ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিতর্ক চর্চাকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ কোথায় যাবে, তা অন্য রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের ঘোষণার পর সতর্ক মার্কিন বাহিনী হাওরের কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার হাওরে দুর্যোগ : কী হবে বিচার চাহিয়া বন্ধু আর আব্বুকে নিয়ে ব্রাজিলের খেলা দেখতেই বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছি ৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে হেলথ কার্ড, বিশেষায়িত হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবে অর্থপাচার

দুর্লভ আবাসিক পাখি চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০১৭
  • ৭৬১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাগানের পাশের চষা জমিতে নেমেই পাখিটি গলায় তুলল খুশির ডাক। তারপর কাচের চুড়ির টুংটাং শব্দের মতো মিষ্টি স্বরে ডাকল দু-তিনবার। অমনি ওদিক থেকেই দুলতে দুলতে উড়ে এসে এই পাখিটির সঙ্গিনী নামল মাটিতে। আহারে সুস্বাদু খাবার! গত রাতের ঝড়ে বাগানের কিনারার একখানা আমের ডাল পড়েছে মাটিতে, ওই ডালে ছিল লাসা পিঁপড়ার বড়সড় বাসা। মাটিতে পড়েই ভেঙে গেছে বাসা। অনেক ডিম আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। দুটিতে মিলে আনন্দ করে খেতে শুরু করল। লাসা পিঁপড়ারা কী আর খেতে দেয় সহজে! লেজ-পা ও ঠোঁট বেয়ে উঠে বিষ-কামড় বসাতে চায়। ডানা-ঠোঁট ও পা ঝাড়তে হয় বারবার। ওদিকে মরা নারকেলগাছের কোটরে ছানা আছে পাঁচটি। আজ এই খাবার দিয়েই পেট ভরানো যাবে ওদের। বাসাটি বানিয়েছিল নিজেরাই। বাসার গভীরতা ৪০-৬০ সেন্টিমিটার। তারপরেই না ডিমের চেম্বার। ডিম ফুটে ছানাও হয় ১২-১৫ দিনে।

মূল খাদ্য এদের পিঁপড়া, পিঁপড়ার রসালো সাদা ডিম, বাচ্চা উইপোকাসহ ওদের রস টসটসে ডিম-বাচ্চা, বিটল পোকা-কেঁচো, নানান রকম পোকামাকড়-লার্ভা ইত্যাদি। এ ছাড়া পান করে ফুলের মধুরেণু, তাল–খেজুরের রসসহ শিশিরকণা।

 আবাসিক এই পাখির নাম চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা। সবুজ ডোরা কাঠঠোকরা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Streak-throated woodpecker। বৈজ্ঞানিক নাম picus xanthopygaeus। দৈর্ঘ্য ৩০ সেন্টিমিটার। ওজন ১০০ গ্রাম। মাটিতে চলতে চলতে ক্লান্ত হলে এরা লেজের পালক মেলে দিয়ে, সেই শক্ত পালক মাটিতে ঠেকিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসার মতো বসতে পারে খাড়া হয়ে। লেজটাকে এরা তৃতীয় পা হিসেবে ব্যবহার করে। গাছের চেয়ে মাটিতেই থাকে বেশি।

পুরুষ পাখিটির মাথার চূড়া ও তালু শুকনো আলতার মতো লাল, লেজের গোড়ার উপরিভাগ ও পিঠে এক ছোপ করে হলুদ রং, পিঠ হলুদাভ সবুজ, কানের পাশটা চকচকে ছাই বাদামি, চিবুক ধূসরাভ সাদা। তাতে সরু সরু কালচে রেখা টানা। কালচে কমলা রঙের আভা থাকে ঘাড়ে। চোখের ওপর দিয়ে সাদাটে টান থাকে। বোজানো অবস্থায় পাখার প্রান্তদেশ সাদাটে বাদামি ছোপের সারির অপূর্ব বিন্যাস। গলা-বুক-পেটেও শিল্পীর বাদামি ডোরা ও ছিট-ছোপের আশ্চর্য চিত্রিত শিল্পকর্ম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক চর্চাকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী তথ্যমন্ত্রী

দুর্লভ আবাসিক পাখি চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা

আপডেট টাইম : ০৫:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাগানের পাশের চষা জমিতে নেমেই পাখিটি গলায় তুলল খুশির ডাক। তারপর কাচের চুড়ির টুংটাং শব্দের মতো মিষ্টি স্বরে ডাকল দু-তিনবার। অমনি ওদিক থেকেই দুলতে দুলতে উড়ে এসে এই পাখিটির সঙ্গিনী নামল মাটিতে। আহারে সুস্বাদু খাবার! গত রাতের ঝড়ে বাগানের কিনারার একখানা আমের ডাল পড়েছে মাটিতে, ওই ডালে ছিল লাসা পিঁপড়ার বড়সড় বাসা। মাটিতে পড়েই ভেঙে গেছে বাসা। অনেক ডিম আছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। দুটিতে মিলে আনন্দ করে খেতে শুরু করল। লাসা পিঁপড়ারা কী আর খেতে দেয় সহজে! লেজ-পা ও ঠোঁট বেয়ে উঠে বিষ-কামড় বসাতে চায়। ডানা-ঠোঁট ও পা ঝাড়তে হয় বারবার। ওদিকে মরা নারকেলগাছের কোটরে ছানা আছে পাঁচটি। আজ এই খাবার দিয়েই পেট ভরানো যাবে ওদের। বাসাটি বানিয়েছিল নিজেরাই। বাসার গভীরতা ৪০-৬০ সেন্টিমিটার। তারপরেই না ডিমের চেম্বার। ডিম ফুটে ছানাও হয় ১২-১৫ দিনে।

মূল খাদ্য এদের পিঁপড়া, পিঁপড়ার রসালো সাদা ডিম, বাচ্চা উইপোকাসহ ওদের রস টসটসে ডিম-বাচ্চা, বিটল পোকা-কেঁচো, নানান রকম পোকামাকড়-লার্ভা ইত্যাদি। এ ছাড়া পান করে ফুলের মধুরেণু, তাল–খেজুরের রসসহ শিশিরকণা।

 আবাসিক এই পাখির নাম চিত্রিত গলা কাঠঠোকরা। সবুজ ডোরা কাঠঠোকরা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Streak-throated woodpecker। বৈজ্ঞানিক নাম picus xanthopygaeus। দৈর্ঘ্য ৩০ সেন্টিমিটার। ওজন ১০০ গ্রাম। মাটিতে চলতে চলতে ক্লান্ত হলে এরা লেজের পালক মেলে দিয়ে, সেই শক্ত পালক মাটিতে ঠেকিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসার মতো বসতে পারে খাড়া হয়ে। লেজটাকে এরা তৃতীয় পা হিসেবে ব্যবহার করে। গাছের চেয়ে মাটিতেই থাকে বেশি।

পুরুষ পাখিটির মাথার চূড়া ও তালু শুকনো আলতার মতো লাল, লেজের গোড়ার উপরিভাগ ও পিঠে এক ছোপ করে হলুদ রং, পিঠ হলুদাভ সবুজ, কানের পাশটা চকচকে ছাই বাদামি, চিবুক ধূসরাভ সাদা। তাতে সরু সরু কালচে রেখা টানা। কালচে কমলা রঙের আভা থাকে ঘাড়ে। চোখের ওপর দিয়ে সাদাটে টান থাকে। বোজানো অবস্থায় পাখার প্রান্তদেশ সাদাটে বাদামি ছোপের সারির অপূর্ব বিন্যাস। গলা-বুক-পেটেও শিল্পীর বাদামি ডোরা ও ছিট-ছোপের আশ্চর্য চিত্রিত শিল্পকর্ম।