ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি সেতুর জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৪৫২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নে মাত্র ৭৫ ফুট একটি সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিশাখালি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন মল্লিকপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েক শত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন ও লোহাগড়া পৌরসভার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা নদী , যা এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। এ খালের এক পাড়ে রয়েছে মল্লিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং অপর পাড়ে রয়েছে পার-মল্লিকপুরসহ লোহাগড়া পৌরসভার খলিশাখালী, গোপিনাথপু ও রাজুপুর গ্রাম।

নবগঙ্গা খালের পাড়েই রয়েছে, মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কওমী মাদরাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী, ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নবগঙ্গা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। ঝুঁকি পূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে সাহস পায়না কোন গর্ভবতী ও প্রসুতি মহিলারা। সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায়না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রায়ই শিক্ষার্থী ও পথচারিরা সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

খালের পাড়ে বসবাসকারী খলিশাখালি গ্রামের  জিল্লুর রহমান জানান, প্রতি বছরই সাঁকো থেকে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী নিচে পড়ে যায় যা আমরা উদ্ধার করি।

চরমল্লিকপুর গ্রামের গোলাম রসুল মোল্লা ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, জন প্রতিনিধিরা আমাদের বার বার এখানে সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি ।

চরমল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না খানম বলেন, সাঁকোর অপর পাড়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর শতাধিক ছাত্রছাত্রী। এখানে একটি সেতু হলে ছাত্র সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি টিফিনের সময় বাড়ি থেকে সহজে খেয়ে আসতে পারতো। দ্রুত একটি সেতু নির্মানের দাবি করেন তিনি।

চরমল্লিকপুর কওমি মাদরাসার শিক্ষক আবু তালহা জানান, আমার ১৫০ জন ছাত্র অপর পাড়ে লজিং থাকে তারা সারা বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আসা যাওয়া করে।

মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তহমিনা খন্দকার বলেন, স্কুলগামী অনেক শিশু ছাত্র বড়দের হাত ধরে পার হওয়ার জন্য সাঁকোর কাছে দাঁড়িয়ে থাকে কেউ আসলে পার হয়।

তিনি আরো জানান,  প্রতি বছর বাশেঁর সাঁকোটি,  ছাত্র অভিভাবক ও আমরা যারা নিয়মিত যাতায়াত করি তাদের অর্থ দিয়ে নির্মান করা হয়।

মল্লিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, আমার ইউনিয়নের অনেক বসতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নবগঙ্গা নদীর উভয় পাড়ে অবস্থিত। ফলে একটি সেতুর অভাবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্ব্য সেবা, শিক্ষা এবং আইন শৃংখলা বজায় রাখা আমার পক্ষে খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে । যত দ্রুত সম্ভব খলিশাখালি মল্লিকপুর এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিকট জোর দাবি যানাচ্ছি।

লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু বলেন, এলাকাবাসী খলিশাখালি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মানের জন্য দির্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি সেতুর জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়

আপডেট টাইম : ০৩:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নে মাত্র ৭৫ ফুট একটি সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খলিশাখালি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন মল্লিকপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েক শত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন ও লোহাগড়া পৌরসভার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা নদী , যা এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। এ খালের এক পাড়ে রয়েছে মল্লিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং অপর পাড়ে রয়েছে পার-মল্লিকপুরসহ লোহাগড়া পৌরসভার খলিশাখালী, গোপিনাথপু ও রাজুপুর গ্রাম।

নবগঙ্গা খালের পাড়েই রয়েছে, মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কওমী মাদরাসা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী, ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নবগঙ্গা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। ঝুঁকি পূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে সাহস পায়না কোন গর্ভবতী ও প্রসুতি মহিলারা। সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায়না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রায়ই শিক্ষার্থী ও পথচারিরা সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

খালের পাড়ে বসবাসকারী খলিশাখালি গ্রামের  জিল্লুর রহমান জানান, প্রতি বছরই সাঁকো থেকে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী নিচে পড়ে যায় যা আমরা উদ্ধার করি।

চরমল্লিকপুর গ্রামের গোলাম রসুল মোল্লা ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, জন প্রতিনিধিরা আমাদের বার বার এখানে সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি ।

চরমল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না খানম বলেন, সাঁকোর অপর পাড়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর শতাধিক ছাত্রছাত্রী। এখানে একটি সেতু হলে ছাত্র সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেত, তেমনি টিফিনের সময় বাড়ি থেকে সহজে খেয়ে আসতে পারতো। দ্রুত একটি সেতু নির্মানের দাবি করেন তিনি।

চরমল্লিকপুর কওমি মাদরাসার শিক্ষক আবু তালহা জানান, আমার ১৫০ জন ছাত্র অপর পাড়ে লজিং থাকে তারা সারা বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আসা যাওয়া করে।

মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তহমিনা খন্দকার বলেন, স্কুলগামী অনেক শিশু ছাত্র বড়দের হাত ধরে পার হওয়ার জন্য সাঁকোর কাছে দাঁড়িয়ে থাকে কেউ আসলে পার হয়।

তিনি আরো জানান,  প্রতি বছর বাশেঁর সাঁকোটি,  ছাত্র অভিভাবক ও আমরা যারা নিয়মিত যাতায়াত করি তাদের অর্থ দিয়ে নির্মান করা হয়।

মল্লিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, আমার ইউনিয়নের অনেক বসতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নবগঙ্গা নদীর উভয় পাড়ে অবস্থিত। ফলে একটি সেতুর অভাবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্ব্য সেবা, শিক্ষা এবং আইন শৃংখলা বজায় রাখা আমার পক্ষে খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে । যত দ্রুত সম্ভব খলিশাখালি মল্লিকপুর এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিকট জোর দাবি যানাচ্ছি।

লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু বলেন, এলাকাবাসী খলিশাখালি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মানের জন্য দির্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।