ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

অদম্য কিশোরী তামান্নার পথচলা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৪৬৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের প্রতি চারপাশের মানুষ যে অবহেলা, যে অনীহা আর কুসংস্কারমূলক কথাবার্তা বলেছে-তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেই অনীহাই আমাকে উৎসাহিত করেছে তাকে নিয়ে কিছু করার ব্যাপারে।

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা রওশন আলী। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এই মেয়েকে নিয়ে আমি এমন কিছু করে দেখাব যেন সবাইকে বলতে পারি, দেখ, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী নয়।

অদম্য কিশোরী তামান্না আকতারের বাবা রওশন আলী। তামান্নার জন্ম হয়েছিল মাত্র একটি পা নিয়ে। তার কোনো হাত নেই। কিন্তু এই কিশোরীই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে পাশ করার পর এখন সে পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তামান্না বেছে নিয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি সুন্দর ছবি আঁকার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে এই কিশোরী।

তামান্নার এ পর্যায়ে উঠে আসা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? বিবিসি বাংলার রাকিব হাসনাতকে সেই গল্প বলছিলেন রওশন আলী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য আমি এত শিক্ষিত হয়েও, কোনো চাকরি করিনি। ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে আমার মনে চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল যে ওকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে হবে।

রওশন আলী বলেন, “প্রথম যখন ওর পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক দেই ও বলছিল, ‘আব্বু একটু যেন ব্যথা করে’। এরপর আমি কলমের মতো পাটখড়ি দিতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে। একটা সময় যখন সেটা ওর অভ্যাস হলো, তখন আস্তে আস্তে কলম দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর সে বর্ণমালা লেখা শিখে ফেলল।

রওশন আলী আরো বলেন, “কিন্তু স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই বলল, ‘একে আনছেন কেনো?’ ‘এ কি পারবে নাকি’? এরকম কথা আমাকে ভীষণ আহত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই মেয়েকে নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তামান্না প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে ফার্স্ট হয়ে, সেটা যেন ওর উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এখন বাবামায়ের স্বপ্ন হলো মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।

২০১৬-তে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় তামান্না জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল তামান্না। জন্মের সময় তার দুটি হাত ও দুটি পা নয়, শুধু একটি পা ছিল। তা দিয়েই তার সব কাজ। এমনকি পা দিয়ে সুন্দর ছবিও আঁকে তামান্না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

অদম্য কিশোরী তামান্নার পথচলা

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের প্রতি চারপাশের মানুষ যে অবহেলা, যে অনীহা আর কুসংস্কারমূলক কথাবার্তা বলেছে-তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেই অনীহাই আমাকে উৎসাহিত করেছে তাকে নিয়ে কিছু করার ব্যাপারে।

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা রওশন আলী। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এই মেয়েকে নিয়ে আমি এমন কিছু করে দেখাব যেন সবাইকে বলতে পারি, দেখ, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী নয়।

অদম্য কিশোরী তামান্না আকতারের বাবা রওশন আলী। তামান্নার জন্ম হয়েছিল মাত্র একটি পা নিয়ে। তার কোনো হাত নেই। কিন্তু এই কিশোরীই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে পাশ করার পর এখন সে পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তামান্না বেছে নিয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি সুন্দর ছবি আঁকার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে এই কিশোরী।

তামান্নার এ পর্যায়ে উঠে আসা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? বিবিসি বাংলার রাকিব হাসনাতকে সেই গল্প বলছিলেন রওশন আলী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য আমি এত শিক্ষিত হয়েও, কোনো চাকরি করিনি। ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে আমার মনে চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল যে ওকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে হবে।

রওশন আলী বলেন, “প্রথম যখন ওর পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক দেই ও বলছিল, ‘আব্বু একটু যেন ব্যথা করে’। এরপর আমি কলমের মতো পাটখড়ি দিতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে। একটা সময় যখন সেটা ওর অভ্যাস হলো, তখন আস্তে আস্তে কলম দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর সে বর্ণমালা লেখা শিখে ফেলল।

রওশন আলী আরো বলেন, “কিন্তু স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই বলল, ‘একে আনছেন কেনো?’ ‘এ কি পারবে নাকি’? এরকম কথা আমাকে ভীষণ আহত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই মেয়েকে নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তামান্না প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে ফার্স্ট হয়ে, সেটা যেন ওর উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এখন বাবামায়ের স্বপ্ন হলো মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।

২০১৬-তে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় তামান্না জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল তামান্না। জন্মের সময় তার দুটি হাত ও দুটি পা নয়, শুধু একটি পা ছিল। তা দিয়েই তার সব কাজ। এমনকি পা দিয়ে সুন্দর ছবিও আঁকে তামান্না।