হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। কোন্দল, দলাদলি ভুলে নৌকা মার্কার পক্ষে সবাইকে এক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সমাবেশের পর নেতাদের এই নির্দেশনা দিয়ে যান তিনি।
গতকাল (৩১ জানুয়ারি) সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এ সব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, দলের ভেতরে যেসব বিভেদ, কোন্দল, দলাদলি রয়েছে সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে অনেকটা মিটমাট হয়ে গেছে। এখন শুধু আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সকল পর্যায়ের নেতাদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার কাজ চালাবেন তারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র গঠিত কমিটির নেতারা সিলেটে এলে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে দলের পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলেও তারা জানান।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে। আর এখন সিলেট আওয়ামী লীগের টার্গেট হচ্ছে নিজ দলের প্রার্থীকে জয়ী করা। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে দুটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক প্রস্তুতি নিতে দলের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিগত ৯ বছরে সিলেট বিভাগ জুড়ে যে উন্নয়ন চালিয়েছে তার বিস্তারিত জনগণের মধ্যে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি এমপিদের আরো বেশি জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার পরামর্শও দেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ গত বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসে আগামী সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সাথে জনগণের জানমালের ক্ষতি যারা করতে চায় তাদেরও মোকাবিলা করার কথা বলেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সিলেটে এমপিদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। এমপিদের আরো বেশি জনগণের কাছাকাছি গিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষের কাছে প্রচারেরও নির্দেশ দেন।’
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগরের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা নেত্রীর কাছ থেকে মিলেছে। আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে নামার কথা বলে গেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতে, তারা প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানান কামরান।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ভাষণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ফোরলেনে পরিণত করার কথা বলেছেন। সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন। দুটি মেগা প্রকল্প এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আ’লীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী আগেই এ দুটি প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে সিলেট-আখাউড়া ডাবল রেললাইনের প্রকল্পটি চীনের সঙ্গে চুক্তিতে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ওই প্রকল্প চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। আর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে রানওয়ে শক্তি বৃদ্ধির জন্য ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ছাড় দেয়া হয়েছে। এ কাজ শুরু হবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে।
এদিকে, সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সমাবেশে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যাচার ও অপপ্রচারমূলক বক্তব্যেরও নিন্দা জানান তারা।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গদি দখল করে থাকা সরকারের কাছ থেকে মিথ্যার ফুলঝুরি ছাড়া সিলেটবাসী আর কিছুই পায়নি।’
গতকাল (৩১ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘সিলেট বিভাগের উন্নয়নের রূপকার প্রয়াত সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পুরোটাই সিলেট বিদ্বেষী। সিলেটবাসী এই মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সিলেটে স্বাধীনতার পর যে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে তা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এবং সাইফুর রহমানের হাত দিয়ে। সাইফুর রহমানকে অস্বীকার মানে সিলেটকে অস্বীকার।
Reporter Name 






















