ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংলাপে ৪ শতাধিক সুপারিশ পেয়েছে ইসি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৪৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩ মাস ধরে চালিয়ে যাওয়া সংলাপে ৪ শতাধিক সুপারিশ পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপে আসা এসব সুপারিশ কিছু সাংবিধানিক, কিছু আইনসংক্রান্ত আর কিছু নির্বাচন কমিশনের করণীয়- এই তিনভাগে ভাগ করা যায় বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংলাপ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সংলাপ সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, এর মধ্যে যেসব সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের নিজের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো ইসি বাস্তবায়ন করবে। যেগুলো সুপারিশের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে, সেগুলো সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। আর যেগুলো সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়, সেগুলো সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যদি এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাদের ওপর চাপ দেওয়ার বা বাধ্য করার সুযোগ নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে নৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নেবে না বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমসাধান হওয়া ভালো বলে কমিশন মনে করে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে কে এম নুরুল হুদা বলেন, এখন যে আইন আছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেগুলো যথেষ্ট। নির্বাচন কমিশন সেটা যথাযথভাবে প্রয়োগ করবে। যখন, যেভাবে আইন থাকে, তখন সেভাবেই নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সরকার বা কোনো মন্ত্রী, এমপির কাছ থেকে কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ আসেনি বলেও আরেক প্রশ্নের উত্তরে জানান সিইসি। ভবিষ্যতে কোনো চাপ এলে কমিশন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে এই বক্তব্যে অনড় সিইসি। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৫ থেকে ৭৭ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ছিল না। এর আগে ছিল। পরে জিয়াউর রহমান তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, কোনো দলকে খুশি করার জন্য নয়। এটা তথ্যভিত্তিক কথা। গত ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় বিএনপি। সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাতে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হন। এর মধ্যদিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
জিয়া ও বিএনপির প্রশংসা করে সিইসি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ৬ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
সিইসির এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী এই বক্তব্যের কারণে সিইসির সঙ্গে তার দলের সংলাপ বর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংলাপে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সিইসি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেই ব্যাখ্যার কথা সাংবাদিকদের জানাননি। সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতারা সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিইসি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, আমি বলিনি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি বলেছি তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। জিয়াউর রহমান সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নেবে না। এটা কমিশনের আওতাভুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সংলাপে ৪ শতাধিক সুপারিশ পেয়েছে ইসি

আপডেট টাইম : ০৪:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩ মাস ধরে চালিয়ে যাওয়া সংলাপে ৪ শতাধিক সুপারিশ পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংলাপে আসা এসব সুপারিশ কিছু সাংবিধানিক, কিছু আইনসংক্রান্ত আর কিছু নির্বাচন কমিশনের করণীয়- এই তিনভাগে ভাগ করা যায় বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংলাপ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সংলাপ সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, এর মধ্যে যেসব সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের নিজের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো ইসি বাস্তবায়ন করবে। যেগুলো সুপারিশের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে, সেগুলো সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। আর যেগুলো সংবিধানসংক্রান্ত বিষয়, সেগুলো সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যদি এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাদের ওপর চাপ দেওয়ার বা বাধ্য করার সুযোগ নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে নৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নেবে না বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমসাধান হওয়া ভালো বলে কমিশন মনে করে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে কে এম নুরুল হুদা বলেন, এখন যে আইন আছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেগুলো যথেষ্ট। নির্বাচন কমিশন সেটা যথাযথভাবে প্রয়োগ করবে। যখন, যেভাবে আইন থাকে, তখন সেভাবেই নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত সরকার বা কোনো মন্ত্রী, এমপির কাছ থেকে কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ আসেনি বলেও আরেক প্রশ্নের উত্তরে জানান সিইসি। ভবিষ্যতে কোনো চাপ এলে কমিশন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে এই বক্তব্যে অনড় সিইসি। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৫ থেকে ৭৭ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র ছিল না। এর আগে ছিল। পরে জিয়াউর রহমান তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, কোনো দলকে খুশি করার জন্য নয়। এটা তথ্যভিত্তিক কথা। গত ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় বিএনপি। সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাতে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হন। এর মধ্যদিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
জিয়া ও বিএনপির প্রশংসা করে সিইসি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ৬ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
সিইসির এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী এই বক্তব্যের কারণে সিইসির সঙ্গে তার দলের সংলাপ বর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংলাপে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সিইসি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেই ব্যাখ্যার কথা সাংবাদিকদের জানাননি। সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতারা সিইসিকে সতর্ক হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিইসি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, আমি বলিনি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি বলেছি তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। জিয়াউর রহমান সেটা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নেবে না। এটা কমিশনের আওতাভুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।