হাওর বার্তা ডেস্কঃ গাঁজা, হিরোইন, ইয়াবা যে যা খুশি করেন আমি আছি। শুধু আমার কমিশনটা হলে সব মাফ, এক ক্ষমতাধর ওসির গল্পই শুনাবো আজ। গল্প বললাম কারণ এদেশে এমন দাম্ভিক আর অসৎ পুলিশ অফিসার দেশে হাতে গোনা নেই বললেই চলে। তিনি যে প্রধানমন্ত্রীর নিকটজন পরিচয়ধারী। অসীম ক্ষমতার অধিকারী ওসি সিলেট কোম্পানিগঞ্জ থানার আলতাফ হোসেন।
তিনি যোগদানের পর থেকেই মাদক সহ সকল অন্যায় আর সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত কোম্পানিগঞ্জ। শুধু কি এই ওসি আলতাফ হোসেন হাইকোর্টের নিষেধ আমান্য করে অবৈধ বোমা মেশিন চালিয়ে যাচ্ছে ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীতে অবাধে চলছে দিন রাত। প্রতি বোমা মেশিন থেকে প্রতিদিন ১০,০০০/- (দশহাজার) টাকা করে কমিশন তার থানার।এই টাকা আদায়কারী বর্তমানে কনেস্টেবল ইয়াহিয়া খান।
প্রায় ৫০ শত’র অধিক বোমার মেশিন থেকে চলছে তার অবাধ উৎকোচ বানিজ্য। যে বোমা মেশিন দিয়ে মাটির গভীরে প্রায় ৪০০/৫০০ ফুট গভির থেকে পাথর তোলা হয় প্রতিনিয়ত। যার ফলে মাটির ভূগর্ভের ক্ষয় সহ বয়ে আনবে পরিবেশে মারাক্তক বিপর্যয়। এবং এই পাথর উত্তলনের ফলে শত শত মানুষের বাড়ীঘর ভেঙে অসহায় মানুষ ভীটা হাড়িয়ে পথে পথে চোখের জল ফেলছে। লোক দেখানো মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও আবার সব কিছুই চালু হয় স্বাভাবিক নিয়মে।
ওসি আলতাফ হরহামেশাই দাম্ভিকতার সাথে হুমকি দিয়ে অনেক কে বলেন কেউ কোন প্রতিবাদ করে কিছুই করতে পারবেনা আমার। আমি যতদিন আছি আমার মতই চলবে, আমি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় আপনারা যা ইচ্ছা তা করতে পারেন। শুধু আমার কমিশন চাই! এসপি, ডিসি, ডিআইজিও আমাকে বস মানে প্রয়োজনে ওদের সরিয়ে দেবো আমার কিছুই হবে না।
মাদক, মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিল, ভারতীয় বেড়ী, এগুলো সব কিছু আসুক চলুক, দেশের টাকা হবে, শুধু আমাকে একটু কমিশন বাড়িয়ে দেন। তবে একটু সাবধান বিজিপি (বর্ডার গার্ড) শুধু যেন না দেখে। এই হলো সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ থানার কর্তা ওসি আলতাফ সাহেবের কীর্তি!! কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির এই বেপরোয়া শক্তিতে মাদক ব্যাবসাহী সিন্ডিকেটের দপটে এলাকার জনগন এখন ভীতু প্রজা হয়ে বসবাস করছেন। কেউ কোন প্রতিবাদ করলে আক্রমণেরর স্বিকার হন মাদক ব্যাবসায়ী ও তাদের সহযোগিদের।
এর উদাহরণ সাপ্তাহিক যুগ যুগান্তরের সিলেট প্রতিনিধি মাহবুব আলম জীবন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার পিতাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে যায়। আক্রমণের স্বীকার হয়ে সিলেট উসমানি হাসপাতালে তিনি এখন চিকিৎসাধীন। এবং তাদের চাষের জমি দখল করে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। আরও অনেক অভিযোগে অভিযুক্ত এই ওসি আলতাফ এপর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা ও হয়েছে, তবুও কেউ কিছুই করতে পারবে না। তার ক্ষমতার উৎস কোথায় কে তার ক্ষমতার গডফাদার এই প্রশ্নের উত্তর মিলাতে হিমশিম সকল ভুক্তভোগী মহল।
আর থানায় মামলা করতে গেলে ত কথাই নেই, ওনি নিজেই বলেন বাটার জুতার রেট, থানার ইটেও পর্যন্ত জানে ও বলে ওসি সাহেবের এক রেট বাটার রেট! থানার দেয়ালও বলে ওসি সাহেবের এক কথা একশ কথার সমান তিনি কোম্পানিগঞ্জ এলাকার দুর্নীতিবাজ ফাটাকেষ্ট। থানার সকল ষ্টাফরা তার দাম্ভিকতা আর হুমকির কছে বোবা।
শুধু বুকভরা জল নিয়ে চাকুরী হারানোর চাকুরীর ভয়ে থানার কোন দারোগা বা স্টাফ কেউ কিছু বলতে পারেনা,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একজন স্টাফ বলেন থানায় কেউ কোন কাজে বা মামলা করতে আসলে সকল কর্মের রেট করে দেওয়া, দারোগারা বলে ভিকটিমকে, যে ভাই এক রেট আমার কিছু করার নেই। ওসিকে প্রতি মামলায় এজাহার বাবত ৩০/৪০ হাজার টাকা দিতেই হয়।ওসির নির্দেশ মামলা করলে আমাকে ঐ টাকা দিবা নাহলে কোন কাজ হবেনা। কোর্টে গেলেও কাজ হবেনা।
এ রকম বহু ঘটনা আছে কোর্ট থেকে অর্ডার আসলেও নিনি তার তোয়াক্কা না করেরে যেটা খুশি সেটাই করেন। থানার সকল দারোগারা নিরব থাকে, কেউ কোন প্রকার অভিযোগ নিয়ে এলেই বলে আমরা কিছু জানিনা সব কিছু ওসি জানে ওসি স্যার। তার খামখেয়ালি ও ক্ষমতার দাপটে অনেক দারেগা নিজের ইচ্ছায় অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়, কেউ কেউ বলেন আমার বাবাও মনে হয় দেখে নাই, ওসি আলতাফের ছত্রছায়ায় কোম্পানিগঞ্জ এখন মাদকে নগরীতে পরিনত হয়েছে। এই এলাকার সকল মাদক ব্যাবসায়ীদের ক্ষমতা সকল কিছুক ছাড়িয়ে গেছে। এই এলাকার জন মানুষের দাবী এই ওসি আলতাফ কে তার অপকর্মের জন্য তদন্ত বিভাগীয় সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার।
সুত্র: সমকাল
Reporter Name 






















