ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠছে আবহাওয়া আইন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠছে আবহাওয়া আইন-২০১৭ এর খসড়া। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উত্থাপন করার কথা এবং এতে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে মোট ৬০টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা অফিস আছে। অনুমোদিত জনবল ১ হাজার ৩০৫ জন। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেলে এবং তা জাতীয় সংসদে পাশ হলে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি আধুনিক আইনগত ভিত্তি পাবে। অধিদপ্তরের কর্মচারীগণের দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে বিধান রাখা হয়েছে। পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে ডিভাইস কী হবে সে বিষয়েও বলা আছে। জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, জাতীয় ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক স্থাপন ইত্যাদি বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, আবহাওয়া বিজ্ঞানীরাই এ অধিদপ্তর পরিচালনা করবেন।

প্রস্তাবিত আইনে ১টি অধ্যায় ও ৩১টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারা হলো- আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ে মৌলিক এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগিক গবেষণা কাজ পরিচালনাসহ  আবহাওয়ার সেবার মান উন্নয়ন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জনসাধারণকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষি, নৌযান, জাহাজ চলাচল, নিরাপদ বিমান চলাচল, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী থেকে শুরু করে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও ভূমিধসের আগাম সংকেত দেবে। জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর গবেষণা কাজ করবে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলীয়, ভূমণ্ডলীয় ও জলীয় আবহাওয়ার ঘটনাবলি এবং ভূমিকম্প ও ভূচুম্বকীয় বিষয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। আবহাওয়া সেবা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত রাডার, ভূমিকম্প পরিমাপক ও ভূচুম্বকীয় পর্যাবেক্ষণাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক সকল আবহাওয়া মানচিত্র ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণসহ বিশদ ব্যাখা প্রদান করবে। আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত উপাত্তসমূহের আহরণ, গণনা, মান নিয়ন্ত্রণ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করবে।

আবহাওয়ার সজ্ঞায় বলা হয়েছে, ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট কোন স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের গতি প্রকৃতি ইত্যাদি। আবহাওয়ার ঘটনা অর্থে বায়ুমণ্ডলীয়, ভূমণ্ডলীয়, জলীয় আবহাওয়া, বায়ুমণ্ডলের বাইরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাকে বোঝাবে।

নতুন আইন প্রবর্তন হওয়ার পর বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক। এই অধিদপ্তর সারা দেশের স্থল, জল ও বায়ুমণ্ডলের আচরণ ও আবহাওয়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিশেষায়িত আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকে অধ্যাবধি আবহাওয়া অধিদপ্তরের জন্য আবহাওয়া বিষয়ক কোন নির্দিষ্ট আইন হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তন, সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি আবহাওয়া আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। বিষয়টি ২০১৫ সালের ২৮ মে দশম সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির  নবম বৈঠকে আলোচনা হয় এবং আবহাওয়া আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বিষয়ক আইনটির খসড়া গত ২২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে এই খসড়ার ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং গ্রহণ করা হয়। সোমবার (১৩ নভেম্বর) মন্ত্রিসভায় চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে আবহাওয়া আইন-২০১৭ এর খসড়া।

এছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন-২০১৭ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠছে আবহাওয়া আইন

আপডেট টাইম : ১২:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠছে আবহাওয়া আইন-২০১৭ এর খসড়া। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উত্থাপন করার কথা এবং এতে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে মোট ৬০টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা অফিস আছে। অনুমোদিত জনবল ১ হাজার ৩০৫ জন। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেলে এবং তা জাতীয় সংসদে পাশ হলে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি আধুনিক আইনগত ভিত্তি পাবে। অধিদপ্তরের কর্মচারীগণের দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত আইনে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে বিধান রাখা হয়েছে। পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণে ডিভাইস কী হবে সে বিষয়েও বলা আছে। জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, জাতীয় ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক স্থাপন ইত্যাদি বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, আবহাওয়া বিজ্ঞানীরাই এ অধিদপ্তর পরিচালনা করবেন।

প্রস্তাবিত আইনে ১টি অধ্যায় ও ৩১টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ধারা হলো- আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ে মৌলিক এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগিক গবেষণা কাজ পরিচালনাসহ  আবহাওয়ার সেবার মান উন্নয়ন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জনসাধারণকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষি, নৌযান, জাহাজ চলাচল, নিরাপদ বিমান চলাচল, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী থেকে শুরু করে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও ভূমিধসের আগাম সংকেত দেবে। জলবায়ু ও আবহাওয়ার ওপর গবেষণা কাজ করবে।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলীয়, ভূমণ্ডলীয় ও জলীয় আবহাওয়ার ঘটনাবলি এবং ভূমিকম্প ও ভূচুম্বকীয় বিষয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। আবহাওয়া সেবা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত রাডার, ভূমিকম্প পরিমাপক ও ভূচুম্বকীয় পর্যাবেক্ষণাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক সকল আবহাওয়া মানচিত্র ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণসহ বিশদ ব্যাখা প্রদান করবে। আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত উপাত্তসমূহের আহরণ, গণনা, মান নিয়ন্ত্রণ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করবে।

আবহাওয়ার সজ্ঞায় বলা হয়েছে, ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট কোন স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের গতি প্রকৃতি ইত্যাদি। আবহাওয়ার ঘটনা অর্থে বায়ুমণ্ডলীয়, ভূমণ্ডলীয়, জলীয় আবহাওয়া, বায়ুমণ্ডলের বাইরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনাকে বোঝাবে।

নতুন আইন প্রবর্তন হওয়ার পর বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক। এই অধিদপ্তর সারা দেশের স্থল, জল ও বায়ুমণ্ডলের আচরণ ও আবহাওয়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিশেষায়িত আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকে অধ্যাবধি আবহাওয়া অধিদপ্তরের জন্য আবহাওয়া বিষয়ক কোন নির্দিষ্ট আইন হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তন, সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি আবহাওয়া আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়। বিষয়টি ২০১৫ সালের ২৮ মে দশম সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির  নবম বৈঠকে আলোচনা হয় এবং আবহাওয়া আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বিষয়ক আইনটির খসড়া গত ২২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে এই খসড়ার ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং গ্রহণ করা হয়। সোমবার (১৩ নভেম্বর) মন্ত্রিসভায় চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে আবহাওয়া আইন-২০১৭ এর খসড়া।

এছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন-২০১৭ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।