ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

অবশেষে চালের দাম কমতে শুরু করেছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৭৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বোরো উৎপাদনে বিপর্যয়ের পর চালের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। তবে শুল্ক কমানোর পর বেসরকারি খাতে আমদানি বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে বিদেশ থেকে চাল কেনার চুক্তি করার পর থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে দাম। গত বছরের একই বছরের তুলনায় এখনো চালের দাম অনেক বেশি থাকলেও চলতি বছরের সর্বোচ্চ দাম থেকে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে আট টাকা করে কমেছে দাম।

সাধারণত পাইকারি বাজারে চালের দাম কমার কয়দিন পরেই খুচরা বাজারে সেটার প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন। পাইকারি বাজারে চালের দাম কমার সাথে সাথে সেটার সুফল দেখা যাচ্ছে খুচরা বাজারেও। দাম আরও কমতে পারে, এই ধারণায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি চাল কিনছেন না।

বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির হিসাব অনুযায়ী চালের দাম বেশি কমেছে মোটা এবং মাঝারি মানের। এক মাসের ব্যবধানে এই ধরনের চালগুলো শতকরা ৮.১৬ শতাংশ থেকে ৯.০৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আর নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম কমেছে ৫.৬ থেকে ৬.০২ শতাংশ। তবে এই দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। কিন্তু হাওরে বন্যা উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অতি বৃষ্টি এবং ব্লাস্ট রোগের কারণে গত এক দশকের সবচেয়ে কম উৎপাদন হয়েছে চালের। এ কারণে গত এপ্রিল থেকে চালের দাম বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে সরকার বিদেশ থেকে আমদানি ও শুল্ক কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হয়নি কোনোটিতেই। মোটা চালের দাম এক পর্যায়ে উঠে যায় ৫০ টাকার ওপর। আর চিকন চাল বিক্রি হয় ৭০ টাকায়।

তবে সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারিতে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৩৯ থেকে ৪০ টাকা, পায়জাম ৪১ থেকে ৪৩ টাকা, বিআর ২৮ মানভেদে ৪৫ থেকে ৪৯ টাকায়, মিনিকেট মানভেদে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা এবং নাজিরশাইল মানভেদে ৫৯ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর হাওর বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি ও বেসকারিভাবে চালের আমদানি বাড়ানোতে আরেক দফা চালের দাম কমেছে। চালের সরবরাহ সংকট নিয়ে এখন আর আশঙ্কা নেই, তাই চালের দাম দফায় দফায় কমছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিগগিরই আসতে শুরু করবে মৌসুমি চাল, তখন দাম আরও কমে যাবে।’

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশেষ করে  আমদানি-শুল্ক দুই দফা; প্রথমে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ  পরে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ কমানোর কারণেই দফায় দফায় চালের দাম কমছে বলে জানান পাইকাররা। চালের দাম আরও কমার সম্ভাবনার কথা জানান তারা।

কাঁঠাল বাগান ও হাতিরপুল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা, পায়জম ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা, বিআর ২৮ মানভেদে ৫১ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইল মানভেদে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য বেশি পরিমাণে বা ৫০ কেজির এক বস্তা কিনলে দাম আরও কিছু কমে পাওয়া যাচ্ছে।

চালের দাম কমতে থাকায় ভোক্তা, ক্ষুদ্র বিক্রেতাসহ খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। কাঁঠাল বাগানের বাসিন্দা রেবেকা বানু চাল কিনতে এসে হাওর বার্তাকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে গেলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের যে কী বিপদ হয়, সেটা বলে বোঝাতে পারব না। চালের দাম এখন কিছুটা কমছে। আরও কমার দরকার।’

দেশে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মজুদ বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় যথাক্রমে, ভারত থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ও পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন (১৮ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর) করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আমদানির চিত্র

চাল উৎপাদনে বিপর্যয়ের কারণে দেখা দেয়া সংকট কাটাতে সরকার এ বছর মোট ২০ লাখ টন চাল ও গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রার ১৫ লাখ টন চালের মধ্যে তিন লাখ ৫৫ হাজার টন ইতিমধ্যে সরকারি গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কিছু চালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় আছে, বাকি চাল আসার পথে রয়েছে।

সরকারি হিসাবে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ লাখ ১৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়ে গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে এসেছে তিন লাখ ৮০ হাজার টন এবং বেসরকারি খাতে এসেছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

অবশেষে চালের দাম কমতে শুরু করেছে

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বোরো উৎপাদনে বিপর্যয়ের পর চালের দাম বেড়েছে দফায় দফায়। তবে শুল্ক কমানোর পর বেসরকারি খাতে আমদানি বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে বিদেশ থেকে চাল কেনার চুক্তি করার পর থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে দাম। গত বছরের একই বছরের তুলনায় এখনো চালের দাম অনেক বেশি থাকলেও চলতি বছরের সর্বোচ্চ দাম থেকে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে আট টাকা করে কমেছে দাম।

সাধারণত পাইকারি বাজারে চালের দাম কমার কয়দিন পরেই খুচরা বাজারে সেটার প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন। পাইকারি বাজারে চালের দাম কমার সাথে সাথে সেটার সুফল দেখা যাচ্ছে খুচরা বাজারেও। দাম আরও কমতে পারে, এই ধারণায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি চাল কিনছেন না।

বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির হিসাব অনুযায়ী চালের দাম বেশি কমেছে মোটা এবং মাঝারি মানের। এক মাসের ব্যবধানে এই ধরনের চালগুলো শতকরা ৮.১৬ শতাংশ থেকে ৯.০৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আর নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম কমেছে ৫.৬ থেকে ৬.০২ শতাংশ। তবে এই দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। কিন্তু হাওরে বন্যা উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অতি বৃষ্টি এবং ব্লাস্ট রোগের কারণে গত এক দশকের সবচেয়ে কম উৎপাদন হয়েছে চালের। এ কারণে গত এপ্রিল থেকে চালের দাম বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে সরকার বিদেশ থেকে আমদানি ও শুল্ক কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ হয়নি কোনোটিতেই। মোটা চালের দাম এক পর্যায়ে উঠে যায় ৫০ টাকার ওপর। আর চিকন চাল বিক্রি হয় ৭০ টাকায়।

তবে সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারিতে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৩৯ থেকে ৪০ টাকা, পায়জাম ৪১ থেকে ৪৩ টাকা, বিআর ২৮ মানভেদে ৪৫ থেকে ৪৯ টাকায়, মিনিকেট মানভেদে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা এবং নাজিরশাইল মানভেদে ৫৯ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর হাওর বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি ও বেসকারিভাবে চালের আমদানি বাড়ানোতে আরেক দফা চালের দাম কমেছে। চালের সরবরাহ সংকট নিয়ে এখন আর আশঙ্কা নেই, তাই চালের দাম দফায় দফায় কমছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিগগিরই আসতে শুরু করবে মৌসুমি চাল, তখন দাম আরও কমে যাবে।’

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশেষ করে  আমদানি-শুল্ক দুই দফা; প্রথমে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ  পরে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ কমানোর কারণেই দফায় দফায় চালের দাম কমছে বলে জানান পাইকাররা। চালের দাম আরও কমার সম্ভাবনার কথা জানান তারা।

কাঁঠাল বাগান ও হাতিরপুল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা, পায়জম ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা, বিআর ২৮ মানভেদে ৫১ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইল মানভেদে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য বেশি পরিমাণে বা ৫০ কেজির এক বস্তা কিনলে দাম আরও কিছু কমে পাওয়া যাচ্ছে।

চালের দাম কমতে থাকায় ভোক্তা, ক্ষুদ্র বিক্রেতাসহ খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। কাঁঠাল বাগানের বাসিন্দা রেবেকা বানু চাল কিনতে এসে হাওর বার্তাকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে গেলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের যে কী বিপদ হয়, সেটা বলে বোঝাতে পারব না। চালের দাম এখন কিছুটা কমছে। আরও কমার দরকার।’

দেশে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মজুদ বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় যথাক্রমে, ভারত থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ও পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন (১৮ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর) করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আমদানির চিত্র

চাল উৎপাদনে বিপর্যয়ের কারণে দেখা দেয়া সংকট কাটাতে সরকার এ বছর মোট ২০ লাখ টন চাল ও গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রার ১৫ লাখ টন চালের মধ্যে তিন লাখ ৫৫ হাজার টন ইতিমধ্যে সরকারি গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কিছু চালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় আছে, বাকি চাল আসার পথে রয়েছে।

সরকারি হিসাবে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ লাখ ১৩ হাজার টন চাল আমদানি হয়ে গুদামে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে এসেছে তিন লাখ ৮০ হাজার টন এবং বেসরকারি খাতে এসেছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টন।