ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শাহজালালের মাজারের দানবাক্স সিলগালা, পাহারা বসালো প্রশাসন ঘরের পাশের মানুষ যদি এমন রাক্ষস হয়ে ওঠে, তবে আমরা বিশ্বাস করব কাকে জুলাইযোদ্ধারা শ্রেণিভেদে মাসে কতো টাকা পাবেন, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম: সেনাপ্রধান পরীমণি ইস্যুতে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন প্রস্তাবিত বাজেট স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে : আইনমন্ত্রী মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শোধ নেওয়ার অঙ্গীকার রাশিয়ার বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে

সবজি-মসলার চাষ নদী-খাল-বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
  • ২৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মাটির পাশাপাশি এবার জলমগ্ন কৃষিজমি এবং ছোট নদী, খাল, বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প পরিসরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভাসমান পদ্ধতির এ চাষে ইতোমধ্যে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)।

এবার বড় পরিসরে ঢেঁড়স,পুঁইশাক, বরবটি, শশা, করলা, হলুদসহ বেশ কয়েকটি সবজি ও মসলার উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতের চাষ হবে পানির ওপরে।

বড় পরিসরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়।  চলতি সময় থেকে  ২০২২ সালের জুন মেয়াদে এতে ব্যয় হবে ৬৩ কোটি কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের অনেক স্থানেই বছরে একটিমাত্র ফসল হয় আর বাকি সময় থাকে জলাবদ্ধ অবস্থায়। এসব স্থানে পানির ‍ওপরে কচুরিপানা দিয়ে ছোট মাচা তৈরি করা হবে। মাচায় সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দিয়ে সহজেই মসলা ও সবজির চাষ করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) আনোয়ার হোসেন হাওর বার্তাকে বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ায়  প্রতিনিয়তই আমাদের ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। বাড়তি চাহিদা পূরণে জলমগ্ন পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে এবং নদী, খাল ও বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি-মসলার চাষ করবো। ভাসমান মাচা তৈরির এ পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন আমাদের গবেষকরা’।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)  মঙ্গলবারের (১৭ অক্টোবর) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, , প্রথম ধাপে  গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেট,  মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এবং  দ্বিতীয় ধাপে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা,  ঝালকাঠি, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেট, হবিগঞ্জ, নাটোর, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হঠাৎ বন্যায় ফসলের ক্ষতি ঠেকানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও মোকাবেলা করবে এ প্রকল্প। এতে জোর দেওয়া হচ্ছে গবেষণার ওপরে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আর পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে সবচেয়ে  বেশি ক্ষতি হচ্ছে কৃষিখাতের। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওইসব অঞ্চলের মাটি-পানিতে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

এছাড়া জলমগ্নতা, উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনেক স্থান জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় প্রায় সময় বোরো ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই স্থানভিত্তিক সৃজনশীল কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর সম্প্রসারণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এ প্রকল্প।

তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাসমান বেডে মসলা ও সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন দেশের অনেক কৃষক।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার কৃষক ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চাষ করেন। উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে তারা এখন স্বাবলম্বী। ভাসমান পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মাটিবিহীন ও পানির ওপরে শাক-সবজির চাষাবাদ হয়ে থাকে। এতে ব্যবহৃত হয় না  কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এমনকি চাষের জন্য প্রয়োজন পড়ে না বাড়তি কোনো জমিরও। মূলত হাওর ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভাসমান পদ্ধতিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালালের মাজারের দানবাক্স সিলগালা, পাহারা বসালো প্রশাসন

সবজি-মসলার চাষ নদী-খাল-বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে হবে

আপডেট টাইম : ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মাটির পাশাপাশি এবার জলমগ্ন কৃষিজমি এবং ছোট নদী, খাল, বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি ও মসলা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প পরিসরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ভাসমান পদ্ধতির এ চাষে ইতোমধ্যে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)।

এবার বড় পরিসরে ঢেঁড়স,পুঁইশাক, বরবটি, শশা, করলা, হলুদসহ বেশ কয়েকটি সবজি ও মসলার উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতের চাষ হবে পানির ওপরে।

বড় পরিসরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়।  চলতি সময় থেকে  ২০২২ সালের জুন মেয়াদে এতে ব্যয় হবে ৬৩ কোটি কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের অনেক স্থানেই বছরে একটিমাত্র ফসল হয় আর বাকি সময় থাকে জলাবদ্ধ অবস্থায়। এসব স্থানে পানির ‍ওপরে কচুরিপানা দিয়ে ছোট মাচা তৈরি করা হবে। মাচায় সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দিয়ে সহজেই মসলা ও সবজির চাষ করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) আনোয়ার হোসেন হাওর বার্তাকে বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ায়  প্রতিনিয়তই আমাদের ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। বাড়তি চাহিদা পূরণে জলমগ্ন পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে এবং নদী, খাল ও বিলে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি-মসলার চাষ করবো। ভাসমান মাচা তৈরির এ পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছেন আমাদের গবেষকরা’।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)  মঙ্গলবারের (১৭ অক্টোবর) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, , প্রথম ধাপে  গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেট,  মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এবং  দ্বিতীয় ধাপে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা,  ঝালকাঠি, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেট, হবিগঞ্জ, নাটোর, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হঠাৎ বন্যায় ফসলের ক্ষতি ঠেকানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও মোকাবেলা করবে এ প্রকল্প। এতে জোর দেওয়া হচ্ছে গবেষণার ওপরে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আর পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে সবচেয়ে  বেশি ক্ষতি হচ্ছে কৃষিখাতের। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওইসব অঞ্চলের মাটি-পানিতে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

এছাড়া জলমগ্নতা, উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা এবং একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনেক স্থান জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় প্রায় সময় বোরো ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই স্থানভিত্তিক সৃজনশীল কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এর সম্প্রসারণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এ প্রকল্প।

তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাসমান বেডে মসলা ও সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন দেশের অনেক কৃষক।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার কৃষক ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চাষ করেন। উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে তারা এখন স্বাবলম্বী। ভাসমান পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মাটিবিহীন ও পানির ওপরে শাক-সবজির চাষাবাদ হয়ে থাকে। এতে ব্যবহৃত হয় না  কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এমনকি চাষের জন্য প্রয়োজন পড়ে না বাড়তি কোনো জমিরও। মূলত হাওর ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভাসমান পদ্ধতিটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।