ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েও স্বীকৃতি মেলেনি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৩২৭ বার
হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন মনমোহন কর্মকার। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম শহীদ। অথচ আজও মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি মেলেনি তার। মনমোহন কর্মকারের এ আত্মত্যাগের জন্য শহীদ স্বীকৃতির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার সন্তানরা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার ডায়নারপাড় গ্রামের মনমোহন কর্মকার স্ত্রী ও সন্তানদের ভারতের আশ্রয় শিবিরে পাঠিয়ে মাতৃভূমির মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন বাড়িতে। ১৯৭১ সালের ২৭ মে পাকসেনারা নাগেশ্বরীর দখল নেয়। এরপর ৩১ মে সোমবার আচমকা তাকেসহ কালীগঞ্জ ইউনিয়নের রমণী কান্ত নন্দী ও ভিতরবন্দ ইউনিয়নের অজ্ঞাতনামা একজনকে বাড়ি থেকে ধরে নাগেশ্বরী থানা ক্যাম্পে তাদের নিয়ে আসে। সেদিনই থানা চত্বরে ক্যাপ্টেন আতাউল্যা খানের নির্দেশে পাকসেনারা তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। পরে সেখানেই গর্ত করে পুতে রাখা হয় মৃতদেহগুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধে এটিই ছিল নাগেশ্বরীর প্রথম গণহত্যা।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সেদিনের তরুণ এখন ষাটোর্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, সেদিন ওই তিনজনকে পাকসেনারা সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে। দুইজন তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করলেও তৃতীয়জন একটু নড়াচড়া করলে আবারও গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
নিহত ওই তিন জনের মৃতদেহ মাটি চাপা দিতে যারা গর্ত করেছিল তাদেরই একজন পৌর এলাকার ঠুটাপাইকর গ্রামের হাসিমুদ্দিন (৬১) বলেন, তখন আমি তরুণ ছিলাম। খান সেনাদের ক্যাম্পে তিনজনকে এনে গুলি করে মারা হচ্ছে এ খবর শুনে আমরা বেশ কয়েকজন দূরে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করি। সেখান থেকে খান সেনারা হিজলসহ আমাদের ৫-৬ জনকে ডেকে নিয়ে গর্ত করার নির্দেশ দেয়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের নির্দেশে গর্ত করে মৃত দেহগুলো মাটি চাপা দেই।
নিহতের ছোট ছেলে জীবন কর্মকার বলেন, নাগেশ্বরীর প্রথম শহীদ আমার বাবা। অথচ আজো শহীদের তালিকায় তার নাম নেই। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আমরা কিছুই চাই না। শুধু চাই বাবার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ শেকড়-এর সভাপতি মনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ৭১ এ নাগেশ্বরীতে পাক বাহিনীর প্রথম নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত তিনজনের একজন তিনি। স্বীকৃতি স্বরূপ তিনিসহ ওই তিন জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আজও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েও স্বীকৃতি মেলেনি

আপডেট টাইম : ০৪:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭
হাওর বার্তা ডেস্কঃ ‘৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন মনমোহন কর্মকার। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম শহীদ। অথচ আজও মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি মেলেনি তার। মনমোহন কর্মকারের এ আত্মত্যাগের জন্য শহীদ স্বীকৃতির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার সন্তানরা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার ডায়নারপাড় গ্রামের মনমোহন কর্মকার স্ত্রী ও সন্তানদের ভারতের আশ্রয় শিবিরে পাঠিয়ে মাতৃভূমির মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন বাড়িতে। ১৯৭১ সালের ২৭ মে পাকসেনারা নাগেশ্বরীর দখল নেয়। এরপর ৩১ মে সোমবার আচমকা তাকেসহ কালীগঞ্জ ইউনিয়নের রমণী কান্ত নন্দী ও ভিতরবন্দ ইউনিয়নের অজ্ঞাতনামা একজনকে বাড়ি থেকে ধরে নাগেশ্বরী থানা ক্যাম্পে তাদের নিয়ে আসে। সেদিনই থানা চত্বরে ক্যাপ্টেন আতাউল্যা খানের নির্দেশে পাকসেনারা তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। পরে সেখানেই গর্ত করে পুতে রাখা হয় মৃতদেহগুলো। স্বাধীনতা যুদ্ধে এটিই ছিল নাগেশ্বরীর প্রথম গণহত্যা।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সেদিনের তরুণ এখন ষাটোর্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, সেদিন ওই তিনজনকে পাকসেনারা সকলের সামনে দাঁড় করিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে। দুইজন তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করলেও তৃতীয়জন একটু নড়াচড়া করলে আবারও গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
নিহত ওই তিন জনের মৃতদেহ মাটি চাপা দিতে যারা গর্ত করেছিল তাদেরই একজন পৌর এলাকার ঠুটাপাইকর গ্রামের হাসিমুদ্দিন (৬১) বলেন, তখন আমি তরুণ ছিলাম। খান সেনাদের ক্যাম্পে তিনজনকে এনে গুলি করে মারা হচ্ছে এ খবর শুনে আমরা বেশ কয়েকজন দূরে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করি। সেখান থেকে খান সেনারা হিজলসহ আমাদের ৫-৬ জনকে ডেকে নিয়ে গর্ত করার নির্দেশ দেয়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের নির্দেশে গর্ত করে মৃত দেহগুলো মাটি চাপা দেই।
নিহতের ছোট ছেলে জীবন কর্মকার বলেন, নাগেশ্বরীর প্রথম শহীদ আমার বাবা। অথচ আজো শহীদের তালিকায় তার নাম নেই। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আমরা কিছুই চাই না। শুধু চাই বাবার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগ শেকড়-এর সভাপতি মনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ৭১ এ নাগেশ্বরীতে পাক বাহিনীর প্রথম নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত তিনজনের একজন তিনি। স্বীকৃতি স্বরূপ তিনিসহ ওই তিন জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।