ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

গ্রামবাংলার কৃষি ক্ষেতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোঙ্গার হারিয়ে যাচ্ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৮১৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতায় প্রতিটি শাখায় আধুনিকায়নের ফলে যন্ত্র সভ্যতার যাঁতাকলে গ্রামঞ্চল থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কৃষিযন্ত্র দোন কিংবা সেঁউতি (বরিশালের স্থানীয় ভাষায় দোঙ্গা)। আগেকার দিনে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা হতো টিন বা বাঁশের তৈরি এই দোঙ্গা।

এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোঙ্গার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি দোঙ্গা দিয়ে খাল বা নিচু জমি হতে উপরে পানি সেচ করা হতো।

গ্রামবাংলার কৃষকরা আদিকাল থেকেই চিন্তা-চেতনার ফসল হিসেবে আবিষ্কার করেছিল কাঠের এ দোঙ্গা। আম, কাঁঠাল জাতীয় গাছের কাঠের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানের কাঠের ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে করে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া কোনো প্রকার খরচ হয় না। তাছাড়া এটি সহজে বহনীয়।

দোঙ্গায় সেচ দেয়া খুব মজার কাজ। একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সাথে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে এক অংশে দোঙ্গার মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে একসঙ্গে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়।

আগৈলঝাড়া উপজেলার মিঠু বিশ্বাস জানায়, সে কখনও দোঙ্গা দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষিকাজে ব্যবহার করা হতো।

রাজিহার গ্রামের তপন বসু (৪২) জানান, আমি বাপ-দাদাদের দোঙ্গা ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি। এজন্য শখের বশে একটি দোঙ্গা তৈরি করে তা দিয়ে পানি সেচ দিয়েছি।

এলাকার প্রবীণ ইদ্রিস আলী মৃধা (৮৫) বলেন, আগে আমরা দোঙ্গা দিয়েই সেচকাজ চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

গ্রামবাংলার কৃষি ক্ষেতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোঙ্গার হারিয়ে যাচ্ছে

আপডেট টাইম : ০৫:২৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতায় প্রতিটি শাখায় আধুনিকায়নের ফলে যন্ত্র সভ্যতার যাঁতাকলে গ্রামঞ্চল থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কৃষিযন্ত্র দোন কিংবা সেঁউতি (বরিশালের স্থানীয় ভাষায় দোঙ্গা)। আগেকার দিনে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা হতো টিন বা বাঁশের তৈরি এই দোঙ্গা।

এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোঙ্গার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি দোঙ্গা দিয়ে খাল বা নিচু জমি হতে উপরে পানি সেচ করা হতো।

গ্রামবাংলার কৃষকরা আদিকাল থেকেই চিন্তা-চেতনার ফসল হিসেবে আবিষ্কার করেছিল কাঠের এ দোঙ্গা। আম, কাঁঠাল জাতীয় গাছের কাঠের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানের কাঠের ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে করে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া কোনো প্রকার খরচ হয় না। তাছাড়া এটি সহজে বহনীয়।

দোঙ্গায় সেচ দেয়া খুব মজার কাজ। একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সাথে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে এক অংশে দোঙ্গার মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে একসঙ্গে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়।

আগৈলঝাড়া উপজেলার মিঠু বিশ্বাস জানায়, সে কখনও দোঙ্গা দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষিকাজে ব্যবহার করা হতো।

রাজিহার গ্রামের তপন বসু (৪২) জানান, আমি বাপ-দাদাদের দোঙ্গা ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি। এজন্য শখের বশে একটি দোঙ্গা তৈরি করে তা দিয়ে পানি সেচ দিয়েছি।

এলাকার প্রবীণ ইদ্রিস আলী মৃধা (৮৫) বলেন, আগে আমরা দোঙ্গা দিয়েই সেচকাজ চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয় না।