ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

ধ্বংসের পথে অ্যান্টিবায়োটিক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৫
  • ৪৫৫ বার

শুধু মানুষের একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার বশে ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ৷‌ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধকারী জীবাণুই আধুনিক ওষুধের যম৷‌ অতি শিগগির মোকাবিলা না করা গেলে, ক্রমশ হারিয়ে যাবে এই ওষুধগুলো৷‌

সম্প্রতি বিবিসি চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল অফিসার ডেম স্যালি ডেভিস আধুনিক ওষুধের ধ্বংসের ব্যাপারে গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করেন৷‌ তাঁর মতে, এই মুহূর্তে অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ক্ষমতার ভুল ধারণাটি রোগীর মন থেকে দূর করতে না পারলে, আধুনিক ওষুধকে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানো অসম্ভব৷‌ যেকোনো সাধারণ রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নির্দেশই এই সঙ্কট সূত্রপাতের মূলে৷‌ যেকোনো রোগেই অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ‘মিথ’ রোগীর মন থেকে দূর না করলে, এই সঙ্কট অবধারিত৷‌ ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগে ব্যবহূত অ্যান্টিবায়োটিকগুলো মূলত রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস ও সংক্রমণ বৃদ্ধি করে৷‌

অফিসার ডেভিসের মতে, জীবাণুগুলো যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকারী হয়, তবে কোনওমতে ওষুধগুলো কাজ করবার মতো অবস্থায় থাকবে না৷‌ অতএব, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃথাই হবে৷‌ ওয়েলকাম ট্রাস্টের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক দ্রুত গ্রহণ করার ক্ষমতার ধারণা যেসব রোগীর মধ্যে রয়েছে, তাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মনের অন্ধকার কাটাতে হবে৷‌ যেকোনো রোগে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, তবে যখন তা নিতান্তই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে তখন তার যথাযথ প্রয়োগ করা উচিত৷‌

লন্ডন, ম্যাঞ্চেস্টার এবং বার্মিংহামে চলা অনুষ্ঠান থেকে উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য৷‌ অনুসন্ধানকারী দলের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষ যাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করেন, মনে করেন, কোনো ব্যাক্টেরিয়া নয় বরং তাঁদের শরীরই অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ক্ষমতা রাখে৷‌ ভুলবশত বেশি ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর তাঁদের ধারণা, তাঁরা এই সব ওষুধ সহ্য করার যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে৷‌ কখনও তারা অ্যান্টিবায়োটিকে দারুণ উপকার হচ্ছে ভেবে মাঝপথেই নির্ধারিত কোর্স করে দেন৷‌ ডাক্তার এবং সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে কিছুটা হলেও মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক জীবাণু সম্বন্ধে জানতে শুরু করেছে৷‌ কিছুটা হলেও তারা প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছে৷‌ দেহকে রোগের প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলার ভুল ধারণাটি মন থেকে মুছে দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার এবং কোর্স সম্পূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে প্রত্যেক মানুষকেই৷‌ কোর্স সম্পূর্ণ না করার ফলস্বরূপ রোগীর শরীরে ড্রাগ প্রতিরোধক সংক্রমণ বেড়েছে, ফলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলিকে সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়েছে জীবাণুগুলি কিন্তু রোগজীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হতে পারেনি৷‌অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক এই জীবাণুগুলি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে৷‌মেথিসিলিন প্রতোরিধকারী স্টেফিলোকাস অরেয়াস জীবাণু ৬৪ শতাংশ মানুষের শরীরকে মৃত্যুপথে ঠেলে দিতে সক্ষম৷‌ এই সমস্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসাও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ৷‌

স্পোর বা বীজগুটি উৎপন্নকারী সি ডিফিসাইল ব্যাক্টেরিয়া উষ্ণ আবহাওয়ায় আরও ক্ষতিকর৷‌ রোগীর শরীরে দূষণ সৃষ্টি এবং বৃহদন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে এরা৷‌ ৮০শতাংশ ম্যানিনজাইটিস রোগীর শরীরকে মৃত্যুপথে ঠেলে দিতে সক্ষম আরেক অতি পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যাক্টেরিয়া হলো অ্যাসিনেটে৷‌

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ধ্বংসের পথে অ্যান্টিবায়োটিক

আপডেট টাইম : ১০:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৫

শুধু মানুষের একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার বশে ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ৷‌ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধকারী জীবাণুই আধুনিক ওষুধের যম৷‌ অতি শিগগির মোকাবিলা না করা গেলে, ক্রমশ হারিয়ে যাবে এই ওষুধগুলো৷‌

সম্প্রতি বিবিসি চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল অফিসার ডেম স্যালি ডেভিস আধুনিক ওষুধের ধ্বংসের ব্যাপারে গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করেন৷‌ তাঁর মতে, এই মুহূর্তে অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ক্ষমতার ভুল ধারণাটি রোগীর মন থেকে দূর করতে না পারলে, আধুনিক ওষুধকে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানো অসম্ভব৷‌ যেকোনো সাধারণ রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নির্দেশই এই সঙ্কট সূত্রপাতের মূলে৷‌ যেকোনো রোগেই অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ‘মিথ’ রোগীর মন থেকে দূর না করলে, এই সঙ্কট অবধারিত৷‌ ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগে ব্যবহূত অ্যান্টিবায়োটিকগুলো মূলত রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস ও সংক্রমণ বৃদ্ধি করে৷‌

অফিসার ডেভিসের মতে, জীবাণুগুলো যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকারী হয়, তবে কোনওমতে ওষুধগুলো কাজ করবার মতো অবস্থায় থাকবে না৷‌ অতএব, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃথাই হবে৷‌ ওয়েলকাম ট্রাস্টের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক দ্রুত গ্রহণ করার ক্ষমতার ধারণা যেসব রোগীর মধ্যে রয়েছে, তাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মনের অন্ধকার কাটাতে হবে৷‌ যেকোনো রোগে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, তবে যখন তা নিতান্তই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে তখন তার যথাযথ প্রয়োগ করা উচিত৷‌

লন্ডন, ম্যাঞ্চেস্টার এবং বার্মিংহামে চলা অনুষ্ঠান থেকে উঠে এসেছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য৷‌ অনুসন্ধানকারী দলের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষ যাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করেন, মনে করেন, কোনো ব্যাক্টেরিয়া নয় বরং তাঁদের শরীরই অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করার ক্ষমতা রাখে৷‌ ভুলবশত বেশি ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর তাঁদের ধারণা, তাঁরা এই সব ওষুধ সহ্য করার যথেষ্ট ক্ষমতা রাখে৷‌ কখনও তারা অ্যান্টিবায়োটিকে দারুণ উপকার হচ্ছে ভেবে মাঝপথেই নির্ধারিত কোর্স করে দেন৷‌ ডাক্তার এবং সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে কিছুটা হলেও মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক জীবাণু সম্বন্ধে জানতে শুরু করেছে৷‌ কিছুটা হলেও তারা প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছে৷‌ দেহকে রোগের প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলার ভুল ধারণাটি মন থেকে মুছে দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার এবং কোর্স সম্পূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে প্রত্যেক মানুষকেই৷‌ কোর্স সম্পূর্ণ না করার ফলস্বরূপ রোগীর শরীরে ড্রাগ প্রতিরোধক সংক্রমণ বেড়েছে, ফলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধগুলিকে সহ্য করার ক্ষমতা বাড়িয়েছে জীবাণুগুলি কিন্তু রোগজীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হতে পারেনি৷‌অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক এই জীবাণুগুলি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে৷‌মেথিসিলিন প্রতোরিধকারী স্টেফিলোকাস অরেয়াস জীবাণু ৬৪ শতাংশ মানুষের শরীরকে মৃত্যুপথে ঠেলে দিতে সক্ষম৷‌ এই সমস্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসাও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ৷‌

স্পোর বা বীজগুটি উৎপন্নকারী সি ডিফিসাইল ব্যাক্টেরিয়া উষ্ণ আবহাওয়ায় আরও ক্ষতিকর৷‌ রোগীর শরীরে দূষণ সৃষ্টি এবং বৃহদন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে এরা৷‌ ৮০শতাংশ ম্যানিনজাইটিস রোগীর শরীরকে মৃত্যুপথে ঠেলে দিতে সক্ষম আরেক অতি পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক ব্যাক্টেরিয়া হলো অ্যাসিনেটে৷‌