ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭
  • ৩৫৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আজ ১৩ নভেম্বর। বাংলা সাহিত্যের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। যদিও সশরীরে তিনি আর নেই।  ২০১২ সালের ১৯ জুলাই চলে গেছেন অন্যভুবনে।

বরাবরই হুমায়ূনের জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে হুমায়ূনভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উন্মাদনা।  এবারও  সেই আয়োজনের যেন কোনো কমতি নেই।  কারণ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবারও হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করেছে। নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আয়োজন করেছে আলোচনা সভা এবং হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’র প্রদর্শনী।

এদিকে পাঠক বিবেচনায় হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন, ফলিয়েছেন সোনা। পেয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্য।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাস ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে মিথ। বলা হয়ে থাকে, তার লেখা পছন্দ করেন না এমন মানুষও গোপনে পড়তেন তার নতুন লেখাটি। দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্ট, যারা অন্তত হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস পড়েননি কিংবা তার নাটক দেখেননি। জনপ্রিয়তার নিক্তিতে তিনি অপ্রতিরোধ্য।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, মন্দ্রসপ্তক, দূরে কোথায়, সৌরভ, ফেরা, কৃষষ্ণপক্ষ, সাজঘর, বাসর, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল প্রভৃতি। তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক। পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রও। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অন্যতম। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের এনএইচকে টেলিভিশন তাকে নিয়ে ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’ শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। এর পরের দিন তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

আপডেট টাইম : ১১:৩৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আজ ১৩ নভেম্বর। বাংলা সাহিত্যের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। যদিও সশরীরে তিনি আর নেই।  ২০১২ সালের ১৯ জুলাই চলে গেছেন অন্যভুবনে।

বরাবরই হুমায়ূনের জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে হুমায়ূনভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উন্মাদনা।  এবারও  সেই আয়োজনের যেন কোনো কমতি নেই।  কারণ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবারও হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করেছে। নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আয়োজন করেছে আলোচনা সভা এবং হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’র প্রদর্শনী।

এদিকে পাঠক বিবেচনায় হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন, ফলিয়েছেন সোনা। পেয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্য।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাস ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে মিথ। বলা হয়ে থাকে, তার লেখা পছন্দ করেন না এমন মানুষও গোপনে পড়তেন তার নতুন লেখাটি। দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্ট, যারা অন্তত হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস পড়েননি কিংবা তার নাটক দেখেননি। জনপ্রিয়তার নিক্তিতে তিনি অপ্রতিরোধ্য।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, মন্দ্রসপ্তক, দূরে কোথায়, সৌরভ, ফেরা, কৃষষ্ণপক্ষ, সাজঘর, বাসর, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল প্রভৃতি। তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক। পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রও। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অন্যতম। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের এনএইচকে টেলিভিশন তাকে নিয়ে ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’ শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। এর পরের দিন তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।