ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আসছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৫৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষজনক পরিবর্তন এসেছে, তবে জনগণ আইন পরিপূর্ণভাবে মানলে এ পরিবর্তনের হার আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে আগের চেয়ে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর রাস্তায় থাকতে হয় না। তবে রাস্তায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও খোঁড়াখুড়ির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হয়।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এতে অর্জন অনেক। বর্তমানে আগের মতো সিগন্যালগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। কিছু সময় পরপর সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর নেই বললেই চলে। কিছু গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে আবার কিছু মালিক ভয়ে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না। আগে ভয়াবহ যে প্রতিযোগিতা চলছিল বাসের চালকদের মধ্যে সেটি এখন কমে গেছে। চালকদের সচেতন করার মধ্য দিয়ে এটি সম্ভব হয়েছে। চালক-হেলপারদের পাশাপাশি যাত্রীরাও অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন।’

‘প্রাইভেট গাড়িগুলোতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে পণ্য পরিবহন করা হয় সেটিতেও পরিবর্তন এসেছে’, যোগ করেন ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সড়কে মোটরসাইকেল আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সবচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে। আগে যেখানে প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যেত, এখন সেই খবর নেই বলতে গেলে। দু-একটি দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার।’

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী উভয়েই এখন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চলাচল করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না, মামলা দেওয়া হবে এসব পদক্ষেপের কারণেই এই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এমনও দেখা যাচ্ছে, একজন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন, মাঝপথে থামিয়ে একজন উঠতে চাইলেন। সেক্ষেত্রে আরেকটি হেলমেট না থাকলে ওই ব্যক্তিকে তিনি আর নিতে পারছেন না। কারণ তাকে নিলে উল্টো মোটরসাইকেলওয়ালা ব্যক্তিই মামলা খাবেন। লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।’

ট্রাফিক সচেতনতার এই ১ মাসে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৫টি। এর বিপরীতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৪ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ১৩০ টাকা। এছাড়া ৫০ হাজারের মতো চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রায় ২ হাজারের মতো গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম আরও বলেন, ‘পথচারীদের মধ্যেও ব্যাপক সচেতনতা এসেছে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপারের পরিবর্তে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তা পার হলেও জেব্রা ক্রসিংও ব্যবহার করছেন পথচারী। তবে এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি গার্লস গাইড ও রোভার স্কাউটসের অবদান অনেক বেশি। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে নির্বোধ পথচারীদের বোধ তৈরির কাজ করেছে।’

কেন পথচারীদের ‘নির্বোধ’ বলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা কানে ফোন ধরে কথা বলতে বলতে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হয় তাদের নির্বোধ ছাড়া কি বলা যেতে পারে। যারা নিজের জীবনকেই তোয়াক্কা করে না তাদের আর কি বলা যেতে পারে। যারা চলন্ত গাড়িকে হাত দিয়ে থামাতে চায় তাদের কি বলা যাবে।’

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে তবে একটু সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শহরে অসংখ্য মানুষ, তার তুলনায় রাস্তা কম, আবার রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অধিক। সেই শহরে আইন মানাতেও একটু সময়ের দরকার হয়। মূল সড়কগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ আর ফিটনেসযুক্ত গাড়ি রাস্তায় থাকলেই একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিআরটিএ, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশন একযোগে কাজ করছে। ট্রাফিক সিগনাল আগে সিটি করপোরেশনের হাতে থাকলেও তা ডিএমপির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এটি হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে।’

মীর রেজাউল আলম আরও বলেন, ‘বিকেলে সব অফিস এক সঙ্গে ছুটি হওয়ায় সমস্ত গাড়ি রাস্তায় নেমে আসে একযোগে। তাই বিকেল ৫টার পর রাস্তায় গাড়ি আর গাড়ি দেখা যায়। তবে বর্তমানে গাড়িগুলি থেমে থাকার মতো দেখা গেলেও আসলে ধীরে ধীরে চলে। যা দূর থেকে চলন্ত মনে হয় না। আবার রাত ৮টার মধ্যেই সব রাস্তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান, নীলক্ষেত মোড়, শাহবাগ, বাংলামোটর, মগবাজার ও কাকরাইল মোড় ঘুরে দেখা যায়, সিগন্যালগুলোতে আগের মতো গাড়ির চাপ নেই। একটু সময় পরপর সিগন্যাল ছাড়ছে।

কারওয়ান বাজার মোড়ে বেলা আড়াইটার দিকে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল রহমত আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশের কারণে একটু চাপ ছিল। আজ নিজেই দেখতে পাচ্ছেন, গাড়ির চাপ নেই।’

বাংলামোটরেও বিকেল ৩টায় একই চিত্র দেখা গেছে। একটু সময় পরপর সিগন্যাল ছাড়ছে। আগের মতো পথচারীরা যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন না। ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে। কাকরাইলে সার্জেন্ট খলিলুর রহমান বলেন, ‘গাড়ির চাপ নেই কারণ সবাই সচেতন হচ্ছে। যত্রতত্র গাড়ি রাখছে না। সবাই আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন।’

গুলিস্তানে মতিঝিল টু সাভার রুটে চলাচলকারী ওয়েলকাম পরিবহনের চালক সুজন কুমার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগে গাবতলী থেকে মতিঝিল আসতে যে সময় লাগত তার চেয়ে অনেক কম সময়ে আজ (২ অক্টোবর) আসতে পেরেছি। যাত্রীও অনেক পেয়েছি। তাড়াতাড়ি আসায় যাত্রীরাও খুশি।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সিগন্যালগুলো তাড়াতাড়ি ছেড়েছে।’ এমন ট্রাফিক ব্যবস্থাই তিনি সবসময় দেখতে চান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আসছে

আপডেট টাইম : ১২:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষজনক পরিবর্তন এসেছে, তবে জনগণ আইন পরিপূর্ণভাবে মানলে এ পরিবর্তনের হার আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে আগের চেয়ে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর রাস্তায় থাকতে হয় না। তবে রাস্তায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও খোঁড়াখুড়ির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হয়।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এতে অর্জন অনেক। বর্তমানে আগের মতো সিগন্যালগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। কিছু সময় পরপর সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর নেই বললেই চলে। কিছু গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে আবার কিছু মালিক ভয়ে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না। আগে ভয়াবহ যে প্রতিযোগিতা চলছিল বাসের চালকদের মধ্যে সেটি এখন কমে গেছে। চালকদের সচেতন করার মধ্য দিয়ে এটি সম্ভব হয়েছে। চালক-হেলপারদের পাশাপাশি যাত্রীরাও অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন।’

‘প্রাইভেট গাড়িগুলোতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে পণ্য পরিবহন করা হয় সেটিতেও পরিবর্তন এসেছে’, যোগ করেন ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘সড়কে মোটরসাইকেল আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সবচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে। আগে যেখানে প্রায় প্রতিদিনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যেত, এখন সেই খবর নেই বলতে গেলে। দু-একটি দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার।’

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী উভয়েই এখন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চলাচল করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না, মামলা দেওয়া হবে এসব পদক্ষেপের কারণেই এই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এমনও দেখা যাচ্ছে, একজন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন, মাঝপথে থামিয়ে একজন উঠতে চাইলেন। সেক্ষেত্রে আরেকটি হেলমেট না থাকলে ওই ব্যক্তিকে তিনি আর নিতে পারছেন না। কারণ তাকে নিলে উল্টো মোটরসাইকেলওয়ালা ব্যক্তিই মামলা খাবেন। লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।’

ট্রাফিক সচেতনতার এই ১ মাসে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৫টি। এর বিপরীতে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৪ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ১৩০ টাকা। এছাড়া ৫০ হাজারের মতো চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রায় ২ হাজারের মতো গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম আরও বলেন, ‘পথচারীদের মধ্যেও ব্যাপক সচেতনতা এসেছে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপারের পরিবর্তে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তা পার হলেও জেব্রা ক্রসিংও ব্যবহার করছেন পথচারী। তবে এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি গার্লস গাইড ও রোভার স্কাউটসের অবদান অনেক বেশি। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে নির্বোধ পথচারীদের বোধ তৈরির কাজ করেছে।’

কেন পথচারীদের ‘নির্বোধ’ বলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা কানে ফোন ধরে কথা বলতে বলতে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হয় তাদের নির্বোধ ছাড়া কি বলা যেতে পারে। যারা নিজের জীবনকেই তোয়াক্কা করে না তাদের আর কি বলা যেতে পারে। যারা চলন্ত গাড়িকে হাত দিয়ে থামাতে চায় তাদের কি বলা যাবে।’

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে তবে একটু সময় লাগবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শহরে অসংখ্য মানুষ, তার তুলনায় রাস্তা কম, আবার রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অধিক। সেই শহরে আইন মানাতেও একটু সময়ের দরকার হয়। মূল সড়কগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ আর ফিটনেসযুক্ত গাড়ি রাস্তায় থাকলেই একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিআরটিএ, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশন একযোগে কাজ করছে। ট্রাফিক সিগনাল আগে সিটি করপোরেশনের হাতে থাকলেও তা ডিএমপির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এটি হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে।’

মীর রেজাউল আলম আরও বলেন, ‘বিকেলে সব অফিস এক সঙ্গে ছুটি হওয়ায় সমস্ত গাড়ি রাস্তায় নেমে আসে একযোগে। তাই বিকেল ৫টার পর রাস্তায় গাড়ি আর গাড়ি দেখা যায়। তবে বর্তমানে গাড়িগুলি থেমে থাকার মতো দেখা গেলেও আসলে ধীরে ধীরে চলে। যা দূর থেকে চলন্ত মনে হয় না। আবার রাত ৮টার মধ্যেই সব রাস্তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান, নীলক্ষেত মোড়, শাহবাগ, বাংলামোটর, মগবাজার ও কাকরাইল মোড় ঘুরে দেখা যায়, সিগন্যালগুলোতে আগের মতো গাড়ির চাপ নেই। একটু সময় পরপর সিগন্যাল ছাড়ছে।

কারওয়ান বাজার মোড়ে বেলা আড়াইটার দিকে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল রহমত আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশের কারণে একটু চাপ ছিল। আজ নিজেই দেখতে পাচ্ছেন, গাড়ির চাপ নেই।’

বাংলামোটরেও বিকেল ৩টায় একই চিত্র দেখা গেছে। একটু সময় পরপর সিগন্যাল ছাড়ছে। আগের মতো পথচারীরা যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন না। ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে। কাকরাইলে সার্জেন্ট খলিলুর রহমান বলেন, ‘গাড়ির চাপ নেই কারণ সবাই সচেতন হচ্ছে। যত্রতত্র গাড়ি রাখছে না। সবাই আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন।’

গুলিস্তানে মতিঝিল টু সাভার রুটে চলাচলকারী ওয়েলকাম পরিবহনের চালক সুজন কুমার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগে গাবতলী থেকে মতিঝিল আসতে যে সময় লাগত তার চেয়ে অনেক কম সময়ে আজ (২ অক্টোবর) আসতে পেরেছি। যাত্রীও অনেক পেয়েছি। তাড়াতাড়ি আসায় যাত্রীরাও খুশি।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সিগন্যালগুলো তাড়াতাড়ি ছেড়েছে।’ এমন ট্রাফিক ব্যবস্থাই তিনি সবসময় দেখতে চান তিনি।