ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গারা সাগরের ঢেউয়ে লাশ খুঁজছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৩৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শুধু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই নয়, নাফ নদী এবং বঙ্গোসাগরের উত্তাল ঢেউও যেন রোহিঙ্গাদের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতের কাছে সাগরে আবারও ডুবেছে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা। জোয়ারের সঙ্গে বিকেল পর্যন্ত ভেসে আসে ১১ রোহিঙ্গার লাশ।

উদ্ধার করা লাশের মধ্যে ৫টি শিশু, বাকি ছয়জন নারী। নৌকাডুবির পর সাঁতরে কূলে উঠে আসে ২১ রোহিঙ্গা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল নারী-শিশুসহ অন্তত ৩০ রোহিঙ্গা। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা বলছেন, প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়ে গত রোববার রাত ১২টায় রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের দংখালি গ্রাম থেকে তাঁরা প্রায় ৬৫ জন এই নৌকায় ওঠেন। যাত্রীদের অর্ধেকই ছিল শিশু-কিশোর। গতকাল ভোর চারটির দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার ভরাখালের মুখ এলাকায় তীরের কাছে হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে সাগরে উল্টে যায় নৌকাটি।
এ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর (গতকাল) পর্যন্ত নাফ নদী এবং বঙ্গোসাগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৬টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮২ জনই রোহিঙ্গা। অন্যজন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি। রোহিঙ্গাদের লাশের মধ্যে ৯১টি শিশু, ৬২ নারী এবং ২৯ জন পুরুষ।
গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অপলক দৃষ্টিতে সাগরের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশাল ঢেউয়ের মধ্যে লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশের সন্ধানে সৈকতে জড়ো হন। সেখানে কথা হয় ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রী রোহিঙ্গা যুবক হোসেন আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে নৌকায় ওঠেন তিনি। তাঁর মেয়ের লাশ পেয়েছেন। তাঁর তিন শিশুসন্তানসহ পরিবারের আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছে।
লাশ খুঁজতে থাকা রোহিঙ্গারা দুপুরের দিকে বিশ্রাম নেন মাঝেরপাড়া মসজিদের সামনে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে এসে এভাবে সাগরে স্বজনদের হারাতে হবে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা। অপরিচিত জায়গায় এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তাঁদের অনেকে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে শিবিরে যেতে দেয়নি বিজিবি। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে শিবিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি তাদের একই সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।
আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত থেকে গতকাল রাত ৯টায় কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ১৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বিজিবির কাছে তথ্য রয়েছে, রোহিঙ্গাদের এই স্রোতের সঙ্গে মিয়ানমারের গুপ্তচর থাকতে পারে। মাদক ও অস্ত্র বহন করতে পারে কেউ কেউ। যে কারণে তাদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর রোহিঙ্গাদের উখিয়ার শিবিরে পাঠানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গারা সাগরের ঢেউয়ে লাশ খুঁজছে

আপডেট টাইম : ১২:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শুধু মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই নয়, নাফ নদী এবং বঙ্গোসাগরের উত্তাল ঢেউও যেন রোহিঙ্গাদের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতের কাছে সাগরে আবারও ডুবেছে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা। জোয়ারের সঙ্গে বিকেল পর্যন্ত ভেসে আসে ১১ রোহিঙ্গার লাশ।

উদ্ধার করা লাশের মধ্যে ৫টি শিশু, বাকি ছয়জন নারী। নৌকাডুবির পর সাঁতরে কূলে উঠে আসে ২১ রোহিঙ্গা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল নারী-শিশুসহ অন্তত ৩০ রোহিঙ্গা। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা বলছেন, প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়ে গত রোববার রাত ১২টায় রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের দংখালি গ্রাম থেকে তাঁরা প্রায় ৬৫ জন এই নৌকায় ওঠেন। যাত্রীদের অর্ধেকই ছিল শিশু-কিশোর। গতকাল ভোর চারটির দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার ভরাখালের মুখ এলাকায় তীরের কাছে হঠাৎ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে সাগরে উল্টে যায় নৌকাটি।
এ নিয়ে গত ২৯ আগস্ট থেকে ১৬ অক্টোবর (গতকাল) পর্যন্ত নাফ নদী এবং বঙ্গোসাগরে রোহিঙ্গাবাহী ২৬টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮২ জনই রোহিঙ্গা। অন্যজন বাংলাদেশি নৌকার মাঝি। রোহিঙ্গাদের লাশের মধ্যে ৯১টি শিশু, ৬২ নারী এবং ২৯ জন পুরুষ।
গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অপলক দৃষ্টিতে সাগরের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশাল ঢেউয়ের মধ্যে লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশের সন্ধানে সৈকতে জড়ো হন। সেখানে কথা হয় ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রী রোহিঙ্গা যুবক হোসেন আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে নৌকায় ওঠেন তিনি। তাঁর মেয়ের লাশ পেয়েছেন। তাঁর তিন শিশুসন্তানসহ পরিবারের আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছে।
লাশ খুঁজতে থাকা রোহিঙ্গারা দুপুরের দিকে বিশ্রাম নেন মাঝেরপাড়া মসজিদের সামনে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাত থেকে জীবন বাঁচাতে এসে এভাবে সাগরে স্বজনদের হারাতে হবে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁরা। অপরিচিত জায়গায় এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তাঁদের অনেকে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে শিবিরে যেতে দেয়নি বিজিবি। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে শিবিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি তাদের একই সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।
আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত থেকে গতকাল রাত ৯টায় কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ১৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বিজিবির কাছে তথ্য রয়েছে, রোহিঙ্গাদের এই স্রোতের সঙ্গে মিয়ানমারের গুপ্তচর থাকতে পারে। মাদক ও অস্ত্র বহন করতে পারে কেউ কেউ। যে কারণে তাদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর রোহিঙ্গাদের উখিয়ার শিবিরে পাঠানো হবে।