ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি বাতিলের দাবি মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের দাবিতে ভিকারুননিসা অ্যালামনাইয়ের ব্যাখ্যা যে ৭ সবজি অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে যে পাঁচটি সিনেমা ভ্রমণপিপাসুদের অবশ্যই দেখা উচিত সৌদিতে মিসাইল হামলায় দগ্ধ প্রবাসী মামুনের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা রাজধানী দেশে প্রথমবারের মতো চালু পেট অ্যাম্বুলেন্স, নেটিজেনদের প্রশংসা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নুতন এআই টুল আনছে মেটা

গলায় ফাঁস দিয়ে ইবি এক শিক্ষার্থে আত্মহত্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:১২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮
  • ৪২৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গলায় ফাঁস দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নম্বর কক্ষে গলায় দড়ি দেয়। নাজমুল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারাত গ্রামের আব্দুল মালেক গাজীর ছোট ছেলে। জানা যায়, গলায় ফাঁস নেওয়ার আগে তার বন্ধু নাদিমকে মুঠোফোনে রুমে আসতে বলেন। এর আধা ঘন্টার মাথায় নাদিম রুমে এসে ফ্যান লাগানোর রডের সঙ্গে নাজমুলের দেহ ঝুলে থাকতে দেখে। তাতক্ষণিক দড়জা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধর করে বিশবিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় তার সহপাঠিরা। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুলের ঘনিষ্ট বন্ধু ও বড় ভাইদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রুমে ফিরেন তিনি। এরপরেই হতাশার কাছে হার মেনে নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয় নাজমুল। ভবিষ্যতে পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন বুনছিলেন নাজমুল। স্বপ্ন পূরণে ২য় বর্ষ থেকেই বিসিএস প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বিভাগে ভাল অবস্থানে ছিলেন তিনি। কিন্তু অসুস্থতা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তাকে গ্রাস করতে থাকে দিনের পর দিন। বিভিন্ন সময় ঘনিষ্ট জনদের কাছে হতাশার কথা ব্যক্ত করতেন। সকলে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন। বন্ধুরাও সবসময় কাছে কাছে রাখতেন।

নাজমুল গলায় ফাঁস দেওয়ার দুই ঘন্টা আগে তার ফেসবুক আইডিতে ‘একটা রিক্সা চাই শৈশব ও কৈশোর ফিরে যাওয়ার জন্য’ লিখে স্টাটাস দেয়। তার সাজানো গোছানো পড়ার টেবিলের উপরে পরে থাকতে দেখায় যায় বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ। তার পাশেই ছোট একটি কাগজে ঔষধ গ্রহণের সময় লিখে রাখা। এতে সকাল ও রাতে ৬টি করে ঔষধ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা রয়েছে। পাশে পরে থাকা ডায়রিতে সর্বশেষ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে তার প্রিয়সীকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে ঘর সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।

বিশবিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘তার অবিভাবককে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আত্মহত্যা। লাস কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে লাস হস্তান্তর করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য

গলায় ফাঁস দিয়ে ইবি এক শিক্ষার্থে আত্মহত্যা

আপডেট টাইম : ০৫:১২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গলায় ফাঁস দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯ নম্বর কক্ষে গলায় দড়ি দেয়। নাজমুল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারাত গ্রামের আব্দুল মালেক গাজীর ছোট ছেলে। জানা যায়, গলায় ফাঁস নেওয়ার আগে তার বন্ধু নাদিমকে মুঠোফোনে রুমে আসতে বলেন। এর আধা ঘন্টার মাথায় নাদিম রুমে এসে ফ্যান লাগানোর রডের সঙ্গে নাজমুলের দেহ ঝুলে থাকতে দেখে। তাতক্ষণিক দড়জা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধর করে বিশবিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় তার সহপাঠিরা। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুলের ঘনিষ্ট বন্ধু ও বড় ভাইদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রুমে ফিরেন তিনি। এরপরেই হতাশার কাছে হার মেনে নিজের জীবনকে বিসর্জন দেয় নাজমুল। ভবিষ্যতে পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন বুনছিলেন নাজমুল। স্বপ্ন পূরণে ২য় বর্ষ থেকেই বিসিএস প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বিভাগে ভাল অবস্থানে ছিলেন তিনি। কিন্তু অসুস্থতা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তাকে গ্রাস করতে থাকে দিনের পর দিন। বিভিন্ন সময় ঘনিষ্ট জনদের কাছে হতাশার কথা ব্যক্ত করতেন। সকলে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন। বন্ধুরাও সবসময় কাছে কাছে রাখতেন।

নাজমুল গলায় ফাঁস দেওয়ার দুই ঘন্টা আগে তার ফেসবুক আইডিতে ‘একটা রিক্সা চাই শৈশব ও কৈশোর ফিরে যাওয়ার জন্য’ লিখে স্টাটাস দেয়। তার সাজানো গোছানো পড়ার টেবিলের উপরে পরে থাকতে দেখায় যায় বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ। তার পাশেই ছোট একটি কাগজে ঔষধ গ্রহণের সময় লিখে রাখা। এতে সকাল ও রাতে ৬টি করে ঔষধ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা রয়েছে। পাশে পরে থাকা ডায়রিতে সর্বশেষ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে তার প্রিয়সীকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে ঘর সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।

বিশবিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘তার অবিভাবককে খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আত্মহত্যা। লাস কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে লাস হস্তান্তর করা হবে।