ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হলো মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রূপান্তরের অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপ্নযাত্রায় ধীরগতি তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন দেখা হবে রাজপথে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রীকে কর্নেল অলি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাজিতপুরে চলছে অবৈধ বালু তোলার ‘মহোৎসব’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৫০০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাজিতপুর শহরের এখানে-সেখানে এখন প্রায়ই চোখে পড়ে প্লাস্টিকের মোটা পাইপ। মূল সড়কের ওপর দিয়ে গেছে অনেক পাইপ। এসব পাইপের মাধ্যমে আসলে নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল আকারের লোড ড্রেজার আর বাল্কহেড নৌযান। এসব নৌযান সাত হাজার ঘনফুট পর্যন্ত বালু ধারণে সক্ষম। এই বালু দিয়ে অবাধে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর-ডোবা ও জলাশয়। প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে চলছে এ ‘মহোৎসব’।

বালু ব্যবসায় সম্পৃক্তরা জানায়, বাজিতপুর, নিকলী এবং মিঠামইনসহ কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ২০টি লোড ড্রেজার (বালু তোলার যন্ত্র) বসানো হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের তিন মাসে প্রতিটি লোড ড্রেজার এক থেকে সোয়া কোটি ঘনফুট বালু তুলেছে। হিসাব করে দেখা গেছে, তিন মাসে ২০টি লোড ড্রেজার দিয়ে তোলা বালুর পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা।

বাজিতপুর, নিকলী ও মিঠামইন ছাড়াও ইটনা, অষ্টগ্রাম, কুলিয়ারচর এবং ভৈরবসহ সর্বত্রই বালু তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। বিশেষ করে ঘোড়াউত্রা, ধনু, হাটুরিয়া, কোলাসহ বিভিন্ন নদী ও চরে অন্তত ২০টি ‘লোড’ ড্রেজার বসানো রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সূর্য ওঠার আগেই প্রতিটি লোড ড্রেজারের আশপাশে বাল্কহেড নৌযানের (বালু রাখার নৌযান) ভিড় জমে যায়। দিনব্যাপী চলে বালু পরিবহনের কাজ।

বালুর অবৈধ ব্যবসায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও এলাকাবাসী জানায়, নদীতে প্রকাশ্যে লোড ড্রেজার বসিয়ে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু তুলছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোকজন। এর আগে দু-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু বহনকারীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে ‘মূল কারিগর’রা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

নিকলীর ছাতিরচর গ্রামের পাশে বিলুপ্ত বিয়াতিরচরে অবৈধভাবে বালু তুলছে তিনটি লোড ড্রেজার। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক বাল্কহেড ভিড়ছে আর ড্রেজার দিয়ে বালু ভরে নিয়ে যাচ্ছে। ড্রেজারের লোকজন জানান, সাত হাজার ঘনফুট পর্যন্ত বালু ধারণে সক্ষম প্রতিটি নৌযান ভরতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে।

বালু তোলার এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে হাতে গোনা ১০-১২ জন। বিয়াতিরচরে একটি লোড ড্রেজার চালাচ্ছিলেন ভৈরবপুরের ওমর মিয়া।

আন্দোলন, অভিযোগ দায়ের : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও চরা থেকেও বালু তোলা হচ্ছে। বেপরোয়াভাবে বালু তোলায় ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্তরা বালু উত্তোলন বন্ধে আন্দোলন করছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগও জানিয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো প্রতিকার মেলেনি। গতকাল শুক্রবারও ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাজিতপুরের মাইজচর গ্রামবাসী।

প্রশাসনের বক্তব্য : কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস গতকাল হাওর বার্তাকে বলেন, ‘সরাসরি যারা বালু তোলার কাজে জড়িত থাকে, প্রথমে তাদেরই আইনের আওতায় আনা হয়। যে কারণে জেল-জরিমানা হয় তাদেরই। এখন এদের নেপথ্যে যদি কেউ থাকে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাজিতপুরে চলছে অবৈধ বালু তোলার ‘মহোৎসব’

আপডেট টাইম : ০৭:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাজিতপুর শহরের এখানে-সেখানে এখন প্রায়ই চোখে পড়ে প্লাস্টিকের মোটা পাইপ। মূল সড়কের ওপর দিয়ে গেছে অনেক পাইপ। এসব পাইপের মাধ্যমে আসলে নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল আকারের লোড ড্রেজার আর বাল্কহেড নৌযান। এসব নৌযান সাত হাজার ঘনফুট পর্যন্ত বালু ধারণে সক্ষম। এই বালু দিয়ে অবাধে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর-ডোবা ও জলাশয়। প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে চলছে এ ‘মহোৎসব’।

বালু ব্যবসায় সম্পৃক্তরা জানায়, বাজিতপুর, নিকলী এবং মিঠামইনসহ কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ২০টি লোড ড্রেজার (বালু তোলার যন্ত্র) বসানো হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের তিন মাসে প্রতিটি লোড ড্রেজার এক থেকে সোয়া কোটি ঘনফুট বালু তুলেছে। হিসাব করে দেখা গেছে, তিন মাসে ২০টি লোড ড্রেজার দিয়ে তোলা বালুর পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা।

বাজিতপুর, নিকলী ও মিঠামইন ছাড়াও ইটনা, অষ্টগ্রাম, কুলিয়ারচর এবং ভৈরবসহ সর্বত্রই বালু তোলার কর্মযজ্ঞ চলছে। বিশেষ করে ঘোড়াউত্রা, ধনু, হাটুরিয়া, কোলাসহ বিভিন্ন নদী ও চরে অন্তত ২০টি ‘লোড’ ড্রেজার বসানো রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সূর্য ওঠার আগেই প্রতিটি লোড ড্রেজারের আশপাশে বাল্কহেড নৌযানের (বালু রাখার নৌযান) ভিড় জমে যায়। দিনব্যাপী চলে বালু পরিবহনের কাজ।

বালুর অবৈধ ব্যবসায় জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও এলাকাবাসী জানায়, নদীতে প্রকাশ্যে লোড ড্রেজার বসিয়ে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু তুলছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোকজন। এর আগে দু-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু বহনকারীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে ‘মূল কারিগর’রা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

নিকলীর ছাতিরচর গ্রামের পাশে বিলুপ্ত বিয়াতিরচরে অবৈধভাবে বালু তুলছে তিনটি লোড ড্রেজার। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক বাল্কহেড ভিড়ছে আর ড্রেজার দিয়ে বালু ভরে নিয়ে যাচ্ছে। ড্রেজারের লোকজন জানান, সাত হাজার ঘনফুট পর্যন্ত বালু ধারণে সক্ষম প্রতিটি নৌযান ভরতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে।

বালু তোলার এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে হাতে গোনা ১০-১২ জন। বিয়াতিরচরে একটি লোড ড্রেজার চালাচ্ছিলেন ভৈরবপুরের ওমর মিয়া।

আন্দোলন, অভিযোগ দায়ের : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও চরা থেকেও বালু তোলা হচ্ছে। বেপরোয়াভাবে বালু তোলায় ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্তরা বালু উত্তোলন বন্ধে আন্দোলন করছে। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগও জানিয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো প্রতিকার মেলেনি। গতকাল শুক্রবারও ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাজিতপুরের মাইজচর গ্রামবাসী।

প্রশাসনের বক্তব্য : কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস গতকাল হাওর বার্তাকে বলেন, ‘সরাসরি যারা বালু তোলার কাজে জড়িত থাকে, প্রথমে তাদেরই আইনের আওতায় আনা হয়। যে কারণে জেল-জরিমানা হয় তাদেরই। এখন এদের নেপথ্যে যদি কেউ থাকে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।