ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লিটনের ভাই যুবলীগ নেতা আইনজীবী গ্রেপ্তার নিয়ে তোলপাড়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০১৫
  • ৩৬১ বার

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার নিয়ে চলছে তোলপাড়। এর আগে কখনও জঙ্গি সন্দেহে কোন
আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিন জনের মধ্যে একজন ব্যারিস্টার। তাও আবার নারী। অপর দুজন তার সহকারী। তাদের গ্রেপ্তার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবীরা মানববন্ধন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমতিরি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তীব্র নিন্দা। আইনজীবী নেতারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীরা বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীর জামিন পেতে সহায়তা করতেন। তিন আইনজীবীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা নির্দোষ। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটা অবিশ্বাস্য। অন্য কোন কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে তারা জঙ্গিদের অর্থ সরবরাহকারী। তবে র‌্যাব বলছে, চট্টগ্রামভিত্তিক ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়েই এই তিন আইনজীবীর সন্ধান পান তারা। অর্থ লেনদেনের প্রমাণ হাতে নিয়েই তারা তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ছাড়া আগে গ্রেপ্তার হওয়া ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র কয়েক সদস্য আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতেও তাদের নাম বলেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে র‌্যাব-৭ এর চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৩ জনকে আমরা ৪ দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
গত মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের চেম্বার থেকে দুই কনিষ্ঠ সহকর্মীসহ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অপর দুজন হলেন মনিরুজ্জামান লিটন ও মাহাফুজ চৌধুরী বাপন। ব্যারিস্টার শাকিলার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বিএনপির সাবেক এমপি। জাতীয় সংসদের এক সময়ের হুইপও ছিলেন তিনি। শাকিলা নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক তিনি।
যোগাযোগ করা হলে শাকিলা ফারজানার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম মানবজমিনকে বলেন, ‘আমার মেয়ে কখনোই জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা সবসময় জঙ্গি কার্যক্রমকে হেইট (ঘৃণা) করি। আমার মেয়ে কোন পলিটিক্সের সঙ্গেও জড়িত ছিল না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। কেউ শত্রুতা করে তাকে ফাঁসিয়েছে।’ ওয়াহিদুল আলম বলেন, শাকিলা ব্যারিস্টার। তার কাছে বেইল (জামিন) করানোর অনেক লোকজন আসতো। সে অনেক বিনা পয়সায় আইনি সহায়তা করতো। আইনি সহায়তা দেয়াটা তার কাছে ব্রত ছিল। শুধু পয়সা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে সে আইন পেশায় যায়নি। আর তার বিরুদ্ধেই কিনা জঙ্গিদের কোটি টাকা দেয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, র‌্যাব যার কাছে টাকা পাঠানোর কথা বলছে তারা শাকিলার ক্লায়েন্ট। একসঙ্গে বেশ কয়েকজনকে জামিন করানোর জন্য হয়তো এসব টাকা ফি হিসেবে নিতে পারে। জামিন না করাতে পারায় টাকা আবার ফেরত দিয়েছে। এর সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আসে কোত্থেকে?
স্বজনেরা জানান, ওয়াহিদুল আলমের দুই মেয়ের মধ্যে শাকিলা বড়। চিটাগাং ইউনিভার্সিটি থেকে পড়া শেষ করে সে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে যায়। বছর পাঁচেক আগে সে দেশে ফিরে আসে। এরপর থেকে সে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করে আসছিল। তার সঙ্গে কয়েকজন জুনিয়রও কাজ করে। স্বজন সূত্র জানায়, শাকিলার স্বামী বাহাউদ্দিন একজন ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন। শাকিলা তার দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কে তার বাসা। ফারজানার চাচা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক নেতা সৈয়দ নেছার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে তার ভাতিজিকে মিথ্যা ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নাশকতার মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর জামিন করেছিলেন ফারজানা। এ কারণে জঙ্গিদের অর্থের যোগানাদাতা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে তাকে।
ব্যারিস্টার শাকিলার ফারজানার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় দুই জুনিয়র আইনজীবী। তাদের একজন হাসানুজ্জামান লিটন থাকেন মিরপুরের সি ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাসায়। গতকাল তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, লিটনের গ্রেপ্তারের খবরে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আত্মীয়স্বজনরা সবাই ঢাকায় এসেছেন। তারাও কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না লিটন জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। লিটনের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাবা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক টানা ৩০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর মারা যান তিনি। লিটনের বড় ভাই বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ভেড়ামারা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা পবন বলেন, এটা অসম্ভব। লিটন কখনোই জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। আমাদের পরিবারের সবাই জঙ্গিদের ঘৃণা করি। সোহেল রানা বলেন, এ ছাড়া সে এত টাকা কোথায় পাবে যে ৩১ লাখ টাকা জঙ্গিদের দান করবে। এত টাকা থাকলে আমরা ভাড়া বাসায় থাকি কেন? লিটনের আরেক ভাই জোসেফ বলেন, গত ৭ই আগস্ট বিয়ে করেছে লিটন। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি করে নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম করেছে। বছর দেড়েক হলো সে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার সঙ্গে কাজ করছে। মাসিক বেতন হিসেবে সে শাকিলা ফারজনার অফিসে কাজ করে। যদিও কোন টাকা পাঠিয়েও থাকে সেটা নিশ্চিত শাকিলা ফারজানার টাকা। কিন্তু এ টাকা জঙ্গিদের নাকি কোন ক্লায়েন্টের তা ওর জানার কথা নয়। লিটনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস। র‌্যাব অনুসন্ধান শেষে তাদের ভাইকে ছেড়ে দেবে। কোনভাবেই জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তাকে প্রমাণ করতে পারবে না।
গতকাল বিকালে কথা হয় ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার আরেক জুনিয়র মাহাফুজ চৌধুরী বাপনের পরিবারের সঙ্গেও। বাপন তার পরিবারের সঙ্গে থাকেন মিরপুরের বড়বাগের ৩১/৩/বি নম্বর বাসায়। বাপনের স্ত্রী লিনা বলেন, বাপন কোনভাবেই জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ও সম্পূর্ণ নির্দোষ। র‌্যাব বিনা কারণেই ওকে গ্রেপ্তার করেছে। বাপনের কোন ব্যাংক একাউন্টও নেই। একটা ব্যাংক একাউন্ট ছিল, সেটা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে আছে। লিনা জানান, নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি শেষ করে নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে এমএলএম করেছে। বাপনের মা মিসেস মাকসুদা চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে বাপনকে ব্যারিস্টারি পড়াতে পারিনি। সে এত টাকা পাবে কোথায়? ওকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সত্যটা বেড়িয়ে আসবে।
এদিকে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। আইনজীবীরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। এদের কেউ জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদে জড়িত আমি তা বিশ্বাস করতে পারি না। তবে এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের যে অভিযোগ, তা যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। গতকাল সভাপতির কার্যালয়ে খন্দকার মাহবুব এসব কথা বলেন। তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দেয়া দুঃখজনক। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা যদি এসব কথা বলে থাকেন তাহলে আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। কেননা এতে সব আইনজীবীকে অপমান করা হয়েছে।
বুধবার পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আলোচনা সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ব্যারিস্টার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা কি আমাদের জন্য একটা অশনি সংকেত নয়? আমরা আইনজীবীরা কোনদিনই চরমপন্থা বা সন্ত্রাসবাদের দিকে যাইনি। এটি নতুন দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তদন্তাধীন বিষয়। গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীরা দোষী না নির্দোষ তা বিচারে নির্ধারিত হবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এই মুহূর্তে তারা অপরাধ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিচ্ছি না। তবে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের অভিযোগে আইনজীবীদের গ্রেপ্তার হওয়াটাই দুঃখজনক। কারণ ইতিপূর্বে এ ধরনের অভিযোগে বারের কোন আইনজীবী গ্রেপ্তার হননি। তিনি বলেন, অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রাথমিক কোন এভিডেন্স না পেলে হয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে গ্রেপ্তার করত না। কারণ এখানে লেনদেনের বিষয়টি তো থাকতে হবে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, শাকিলা ফারজানা বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন। সামনে বার কাউন্সিলের নির্বাচন রয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা দাবি করছে র‌্যাব। এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এসব করে সরকার সবাইকে দমিয়ে রাখতে চায়।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এই ধরনের কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই ফারজানার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত অনেক মামলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আইনজীবী হয়ে কাজ করছেন তিনি। এই কারণে রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরে।
জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনজীবী নয়, তাদের দলীয় পরিচয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ওনাদের আইনজীবী হিসেবে দেখলে হবে না। ওনাদের একটি দলীয় পরিচয় আছে। সে হিসেবে এখানে দেখতে হবে। আর এ ঘটনায় আমি মর্মাহত।
সুপ্রিম কোর্ট বারের মানববন্ধন: ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। গতকাল বেলা সোয়া ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীরা। কর্মসূচিতে অর্ধ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা নিন্দনীয়। অবিলম্বে এই অভিযোগের দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হোক। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সহসভাপতি মোক্তার কবির খান, সহসম্পাদক মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী, সদস্য মির্জা আল মাহমুদ, আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, জসিম সরকার, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

লিটনের ভাই যুবলীগ নেতা আইনজীবী গ্রেপ্তার নিয়ে তোলপাড়

আপডেট টাইম : ১২:২৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০১৫

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার নিয়ে চলছে তোলপাড়। এর আগে কখনও জঙ্গি সন্দেহে কোন
আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিন জনের মধ্যে একজন ব্যারিস্টার। তাও আবার নারী। অপর দুজন তার সহকারী। তাদের গ্রেপ্তার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আইনজীবীরা মানববন্ধন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমতিরি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তীব্র নিন্দা। আইনজীবী নেতারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীরা বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীর জামিন পেতে সহায়তা করতেন। তিন আইনজীবীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা নির্দোষ। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটা অবিশ্বাস্য। অন্য কোন কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে তারা জঙ্গিদের অর্থ সরবরাহকারী। তবে র‌্যাব বলছে, চট্টগ্রামভিত্তিক ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়েই এই তিন আইনজীবীর সন্ধান পান তারা। অর্থ লেনদেনের প্রমাণ হাতে নিয়েই তারা তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ছাড়া আগে গ্রেপ্তার হওয়া ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডে’র কয়েক সদস্য আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতেও তাদের নাম বলেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে র‌্যাব-৭ এর চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৩ জনকে আমরা ৪ দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
গত মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের চেম্বার থেকে দুই কনিষ্ঠ সহকর্মীসহ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অপর দুজন হলেন মনিরুজ্জামান লিটন ও মাহাফুজ চৌধুরী বাপন। ব্যারিস্টার শাকিলার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম বিএনপির সাবেক এমপি। জাতীয় সংসদের এক সময়ের হুইপও ছিলেন তিনি। শাকিলা নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক তিনি।
যোগাযোগ করা হলে শাকিলা ফারজানার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম মানবজমিনকে বলেন, ‘আমার মেয়ে কখনোই জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমরা সবসময় জঙ্গি কার্যক্রমকে হেইট (ঘৃণা) করি। আমার মেয়ে কোন পলিটিক্সের সঙ্গেও জড়িত ছিল না। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। কেউ শত্রুতা করে তাকে ফাঁসিয়েছে।’ ওয়াহিদুল আলম বলেন, শাকিলা ব্যারিস্টার। তার কাছে বেইল (জামিন) করানোর অনেক লোকজন আসতো। সে অনেক বিনা পয়সায় আইনি সহায়তা করতো। আইনি সহায়তা দেয়াটা তার কাছে ব্রত ছিল। শুধু পয়সা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে সে আইন পেশায় যায়নি। আর তার বিরুদ্ধেই কিনা জঙ্গিদের কোটি টাকা দেয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, র‌্যাব যার কাছে টাকা পাঠানোর কথা বলছে তারা শাকিলার ক্লায়েন্ট। একসঙ্গে বেশ কয়েকজনকে জামিন করানোর জন্য হয়তো এসব টাকা ফি হিসেবে নিতে পারে। জামিন না করাতে পারায় টাকা আবার ফেরত দিয়েছে। এর সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আসে কোত্থেকে?
স্বজনেরা জানান, ওয়াহিদুল আলমের দুই মেয়ের মধ্যে শাকিলা বড়। চিটাগাং ইউনিভার্সিটি থেকে পড়া শেষ করে সে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে যায়। বছর পাঁচেক আগে সে দেশে ফিরে আসে। এরপর থেকে সে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করে আসছিল। তার সঙ্গে কয়েকজন জুনিয়রও কাজ করে। স্বজন সূত্র জানায়, শাকিলার স্বামী বাহাউদ্দিন একজন ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন। শাকিলা তার দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কে তার বাসা। ফারজানার চাচা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক নেতা সৈয়দ নেছার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে তার ভাতিজিকে মিথ্যা ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নাশকতার মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর জামিন করেছিলেন ফারজানা। এ কারণে জঙ্গিদের অর্থের যোগানাদাতা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে তাকে।
ব্যারিস্টার শাকিলার ফারজানার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় দুই জুনিয়র আইনজীবী। তাদের একজন হাসানুজ্জামান লিটন থাকেন মিরপুরের সি ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাসায়। গতকাল তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, লিটনের গ্রেপ্তারের খবরে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আত্মীয়স্বজনরা সবাই ঢাকায় এসেছেন। তারাও কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না লিটন জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। লিটনের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাবা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক টানা ৩০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর মারা যান তিনি। লিটনের বড় ভাই বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ভেড়ামারা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা পবন বলেন, এটা অসম্ভব। লিটন কখনোই জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। আমাদের পরিবারের সবাই জঙ্গিদের ঘৃণা করি। সোহেল রানা বলেন, এ ছাড়া সে এত টাকা কোথায় পাবে যে ৩১ লাখ টাকা জঙ্গিদের দান করবে। এত টাকা থাকলে আমরা ভাড়া বাসায় থাকি কেন? লিটনের আরেক ভাই জোসেফ বলেন, গত ৭ই আগস্ট বিয়ে করেছে লিটন। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি করে নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম করেছে। বছর দেড়েক হলো সে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার সঙ্গে কাজ করছে। মাসিক বেতন হিসেবে সে শাকিলা ফারজনার অফিসে কাজ করে। যদিও কোন টাকা পাঠিয়েও থাকে সেটা নিশ্চিত শাকিলা ফারজানার টাকা। কিন্তু এ টাকা জঙ্গিদের নাকি কোন ক্লায়েন্টের তা ওর জানার কথা নয়। লিটনের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস। র‌্যাব অনুসন্ধান শেষে তাদের ভাইকে ছেড়ে দেবে। কোনভাবেই জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তাকে প্রমাণ করতে পারবে না।
গতকাল বিকালে কথা হয় ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার আরেক জুনিয়র মাহাফুজ চৌধুরী বাপনের পরিবারের সঙ্গেও। বাপন তার পরিবারের সঙ্গে থাকেন মিরপুরের বড়বাগের ৩১/৩/বি নম্বর বাসায়। বাপনের স্ত্রী লিনা বলেন, বাপন কোনভাবেই জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ও সম্পূর্ণ নির্দোষ। র‌্যাব বিনা কারণেই ওকে গ্রেপ্তার করেছে। বাপনের কোন ব্যাংক একাউন্টও নেই। একটা ব্যাংক একাউন্ট ছিল, সেটা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে আছে। লিনা জানান, নিউ ক্যাসেল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি শেষ করে নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে এমএলএম করেছে। বাপনের মা মিসেস মাকসুদা চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে বাপনকে ব্যারিস্টারি পড়াতে পারিনি। সে এত টাকা পাবে কোথায়? ওকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সত্যটা বেড়িয়ে আসবে।
এদিকে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। আইনজীবীরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী। এদের কেউ জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদে জড়িত আমি তা বিশ্বাস করতে পারি না। তবে এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের যে অভিযোগ, তা যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। গতকাল সভাপতির কার্যালয়ে খন্দকার মাহবুব এসব কথা বলেন। তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দেয়া দুঃখজনক। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা যদি এসব কথা বলে থাকেন তাহলে আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। কেননা এতে সব আইনজীবীকে অপমান করা হয়েছে।
বুধবার পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আলোচনা সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ব্যারিস্টার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা কি আমাদের জন্য একটা অশনি সংকেত নয়? আমরা আইনজীবীরা কোনদিনই চরমপন্থা বা সন্ত্রাসবাদের দিকে যাইনি। এটি নতুন দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তদন্তাধীন বিষয়। গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবীরা দোষী না নির্দোষ তা বিচারে নির্ধারিত হবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এই মুহূর্তে তারা অপরাধ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিচ্ছি না। তবে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের অভিযোগে আইনজীবীদের গ্রেপ্তার হওয়াটাই দুঃখজনক। কারণ ইতিপূর্বে এ ধরনের অভিযোগে বারের কোন আইনজীবী গ্রেপ্তার হননি। তিনি বলেন, অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রাথমিক কোন এভিডেন্স না পেলে হয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে গ্রেপ্তার করত না। কারণ এখানে লেনদেনের বিষয়টি তো থাকতে হবে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, শাকিলা ফারজানা বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন। সামনে বার কাউন্সিলের নির্বাচন রয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে জঙ্গিদের অর্থের যোগানদাতা দাবি করছে র‌্যাব। এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এসব করে সরকার সবাইকে দমিয়ে রাখতে চায়।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার মানবজমিনকে জানিয়েছেন, এই ধরনের কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই ফারজানার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত অনেক মামলার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আইনজীবী হয়ে কাজ করছেন তিনি। এই কারণে রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরে।
জঙ্গিদের অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনজীবী নয়, তাদের দলীয় পরিচয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ওনাদের আইনজীবী হিসেবে দেখলে হবে না। ওনাদের একটি দলীয় পরিচয় আছে। সে হিসেবে এখানে দেখতে হবে। আর এ ঘটনায় আমি মর্মাহত।
সুপ্রিম কোর্ট বারের মানববন্ধন: ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। গতকাল বেলা সোয়া ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীরা। কর্মসূচিতে অর্ধ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা নিন্দনীয়। অবিলম্বে এই অভিযোগের দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হোক। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সহসভাপতি মোক্তার কবির খান, সহসম্পাদক মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী, সদস্য মির্জা আল মাহমুদ, আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, জসিম সরকার, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।