ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিতর্ক চর্চাকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ কোথায় যাবে, তা অন্য রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের ঘোষণার পর সতর্ক মার্কিন বাহিনী হাওরের কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার হাওরে দুর্যোগ : কী হবে বিচার চাহিয়া বন্ধু আর আব্বুকে নিয়ে ব্রাজিলের খেলা দেখতেই বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছি ৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে হেলথ কার্ড, বিশেষায়িত হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবে অর্থপাচার

হাওর খাইছে জালে পাহাড় খাইছে করাতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৭৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বরশি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ ভরিয়ে রাখে তাকে। সকাল আসলেই নাস্তা সেরে মধ্য হাইল-হাওরে ছুটে যান। বরশি পেতে মাছের নেশায় বসে থাকেন বকধ্যানে। মিষ্টি রোদের ঝলকানি সঙ্গী করে মাছের খোঁজে এভাবেই তার প্রাত্যহিক ছুটে যাওয়া। দুপুরে গড়াতেই থলি ভরে উঠে নানান প্রজাতির দেশি মাছে। থলি ভরে যাওয়া মাছের ‘ঝলৎ’ শব্দে বারবার নেচে ওঠে তার হৃদয়।

তবে এখন তিনি হতাশ। তার সেই ব্যক্তিগত হতাশা আজ রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। কারণ, এখন আর তিনি থলি ভরে মাছ ধরতে পারেন না। প্রিয় মাছের পরশে চমকে উঠে না মন। সারাটি দিন গড়িয়ে গেলেও একটি মাছও ওঠে না বরশিতে।

সৌখিন মাছ শিকারীর নাম শেখ মোহাম্মদ সালিক। বরশি দিয়ে মাছ ধরা যার অদম্য নেশা। প্রতিদিন এভাবে মাছ ধরার টানেই প্রায় দুই কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে হাইল হাওরে ছুটে যান আধা ডজন বরশি কাঁধে করে।

তিনি যে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তা আসলে নয়। তার প্রচণ্ড ভালো লাগে মাছ ধরতে। বরশিতে বিঁধে যাওয়া মাছ পানি থেকে ডাঙায় তুলে আনার নেশাটি তার বহু পুরোনো।

প্রতিদিন তার মৎস্য প্রাপ্তির পরিমাণ পাঁচ থেকে আট কেজি পর্যন্ত। আর সময়সীমা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। রুই, কাতল, কালিয়ারাসহ নানা প্রজাতির মাছ তার বরশিতে বিঁধতো। কিন্তু আজ তিনি শূন্য। ওই চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে থেকে একটি মাছও তিনি তার বরশিতে বেঁধাতে পারেননি।

গত (১৫ নভেম্বর) দুপুরে হাইল হাওরের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লামুয়া নামক এলাকায় গেলে দেখা হয় শেখ মোহাম্মদ সালিকের সাথে।

তিনি হাওর বার্তাকে বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। শখের বসে মাছ মেরে খাই। গত ১৫ দিন ধরে আমি এখানে নিয়মিত বরশি দিয়ে মাছ মারি। প্রতিদিন ৫/৭ কেজি মাছ পাই। কিন্তু আজ একটি মাছও পাইনি। গত রাতে (১৪ নভেম্বর) আশিক মিয়ার পাট্টার জায়গায় অবস্থিত মাছের খামারে কে বা কারা বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলেছে। আজ একটি মাছও নাই। একটি ছোট্ট দাড়কিনা মাছও নাই। এটা কি ঠিক হলো ? আমরা এই এলাকাতেই মাছ ধরি। এইভাবে হলে গরিব মানুষ বাঁচবে কি ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক চর্চাকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী তথ্যমন্ত্রী

হাওর খাইছে জালে পাহাড় খাইছে করাতে

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বরশি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ ভরিয়ে রাখে তাকে। সকাল আসলেই নাস্তা সেরে মধ্য হাইল-হাওরে ছুটে যান। বরশি পেতে মাছের নেশায় বসে থাকেন বকধ্যানে। মিষ্টি রোদের ঝলকানি সঙ্গী করে মাছের খোঁজে এভাবেই তার প্রাত্যহিক ছুটে যাওয়া। দুপুরে গড়াতেই থলি ভরে উঠে নানান প্রজাতির দেশি মাছে। থলি ভরে যাওয়া মাছের ‘ঝলৎ’ শব্দে বারবার নেচে ওঠে তার হৃদয়।

তবে এখন তিনি হতাশ। তার সেই ব্যক্তিগত হতাশা আজ রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। কারণ, এখন আর তিনি থলি ভরে মাছ ধরতে পারেন না। প্রিয় মাছের পরশে চমকে উঠে না মন। সারাটি দিন গড়িয়ে গেলেও একটি মাছও ওঠে না বরশিতে।

সৌখিন মাছ শিকারীর নাম শেখ মোহাম্মদ সালিক। বরশি দিয়ে মাছ ধরা যার অদম্য নেশা। প্রতিদিন এভাবে মাছ ধরার টানেই প্রায় দুই কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়ে হাইল হাওরে ছুটে যান আধা ডজন বরশি কাঁধে করে।

তিনি যে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তা আসলে নয়। তার প্রচণ্ড ভালো লাগে মাছ ধরতে। বরশিতে বিঁধে যাওয়া মাছ পানি থেকে ডাঙায় তুলে আনার নেশাটি তার বহু পুরোনো।

প্রতিদিন তার মৎস্য প্রাপ্তির পরিমাণ পাঁচ থেকে আট কেজি পর্যন্ত। আর সময়সীমা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। রুই, কাতল, কালিয়ারাসহ নানা প্রজাতির মাছ তার বরশিতে বিঁধতো। কিন্তু আজ তিনি শূন্য। ওই চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে থেকে একটি মাছও তিনি তার বরশিতে বেঁধাতে পারেননি।

গত (১৫ নভেম্বর) দুপুরে হাইল হাওরের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লামুয়া নামক এলাকায় গেলে দেখা হয় শেখ মোহাম্মদ সালিকের সাথে।

তিনি হাওর বার্তাকে বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। শখের বসে মাছ মেরে খাই। গত ১৫ দিন ধরে আমি এখানে নিয়মিত বরশি দিয়ে মাছ মারি। প্রতিদিন ৫/৭ কেজি মাছ পাই। কিন্তু আজ একটি মাছও পাইনি। গত রাতে (১৪ নভেম্বর) আশিক মিয়ার পাট্টার জায়গায় অবস্থিত মাছের খামারে কে বা কারা বিষ দিয়ে সব মাছ মেরে ফেলেছে। আজ একটি মাছও নাই। একটি ছোট্ট দাড়কিনা মাছও নাই। এটা কি ঠিক হলো ? আমরা এই এলাকাতেই মাছ ধরি। এইভাবে হলে গরিব মানুষ বাঁচবে কি ।