ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় মাদক পার্টি, আটক ৮৫ জনের কারাদণ্ড সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে : শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট পৃথক অভিযোগে সৌদির কারাগারে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল-সুইটি হাজারো ডিসেম্বর আসবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আসবে না ৩৮ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নভেম্বর থেকে ঢাকায় নতুন নিয়ম, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ৭৩ বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত

অদম্য কিশোরী তামান্নার পথচলা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৪৮৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের প্রতি চারপাশের মানুষ যে অবহেলা, যে অনীহা আর কুসংস্কারমূলক কথাবার্তা বলেছে-তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেই অনীহাই আমাকে উৎসাহিত করেছে তাকে নিয়ে কিছু করার ব্যাপারে।

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা রওশন আলী। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এই মেয়েকে নিয়ে আমি এমন কিছু করে দেখাব যেন সবাইকে বলতে পারি, দেখ, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী নয়।

অদম্য কিশোরী তামান্না আকতারের বাবা রওশন আলী। তামান্নার জন্ম হয়েছিল মাত্র একটি পা নিয়ে। তার কোনো হাত নেই। কিন্তু এই কিশোরীই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে পাশ করার পর এখন সে পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তামান্না বেছে নিয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি সুন্দর ছবি আঁকার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে এই কিশোরী।

তামান্নার এ পর্যায়ে উঠে আসা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? বিবিসি বাংলার রাকিব হাসনাতকে সেই গল্প বলছিলেন রওশন আলী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য আমি এত শিক্ষিত হয়েও, কোনো চাকরি করিনি। ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে আমার মনে চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল যে ওকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে হবে।

রওশন আলী বলেন, “প্রথম যখন ওর পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক দেই ও বলছিল, ‘আব্বু একটু যেন ব্যথা করে’। এরপর আমি কলমের মতো পাটখড়ি দিতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে। একটা সময় যখন সেটা ওর অভ্যাস হলো, তখন আস্তে আস্তে কলম দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর সে বর্ণমালা লেখা শিখে ফেলল।

রওশন আলী আরো বলেন, “কিন্তু স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই বলল, ‘একে আনছেন কেনো?’ ‘এ কি পারবে নাকি’? এরকম কথা আমাকে ভীষণ আহত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই মেয়েকে নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তামান্না প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে ফার্স্ট হয়ে, সেটা যেন ওর উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এখন বাবামায়ের স্বপ্ন হলো মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।

২০১৬-তে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় তামান্না জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল তামান্না। জন্মের সময় তার দুটি হাত ও দুটি পা নয়, শুধু একটি পা ছিল। তা দিয়েই তার সব কাজ। এমনকি পা দিয়ে সুন্দর ছবিও আঁকে তামান্না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় মাদক পার্টি, আটক ৮৫ জনের কারাদণ্ড

অদম্য কিশোরী তামান্নার পথচলা

আপডেট টাইম : ১১:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘জন্মের পর থেকে আমার মেয়ের প্রতি চারপাশের মানুষ যে অবহেলা, যে অনীহা আর কুসংস্কারমূলক কথাবার্তা বলেছে-তা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু সেই অনীহাই আমাকে উৎসাহিত করেছে তাকে নিয়ে কিছু করার ব্যাপারে।

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের ঝিকরগাছার বাসিন্দা রওশন আলী। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এই মেয়েকে নিয়ে আমি এমন কিছু করে দেখাব যেন সবাইকে বলতে পারি, দেখ, আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী নয়।

অদম্য কিশোরী তামান্না আকতারের বাবা রওশন আলী। তামান্নার জন্ম হয়েছিল মাত্র একটি পা নিয়ে। তার কোনো হাত নেই। কিন্তু এই কিশোরীই সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে পাশ করার পর এখন সে পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তামান্না বেছে নিয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। পা দিয়ে লেখার পাশাপাশি সুন্দর ছবি আঁকার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে এই কিশোরী।

তামান্নার এ পর্যায়ে উঠে আসা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? বিবিসি বাংলার রাকিব হাসনাতকে সেই গল্প বলছিলেন রওশন আলী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য আমি এত শিক্ষিত হয়েও, কোনো চাকরি করিনি। ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে আমার মনে চ্যালেঞ্জ ফুটে উঠল যে ওকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে হবে।

রওশন আলী বলেন, “প্রথম যখন ওর পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক দেই ও বলছিল, ‘আব্বু একটু যেন ব্যথা করে’। এরপর আমি কলমের মতো পাটখড়ি দিতাম পায়ের আঙুলের ফাঁকে। একটা সময় যখন সেটা ওর অভ্যাস হলো, তখন আস্তে আস্তে কলম দিতে শুরু করলাম। কিছুদিন পর সে বর্ণমালা লেখা শিখে ফেলল।

রওশন আলী আরো বলেন, “কিন্তু স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই বলল, ‘একে আনছেন কেনো?’ ‘এ কি পারবে নাকি’? এরকম কথা আমাকে ভীষণ আহত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই মেয়েকে নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তামান্না প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠে ফার্স্ট হয়ে, সেটা যেন ওর উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এখন বাবামায়ের স্বপ্ন হলো মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।

২০১৬-তে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় তামান্না জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছিল তামান্না। জন্মের সময় তার দুটি হাত ও দুটি পা নয়, শুধু একটি পা ছিল। তা দিয়েই তার সব কাজ। এমনকি পা দিয়ে সুন্দর ছবিও আঁকে তামান্না।