ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৪০৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় ৬ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১ জনসহ ৭ শ্রমিকের পরিবারে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম। একই সাথে তারা শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তারা এসব দাবি জানিয়েছেন।

তারা জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ৩ টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রায়পুরার গোখলনগরে লাল মিয়া ফিলিং স্টেশনে একটি চার চাকার লোহার উঁচু ট্রলি ছয় জন শ্রমিক একসঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে একপাশ থেকে অন্যপাশে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রলির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনে লেগে মূহুর্তেই জাকারিয়া মিয়া (২৬), বরকত হোসেন (১৮), হালিম মিয়া (৫০), আওয়াল মিয়া (২০), কাউছার (৩০) নামে পাঁচজন শ্রমিকের শরীর ঝলসে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল ফজল (৩০) কে ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

একই দিন দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নয়াদিল গ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িতে বালু ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুলতান মিয়া (৩২) নামের একজন শ্রমিক মারা গেছেন।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৭৮.ক ধারায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় বলা হয়েছে, শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতিত নিয়োগকারি কাউকেই কর্মে নিয়োগ করতে পারবে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়োগকারি প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে।

কিন্তু শ্রম আইনের এই বিধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করায় শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।

তারা শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে  ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

একইসাথে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করা, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি

আপডেট টাইম : ০৫:২১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় ৬ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১ জনসহ ৭ শ্রমিকের পরিবারে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম। একই সাথে তারা শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তারা এসব দাবি জানিয়েছেন।

তারা জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ৩ টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রায়পুরার গোখলনগরে লাল মিয়া ফিলিং স্টেশনে একটি চার চাকার লোহার উঁচু ট্রলি ছয় জন শ্রমিক একসঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে একপাশ থেকে অন্যপাশে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রলির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনে লেগে মূহুর্তেই জাকারিয়া মিয়া (২৬), বরকত হোসেন (১৮), হালিম মিয়া (৫০), আওয়াল মিয়া (২০), কাউছার (৩০) নামে পাঁচজন শ্রমিকের শরীর ঝলসে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল ফজল (৩০) কে ভৈরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

একই দিন দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নয়াদিল গ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িতে বালু ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুলতান মিয়া (৩২) নামের একজন শ্রমিক মারা গেছেন।

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৭৮.ক ধারায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় বলা হয়েছে, শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতিত নিয়োগকারি কাউকেই কর্মে নিয়োগ করতে পারবে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়োগকারি প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করবে।

কিন্তু শ্রম আইনের এই বিধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করায় শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।

তারা শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ এর মাধ্যমে  ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

একইসাথে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করা, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি সারাদেশে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।