ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেশি সুদের সঞ্চয়পত্রে সংস্কার আনার পরামর্শ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৪৯৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতির (জুলাই-ডিসেম্বর) কারণে বেসরকারি খাতে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে ঘোষিত মুদ্রানীতির এ বিশেষ সুযোগ নিতে শুরু করেছে। বেসরকারি খাত সহায়ক এমন মুদ্রানীতির কারণে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এ ছাড়া বেশি সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের অধিক ঋণ গ্রহণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ খাতে এখনই সংস্থার আনতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে মুদ্রানীতি (জুলাই-ডিসেম্বর) শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। কর্মশালায় ঘোষিত মুদ্রানীতি বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার সূচনা বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি খাত বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাবে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের জন্য মুদ্রানীতির বাইরে আরো কিছু বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বাজেটে ঘোষণা দিয়েও প্রয়োজন না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে না। সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি অর্থ নিচ্ছে। এত অর্থ নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক পর্যালোচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে অনেক বেশি অর্থ নেয়ার কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনেকে এর ওপর নির্ভরশীল সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ জন্য সঞ্চয়পত্রে সংস্কার আনা প্রয়োজন। গরিব এবং মধ্যবিত্তদের জন্য সেভিংস সার্টিফিকেট চালু করতে হবে। এতে সুদহার তুলনামূলক একটু বেশি রাখা যেতে পারে। অপর দিকে সেভিংস বন্ড হবে ধনীদের জন্য। এর সুদহার হবে ব্যাংক রেটের মতো করা যেতে পারে।

বিআইবিএমের এ চেয়ার প্রফেসর বলেন, প্রবৃদ্ধি শুধু অর্থ সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না। বিনিয়োগকারীরা গ্যাস-বিদ্যুৎ পেলে আরো বেশি বিনিয়োগ হবে। এক্ষেত্রে মুদ্রনীতি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্বাভাবিক নয়। এসব ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি প্রফেসর মো. ইয়াছিন আলী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বেশি সুদের সঞ্চয়পত্রে সংস্কার আনার পরামর্শ

আপডেট টাইম : ০৮:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতির (জুলাই-ডিসেম্বর) কারণে বেসরকারি খাতে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে ঘোষিত মুদ্রানীতির এ বিশেষ সুযোগ নিতে শুরু করেছে। বেসরকারি খাত সহায়ক এমন মুদ্রানীতির কারণে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এ ছাড়া বেশি সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের অধিক ঋণ গ্রহণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ খাতে এখনই সংস্থার আনতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে মুদ্রানীতি (জুলাই-ডিসেম্বর) শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। কর্মশালায় ঘোষিত মুদ্রানীতি বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার সূচনা বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সাল আহমেদ বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি খাত বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাবে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের জন্য মুদ্রানীতির বাইরে আরো কিছু বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বাজেটে ঘোষণা দিয়েও প্রয়োজন না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে না। সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি অর্থ নিচ্ছে। এত অর্থ নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক পর্যালোচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে অনেক বেশি অর্থ নেয়ার কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনেকে এর ওপর নির্ভরশীল সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ জন্য সঞ্চয়পত্রে সংস্কার আনা প্রয়োজন। গরিব এবং মধ্যবিত্তদের জন্য সেভিংস সার্টিফিকেট চালু করতে হবে। এতে সুদহার তুলনামূলক একটু বেশি রাখা যেতে পারে। অপর দিকে সেভিংস বন্ড হবে ধনীদের জন্য। এর সুদহার হবে ব্যাংক রেটের মতো করা যেতে পারে।

বিআইবিএমের এ চেয়ার প্রফেসর বলেন, প্রবৃদ্ধি শুধু অর্থ সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না। বিনিয়োগকারীরা গ্যাস-বিদ্যুৎ পেলে আরো বেশি বিনিয়োগ হবে। এক্ষেত্রে মুদ্রনীতি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্বাভাবিক নয়। এসব ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি প্রফেসর মো. ইয়াছিন আলী।