণিমার চাঁদ, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দিকে তাকাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি সিদ্ধান্তে এলাম, আল্লাহর রাসুলুল্লাহ পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদের থেকেও বেশী সুন্দর এবং উজ্জ্বল।”

৩. নিখুঁত ও যথাযথ শারীরিক গঠন

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত,

“রাসূলুল্লাহ (সা.) খুব লম্বাও নন বা খুব খাটোও ছিলেন না। রঙের দিক থেকে তিনি অধিক সাদাও ছিলেন না বা অধিক কালোও ছিলেন না (বরং উজ্জ্বল ছিলেন)।”

৪. সুন্দরতম ব্যক্তি

বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন,

“রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মধ্যমাকৃতির একজন মানুষ (হালকা লম্বা); তার ছিল চওড়া কাঁধ, কানের লতি পর্যন্ত ঘন চুল; যখন তিনি লাল ডোরাকাটা জামা পড়তেন, আমার তখন কিছুই তার থেকে অধিক সুন্দরতর মনে হতোনা।”

৫. সূর্যালোকিত মুখ

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন,

“আমি এমন কোন ব্যক্তি দেখিনি, যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর তুলনায় সুপুরুষ। যেন তার পবিত্র চেহারা সূর্যের মত চমকাতো। আমি তার তুলনায় দ্রুত হাঁটতে কাউকে দেখিনি, যেনো পৃথিবীকে তার জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষন পূর্বেই তিনি এক জায়গায় ছিলেন, পরের মূহুর্তে তিনি অনত্র চলে গিয়েছেন। আমরা তার সাথে হাটলে তার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হয়ে যেত।”

উপরের সবগুলো বর্ণনা সহীহ তিরমিযি থেকে সংগ্রহিত। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সৌন্দর্য সম্পর্কে হাদীসের বিভিন্ন স্থানে বিপুল বর্ণনা রয়েছে।