ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাশ করে আসছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৩৪৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ৯২নং আশিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি গত এপ্রিল মাস থেকে কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও অদ্যাবধি সংস্কার না করায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাশ করে আসছে। এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোরদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কতিপয় শিক্ষানুরাগী আশিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে এটি বেসরকারী রেজিষ্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তারও পরবর্তী সময়ে সকল বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণ করা হলে এটিও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়। প্রথম দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় এবং শিক্ষকদের যত সহকারে নিয়মিত ক্লাস নেয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বিদ্যালয়টি সরকারী করণের পর থেকেই নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় শিক্ষার মান তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও অপর একজন মাতৃত্ব জনিত ছুটিতে থাকায় বর্তমানে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এলাকার ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্লাষ্টার খসে পড়তে থাকে। তারপরেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয় ভবনের ভীম ভেঙ্গে পড়ে আবুল হাসান নামে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল সংলগ্ন খোলা জায়গায় খোলা আকাশের নিচে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার আবেদন-নিবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ মাথায় নিয়ে বৈরী পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করতে করতে অনেক কোলমতি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টি, রোদের মধ্যে আর কত দিন ক্লাশ চালানো সম্ভব হবে জানি না। পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনটি পুননির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার আবেদন নিবেদন করার পরেও এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাশ করে আসছে

আপডেট টাইম : ০৪:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ৯২নং আশিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি গত এপ্রিল মাস থেকে কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও অদ্যাবধি সংস্কার না করায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাশ করে আসছে। এলাকার কোমলমতি শিশু কিশোরদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কতিপয় শিক্ষানুরাগী আশিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে এটি বেসরকারী রেজিষ্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তারও পরবর্তী সময়ে সকল বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণ করা হলে এটিও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়। প্রথম দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় এবং শিক্ষকদের যত সহকারে নিয়মিত ক্লাস নেয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বিদ্যালয়টি সরকারী করণের পর থেকেই নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় শিক্ষার মান তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও অপর একজন মাতৃত্ব জনিত ছুটিতে থাকায় বর্তমানে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এলাকার ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্লাষ্টার খসে পড়তে থাকে। তারপরেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয় ভবনের ভীম ভেঙ্গে পড়ে আবুল হাসান নামে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল সংলগ্ন খোলা জায়গায় খোলা আকাশের নিচে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার আবেদন-নিবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ মাথায় নিয়ে বৈরী পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করতে করতে অনেক কোলমতি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টি, রোদের মধ্যে আর কত দিন ক্লাশ চালানো সম্ভব হবে জানি না। পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনটি পুননির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে বার বার আবেদন নিবেদন করার পরেও এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।