ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৩৩২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে নীলফামারী-৪ আসন গঠিত। সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন আসনটির অন্তর্ভুক্ত।

সৈয়দপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা (২০১৪ অনুযায়ী) এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৩৬ এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ জন। মোট দুই লাখ ৭৯ হাজার ১০২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ এবং নারী এক লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে একটি অংশ অবাঙালি (উর্দুভাষী) ভোটার রয়েছে আসনটিতে।

আসনটিতে বিগত ১০টি নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রথম ও নবম সংসদে, বিএনপি দ্বিতীয়, ষষ্ঠ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও অষ্টম সংসদে, জাপা (এ) তৃতীয়, সপ্তম, ও দশম সংসদে, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) পঞ্চম সংসদে (আওয়ামী লীগের সমর্থনে) এবং চতুর্থ সংসদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ আসনের বর্তমান এমপি ও বিরোধীদলীয় হুইপ জাতীয় পার্টির নীলফামারী জেলার আহ্বায়ক আলহাজ মো. শওকত চৌধুরী।

এবারের নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন মাঠে। তবে ওই মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকা ভারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। আওয়ামী লীগ-জাপা মহাজোটে আসন ভাগবাটোয়ারার ঝামেলা থাকলেও, এ ঝামেলা নেই বিএনপিতে। বিএনপি জোটের শরিক জামায়াতের কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী নেই সেখানে।

গত দুই ঈদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করে পোস্টার-ব্যানার সাটিয়েছেন, অনেকে বিলি করেছেন লিফলেট। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা: জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার টানা পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আংশিক) আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। এরপর সেখান থেকে এলাকায় ফিরে নির্বাচিত হন পৌর মেয়র। তার রাজনৈতিক সফলতায় ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনীতিবিদ ও একজন সফল পৌর মেয়র হিসেবে জেলাজুড়ে তার সুনাম ও সব স্তরের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে।

নীলফামারী-৪ আসনে মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আমাদের মুরুব্বি, আমাদের অভিভাবক। তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। নূর ভাই যতদিন নীলফামারী-২ (সদর উপজেলা) আসনে নির্বাচন করবেন, ততদিন আমি এ আসনে মনোনয়ন চাইব না।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিকান্দার আলী। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতি জীবন শুরু। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। এখন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পাশাপাশি তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য পদে রয়েছেন।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আখতার হোসেন বাদল। বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদল সৈয়দপুর পৌরসভায় এক মেয়াদে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য আমেনা কোহিনুর আলম ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম রোকেয়া হল শাখার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য।
মনোনয়ন চাইবেন নীলফামারী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রাবেয়া আলীম। জেলা মহিলা সংস্থার সভানেত্রী তিনি। তার স্বামী মরহুম আলিম উদ্দিন এ আসনে প্রথম সংসদের নির্বাচিত এমপি ছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দপুর রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা মোখছেদুল মোমিন। তিনি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরির সুবাদে বাবা মরহুম সামশুল হকের হাত ধরে রেলওয়ে শ্রমিক লীগে আসা। সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোখছেদুল ইসলাম। তিনি জেলা আওয়মী লীগের সদস্য।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, কর আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম আমির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এ আসনে।

বিএনপি: আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার ভজে। তিনি অষ্টম নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় মেয়াদে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র এবং সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি দু’বার সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র, একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাম ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

আসনটিতে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিলকিছ ইসলাম। জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়, অবস্থান করেন ঢাকায়।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার সারিতে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। তিনি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেত্রী। সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিএনপিতে আসেন। বর্তমানে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের ও ঘনিষ্ঠজন বলে তিনি পরিচিত নেতাকর্মীদের মধ্যে। তার বাড়ি সৈয়দপুর উপজেলায়, তবে তিনি বড় হয়েছেন রংপুর ও ঢাকা শহরে।

নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় সৈয়দপুর শহরে তার শুভেচ্ছা পোস্টার ও ব্যানার সাঁটানো হয়েছিল গত ঈদুল ফিতরে। সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মব্যস্ত ওই কণ্ঠশিল্পীর সৈয়দপুরে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যরা।

জাতীয় পার্টি: আসনটিতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছেন বর্তমান বিরোধীদলীয় হুইপ মো. শওকত চৌধুরী। এবারেও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বর্তমানে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি পদে ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির উল্লেখযোগ্য পদে আছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার কর্মের সফলতা এবং ব্যর্থতা দুটিই রয়েছে। বিভিন্ন কাজে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল, মিটিং করেছেন।

২০০৮ সালে নীলফামারী-১ আসনে মহাজোটের পক্ষে জাতীয় পাটির নির্বাচিত এমপি শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এবারে মনোনয়ন চান নীলফামারী-৪ আসনে। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নীলফামারী-১ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারে নীলফামারী-১ ছাড়াও, নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী জাতীয় পার্টির রাজনীতির পাশাপাশি একাধিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানান। আসনটিতে জামায়াতসহ অন্য কোনো দলের মনোনয় প্রত্যাশী নেই।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকা নিয়ে নীলফামারী-৪ আসন গঠিত। সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন আসনটির অন্তর্ভুক্ত।

সৈয়দপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা (২০১৪ অনুযায়ী) এক লাখ ৬৬ হাজার ৬৩৬ এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ জন। মোট দুই লাখ ৭৯ হাজার ১০২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩৯ হাজার ৫১৪ এবং নারী এক লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে একটি অংশ অবাঙালি (উর্দুভাষী) ভোটার রয়েছে আসনটিতে।

আসনটিতে বিগত ১০টি নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রথম ও নবম সংসদে, বিএনপি দ্বিতীয়, ষষ্ঠ (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও অষ্টম সংসদে, জাপা (এ) তৃতীয়, সপ্তম, ও দশম সংসদে, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) পঞ্চম সংসদে (আওয়ামী লীগের সমর্থনে) এবং চতুর্থ সংসদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ আসনের বর্তমান এমপি ও বিরোধীদলীয় হুইপ জাতীয় পার্টির নীলফামারী জেলার আহ্বায়ক আলহাজ মো. শওকত চৌধুরী।

এবারের নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন মাঠে। তবে ওই মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকা ভারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। আওয়ামী লীগ-জাপা মহাজোটে আসন ভাগবাটোয়ারার ঝামেলা থাকলেও, এ ঝামেলা নেই বিএনপিতে। বিএনপি জোটের শরিক জামায়াতের কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশী নেই সেখানে।

গত দুই ঈদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করে পোস্টার-ব্যানার সাটিয়েছেন, অনেকে বিলি করেছেন লিফলেট। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা: জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার টানা পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আংশিক) আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। এরপর সেখান থেকে এলাকায় ফিরে নির্বাচিত হন পৌর মেয়র। তার রাজনৈতিক সফলতায় ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনীতিবিদ ও একজন সফল পৌর মেয়র হিসেবে জেলাজুড়ে তার সুনাম ও সব স্তরের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে।

নীলফামারী-৪ আসনে মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আমাদের মুরুব্বি, আমাদের অভিভাবক। তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। নূর ভাই যতদিন নীলফামারী-২ (সদর উপজেলা) আসনে নির্বাচন করবেন, ততদিন আমি এ আসনে মনোনয়ন চাইব না।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিকান্দার আলী। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতি জীবন শুরু। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। এখন সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পাশাপাশি তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য পদে রয়েছেন।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আখতার হোসেন বাদল। বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদল সৈয়দপুর পৌরসভায় এক মেয়াদে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য আমেনা কোহিনুর আলম ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম রোকেয়া হল শাখার সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য।
মনোনয়ন চাইবেন নীলফামারী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী রাবেয়া আলীম। জেলা মহিলা সংস্থার সভানেত্রী তিনি। তার স্বামী মরহুম আলিম উদ্দিন এ আসনে প্রথম সংসদের নির্বাচিত এমপি ছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দপুর রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা মোখছেদুল মোমিন। তিনি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরির সুবাদে বাবা মরহুম সামশুল হকের হাত ধরে রেলওয়ে শ্রমিক লীগে আসা। সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোখছেদুল ইসলাম। তিনি জেলা আওয়মী লীগের সদস্য।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, কর আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম আমির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এ আসনে।

বিএনপি: আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার ভজে। তিনি অষ্টম নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় মেয়াদে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র এবং সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি দু’বার সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র, একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাম ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

আসনটিতে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিলকিছ ইসলাম। জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়, অবস্থান করেন ঢাকায়।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার সারিতে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। তিনি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেত্রী। সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিএনপিতে আসেন। বর্তমানে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের ও ঘনিষ্ঠজন বলে তিনি পরিচিত নেতাকর্মীদের মধ্যে। তার বাড়ি সৈয়দপুর উপজেলায়, তবে তিনি বড় হয়েছেন রংপুর ও ঢাকা শহরে।

নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় সৈয়দপুর শহরে তার শুভেচ্ছা পোস্টার ও ব্যানার সাঁটানো হয়েছিল গত ঈদুল ফিতরে। সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মব্যস্ত ওই কণ্ঠশিল্পীর সৈয়দপুরে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যরা।

জাতীয় পার্টি: আসনটিতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছেন বর্তমান বিরোধীদলীয় হুইপ মো. শওকত চৌধুরী। এবারেও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বর্তমানে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি পদে ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির উল্লেখযোগ্য পদে আছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার কর্মের সফলতা এবং ব্যর্থতা দুটিই রয়েছে। বিভিন্ন কাজে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল, মিটিং করেছেন।

২০০৮ সালে নীলফামারী-১ আসনে মহাজোটের পক্ষে জাতীয় পাটির নির্বাচিত এমপি শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এবারে মনোনয়ন চান নীলফামারী-৪ আসনে। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নীলফামারী-১ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারে নীলফামারী-১ ছাড়াও, নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

শিল্পপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী জাতীয় পার্টির রাজনীতির পাশাপাশি একাধিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানান। আসনটিতে জামায়াতসহ অন্য কোনো দলের মনোনয় প্রত্যাশী নেই।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ