ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের উপকূলে বাতিঘর নির্মাণকাজ শেষ হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭
  • ৪১৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলে সাতটি বাতিঘর নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে  নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

৩৭০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব জিএমডি এসএস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম’ প্রকল্পের বিষয়ে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি সই হয়। সংক্ষেপে এই প্রকল্প ‘ইজিআইএমএনএস’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রকল্পের জন্য ৮৮ দশমিক ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এই ঋণের সুদের হার ০.০১ শতাংশ। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক দেবে ২৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম এবং কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে তাদের ঢাকা অফিসের প্রতিনিধি মিস্টার কিং ইয়াংগু এবং এলজি-সামি কনসোর্টিয়াম লিমিডেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস্টার জিয়ং ওউন ইয়োল সই করেন।

প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ সাতটি উপকূলীয় অঞ্চলে (কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া, নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর, কুয়াকাটা) কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও বাতিঘর নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উপকূলে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেভিগেশনাল সহায়তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমুদ্রপথে দেশি-বিদেশি জাহাজগুলোর সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন না হলে আইএমও’র হোয়াইট লিস্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সমুদ্রপথে আমদানিকৃত প্রায় ৯৩ শতাংশ বাণিজ্য ব্যাহত হওয়াসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং আইএমও’র আবশ্যকীয় চাহিদার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ চুক্তি সই হলো। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে তিনটি বাতিঘর আছে। কুতুবদিয়ায় ১৮৪৬ সালে প্রথম বাতিঘর স্থাপন করা হয়। কক্সবাজারে ও সেন্টমার্টিনে ১৯৭৬ সালে স্থাপন করা হয় বাকি দু’টি। এগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে বাতিঘর হবে সাতটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের উপকূলে বাতিঘর নির্মাণকাজ শেষ হবে

আপডেট টাইম : ০৭:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলে সাতটি বাতিঘর নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে  নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

৩৭০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব জিএমডি এসএস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম’ প্রকল্পের বিষয়ে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি সই হয়। সংক্ষেপে এই প্রকল্প ‘ইজিআইএমএনএস’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রকল্পের জন্য ৮৮ দশমিক ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এই ঋণের সুদের হার ০.০১ শতাংশ। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক দেবে ২৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম এবং কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে তাদের ঢাকা অফিসের প্রতিনিধি মিস্টার কিং ইয়াংগু এবং এলজি-সামি কনসোর্টিয়াম লিমিডেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস্টার জিয়ং ওউন ইয়োল সই করেন।

প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ সাতটি উপকূলীয় অঞ্চলে (কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়া, নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর, দুবলারচর, কুয়াকাটা) কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও বাতিঘর নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উপকূলে নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেভিগেশনাল সহায়তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমুদ্রপথে দেশি-বিদেশি জাহাজগুলোর সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন না হলে আইএমও’র হোয়াইট লিস্ট থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের সমুদ্রপথে আমদানিকৃত প্রায় ৯৩ শতাংশ বাণিজ্য ব্যাহত হওয়াসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং আইএমও’র আবশ্যকীয় চাহিদার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ চুক্তি সই হলো। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে তিনটি বাতিঘর আছে। কুতুবদিয়ায় ১৮৪৬ সালে প্রথম বাতিঘর স্থাপন করা হয়। কক্সবাজারে ও সেন্টমার্টিনে ১৯৭৬ সালে স্থাপন করা হয় বাকি দু’টি। এগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে বাতিঘর হবে সাতটি।