ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’

পাট চাষে লাভের মুখ দেখছে কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর ২০১৮
  • ৪৪৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যশোরের ঝিকরগাছায় চলতি মৌসুমে পাটচাষ খরার কবলে পড়লেও দীর্ঘদিন পর লাভের মুখ দেখছে কৃষক। আশানুরূপ দাম পাওয়ায় পাট চাষির মুখে হাসির ঝিলিক। চাষিদের দাবি, দাম থাকায় অন্তত সাত-আট বছর পর তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় এ বছর পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে চার হাজার হেক্টর জমিতে। বছর বছর টানা লোকসানের কারণে দিন দিন পাটচাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। বিশেষ করে যখন পাট কৃষকের ঘরে থাকে, তখন পানির দামে বিক্রি করতে হয় এই কৃষিপণ্য। ফলে সোনালি আঁশ কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এবার এখনো যে দামে পাট কেনাবেচা হচ্ছে তাতে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের আজিজুর রহমান জানান, তিনি এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ পেয়েছেন। গত বছর তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করে গচ্চা খাওয়ায় এ বছর কম করে চাষ করেছিলেন। এবার আড়াই বিঘা জমির মধ্যে তাঁর ১০ কাঠা বেলে জমির পাট নষ্ট হয়েছে খরার কারণে। তারপরও সব মিলিয়ে ২৪ মণ পাট পেয়েছেন তিনি।

আজিজুর রহমান কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে সারিবদ্ধভাবে পাট লাগানোর কারণে খরচ কম ও ফলনও তুলনামূলক বেশি পেয়েছেন। প্রথম ১০ মণ পাট বিক্রি করেছেন এক হাজার ৬৫০ টাকা মণ দরে। গত সোমবার আরো কিছু পাট বিক্রি করেছেন এক হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে। পাটখড়ি (পাটকাঠি) বিক্রি করেছেন ৩০-৩৫ টাকা আটি (গল্লা)।

একই গ্রামের মিন্টু হোসেন বলেন, গত সাত-আট বছর পর পাটচাষে লাভের মুখ দেখল কৃষক। এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ২২ মণ ফলন পেয়েছেন। তিনিও কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে সিডার মেশিন দিয়ে সারিবদ্ধভাবে পাট লাগিয়েছিলেন। ফলে আগাছা কম হওয়ায় এবং বাতাস সহজে ক্ষেতে প্রবেশ করতে পারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় চাষে খরচও কম হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।

মিন্টু হোসেন আরো জানান, তিনি এ বছর পাট বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৬০০ টাকা মণ দরে। তাঁর দাবি, গত বছরও এ সময় পাটের দাম ছিল ৭০০-৮০০ টাকা মণ।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ দীপঙ্কর দাস জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাটের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং দাম আশানুরূপ থাকায় কৃষক লাভবান হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি

পাট চাষে লাভের মুখ দেখছে কৃষক

আপডেট টাইম : ১০:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যশোরের ঝিকরগাছায় চলতি মৌসুমে পাটচাষ খরার কবলে পড়লেও দীর্ঘদিন পর লাভের মুখ দেখছে কৃষক। আশানুরূপ দাম পাওয়ায় পাট চাষির মুখে হাসির ঝিলিক। চাষিদের দাবি, দাম থাকায় অন্তত সাত-আট বছর পর তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় এ বছর পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে চার হাজার হেক্টর জমিতে। বছর বছর টানা লোকসানের কারণে দিন দিন পাটচাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। বিশেষ করে যখন পাট কৃষকের ঘরে থাকে, তখন পানির দামে বিক্রি করতে হয় এই কৃষিপণ্য। ফলে সোনালি আঁশ কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এবার এখনো যে দামে পাট কেনাবেচা হচ্ছে তাতে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের আজিজুর রহমান জানান, তিনি এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ পেয়েছেন। গত বছর তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করে গচ্চা খাওয়ায় এ বছর কম করে চাষ করেছিলেন। এবার আড়াই বিঘা জমির মধ্যে তাঁর ১০ কাঠা বেলে জমির পাট নষ্ট হয়েছে খরার কারণে। তারপরও সব মিলিয়ে ২৪ মণ পাট পেয়েছেন তিনি।

আজিজুর রহমান কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে সারিবদ্ধভাবে পাট লাগানোর কারণে খরচ কম ও ফলনও তুলনামূলক বেশি পেয়েছেন। প্রথম ১০ মণ পাট বিক্রি করেছেন এক হাজার ৬৫০ টাকা মণ দরে। গত সোমবার আরো কিছু পাট বিক্রি করেছেন এক হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে। পাটখড়ি (পাটকাঠি) বিক্রি করেছেন ৩০-৩৫ টাকা আটি (গল্লা)।

একই গ্রামের মিন্টু হোসেন বলেন, গত সাত-আট বছর পর পাটচাষে লাভের মুখ দেখল কৃষক। এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ২২ মণ ফলন পেয়েছেন। তিনিও কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে সিডার মেশিন দিয়ে সারিবদ্ধভাবে পাট লাগিয়েছিলেন। ফলে আগাছা কম হওয়ায় এবং বাতাস সহজে ক্ষেতে প্রবেশ করতে পারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় চাষে খরচও কম হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।

মিন্টু হোসেন আরো জানান, তিনি এ বছর পাট বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৬০০ টাকা মণ দরে। তাঁর দাবি, গত বছরও এ সময় পাটের দাম ছিল ৭০০-৮০০ টাকা মণ।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ দীপঙ্কর দাস জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাটের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং দাম আশানুরূপ থাকায় কৃষক লাভবান হচ্ছে।