ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জের তাহমিনা বাঁচতে চায় বিরল রোগে আক্রান্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৭
  • ৩৬৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পল্লীতে চোঁখের উপর বিরল রোগে আক্রান্ত ৭ বছর বয়সী শিশু কন্যা তাহমিনা আক্তারসহ ৪সন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তার মা। দীর্ঘ ২বছর যাবত তাহমিনার পিতা রয়েছেন নিখোঁজ। বেঁচে থাকার তাগিদে শেষ পর্যন্ত ভিক্ষা বৃত্তিতে নেমেছেন তাহমিনার মা মারুফা বেগম। তাহমিনাকে সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় মান্দারকান্দি গ্রামবাসীা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,  হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দারকান্দি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাহমিনা আক্তার। প্রায় ৪ বছর আগে চোখে আঘাত প্রাপ্ত হয় তাহমিনা। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রথমে সিলেটের ওসমানি মেডিক্যালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করে চোঁখটি খুলে ফেলা হয়েছিল। এর পর থেকেই চোঁখে বিরল রোগে আক্রান্ত হয় তাহমিনা।  দিন দিন চোঁখ টিউমার আকৃতির মতো বড় হচ্ছে। এ অস্থায় তাহমিনা ঠিক মতো ঘুমাতেও পারেনা। অসহ্য যন্ত্রণায় দিন-রাত ছটফট করতে থাকে শিশুটি। ছোট শিশুর এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। তাহমিনার মা মারুফা বেগম জানান, তাহমিনার পিতা বাচ্চু মিয়া দীর্ঘ ২ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সাথে নেই তার কোন যোগাযোগ। তিনি বেঁচে আছেন কি না তাও জানেনা পরিবারে লোকজন। বাবার অবর্তমানে অসহায় মা মারূফা ভিক্ষা বৃত্তি করে দিনাতিপাত করছেন। ৪ সন্তানের ভরন পোষন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এই অসহায় তাহমিনার  চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এত অভাব-অনটনের মাঝে শিশু তাহমিনার চিকিৎসার ব্যয়বহুল খরচ যোগানো মা’র পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ওসমানী মেডিক্যালের ডাক্তার ওমর ফারুক জানিয়েছেন,  এখনই এই রোগের চিকিৎসা করানো না গেলে তাহমিনাকে বাচানো সম্ভব নয় । বিরল এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তাহমিনার মা মারুফা বেগম ও এলাকাবাসী। তাহমিনার দাদী কনর বিবি জানান এলাকার দানশীল ও সমাজের দয়ালু ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে আমার নাতীনকে বাঁচানো সম্ভব। আর না হয় আমরাই খাইয়া বাছরাম না তারে  ডাক্তার দেখামু কেমনে।
এনিয়ে স্থানীয় আহমেদ আজাদ মামুন একজন এই বিরল রোগি শিশুটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেন। পোষ্টটি প্রথমদিনেই ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সহযোগীতার আশ্বাস দিলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ নগদ টাকা প্রদান করেননি।
কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত তাহমিনাকে নিয়ে খুব অভাব অনটনে আছেন তার মা। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ভাতা প্রদানসহ যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়া সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। তাহমিনার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে চাইলে (বিকাশ পার্সনাল- ০১৭৩৭৪০১১০৫) এই নাম্বারে যোগাযোগ করে বিকাশে টাকা পাঠাতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীগঞ্জের তাহমিনা বাঁচতে চায় বিরল রোগে আক্রান্ত

আপডেট টাইম : ০৬:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পল্লীতে চোঁখের উপর বিরল রোগে আক্রান্ত ৭ বছর বয়সী শিশু কন্যা তাহমিনা আক্তারসহ ৪সন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তার মা। দীর্ঘ ২বছর যাবত তাহমিনার পিতা রয়েছেন নিখোঁজ। বেঁচে থাকার তাগিদে শেষ পর্যন্ত ভিক্ষা বৃত্তিতে নেমেছেন তাহমিনার মা মারুফা বেগম। তাহমিনাকে সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় মান্দারকান্দি গ্রামবাসীা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,  হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দারকান্দি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাহমিনা আক্তার। প্রায় ৪ বছর আগে চোখে আঘাত প্রাপ্ত হয় তাহমিনা। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এক পর্যায়ে প্রথমে সিলেটের ওসমানি মেডিক্যালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করে চোঁখটি খুলে ফেলা হয়েছিল। এর পর থেকেই চোঁখে বিরল রোগে আক্রান্ত হয় তাহমিনা।  দিন দিন চোঁখ টিউমার আকৃতির মতো বড় হচ্ছে। এ অস্থায় তাহমিনা ঠিক মতো ঘুমাতেও পারেনা। অসহ্য যন্ত্রণায় দিন-রাত ছটফট করতে থাকে শিশুটি। ছোট শিশুর এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। তাহমিনার মা মারুফা বেগম জানান, তাহমিনার পিতা বাচ্চু মিয়া দীর্ঘ ২ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের সাথে নেই তার কোন যোগাযোগ। তিনি বেঁচে আছেন কি না তাও জানেনা পরিবারে লোকজন। বাবার অবর্তমানে অসহায় মা মারূফা ভিক্ষা বৃত্তি করে দিনাতিপাত করছেন। ৪ সন্তানের ভরন পোষন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এই অসহায় তাহমিনার  চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এত অভাব-অনটনের মাঝে শিশু তাহমিনার চিকিৎসার ব্যয়বহুল খরচ যোগানো মা’র পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ওসমানী মেডিক্যালের ডাক্তার ওমর ফারুক জানিয়েছেন,  এখনই এই রোগের চিকিৎসা করানো না গেলে তাহমিনাকে বাচানো সম্ভব নয় । বিরল এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তাহমিনার মা মারুফা বেগম ও এলাকাবাসী। তাহমিনার দাদী কনর বিবি জানান এলাকার দানশীল ও সমাজের দয়ালু ব্যক্তিরা এগিয়ে আসলে আমার নাতীনকে বাঁচানো সম্ভব। আর না হয় আমরাই খাইয়া বাছরাম না তারে  ডাক্তার দেখামু কেমনে।
এনিয়ে স্থানীয় আহমেদ আজাদ মামুন একজন এই বিরল রোগি শিশুটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট করেন। পোষ্টটি প্রথমদিনেই ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সহযোগীতার আশ্বাস দিলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ নগদ টাকা প্রদান করেননি।
কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত তাহমিনাকে নিয়ে খুব অভাব অনটনে আছেন তার মা। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ভাতা প্রদানসহ যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়া সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। তাহমিনার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে চাইলে (বিকাশ পার্সনাল- ০১৭৩৭৪০১১০৫) এই নাম্বারে যোগাযোগ করে বিকাশে টাকা পাঠাতে পারেন।