ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া থেকে গম আমদানি করবে সরকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৫১২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের পর এক বন্যা, সেসঙ্গে খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব না হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে খাদ্য আমদানি করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে জি টু জি পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে দুই লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গম আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সরকারের ধান, চাল ও গম সংগ্রহ ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত মানুষের ত্রাণ সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কারণে খাদ্য ঘাটতি বেড়ে যায়।

এই বাস্তবতায় খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন চাল এবং ৫ লাখ টন গম।

সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে গম আমদানির প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের আগে তা অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্দেশ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে থাকে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দরপত্র/কোটেশনের পাশাপাশি জি টু জি পদ্ধতি অনুসরণ  করা হয়। জি টু জি পদ্ধতিতে আমদানির লক্ষ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের এমওইউ রয়েছে। ২০১৩-১৪  অর্থবছরে রাশিয়া থেকে এ চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে সর্বশেষ দুই লাখ টন গম আমদানি করা হয়।

রাশিয়া ফেডারেশনের মনোনীত প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিংটর্গ আবার গম সরবরাহের জন্য গত মে মাসে সরকারের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে চিঠি দেয়। সরকারের সাড়া পেয়ে জেএসসি প্রডিংটগ এর একটি প্রতিনিধিদল গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সঙ্গে তারা বৈঠক করে গমের পরিমাণ এবং দাম নির্ধারণ করে।

বৈঠকে দুই লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রতি টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয় ২৫২ ডলার। সে হিসেবে দুই লাখ টন গম আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৪১৮ কোটি টাকা। আগামী অক্টোবর মাসে রাশিয়া সরকার বাংলাদেশকে এ গম সরবরাহ করবে। চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর দিয়ে এ গম আমদানি করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া থেকে গম আমদানি করবে সরকার

আপডেট টাইম : ০৮:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একের পর এক বন্যা, সেসঙ্গে খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব না হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে খাদ্য আমদানি করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে জি টু জি পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে দুই লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গম আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

চলতি বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সরকারের ধান, চাল ও গম সংগ্রহ ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত মানুষের ত্রাণ সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কারণে খাদ্য ঘাটতি বেড়ে যায়।

এই বাস্তবতায় খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন চাল এবং ৫ লাখ টন গম।

সূত্র জানায়, রাশিয়া থেকে গম আমদানির প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের আগে তা অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্দেশ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে থাকে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দরপত্র/কোটেশনের পাশাপাশি জি টু জি পদ্ধতি অনুসরণ  করা হয়। জি টু জি পদ্ধতিতে আমদানির লক্ষ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের এমওইউ রয়েছে। ২০১৩-১৪  অর্থবছরে রাশিয়া থেকে এ চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে সর্বশেষ দুই লাখ টন গম আমদানি করা হয়।

রাশিয়া ফেডারেশনের মনোনীত প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিংটর্গ আবার গম সরবরাহের জন্য গত মে মাসে সরকারের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে চিঠি দেয়। সরকারের সাড়া পেয়ে জেএসসি প্রডিংটগ এর একটি প্রতিনিধিদল গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সঙ্গে তারা বৈঠক করে গমের পরিমাণ এবং দাম নির্ধারণ করে।

বৈঠকে দুই লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রতি টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয় ২৫২ ডলার। সে হিসেবে দুই লাখ টন গম আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৪১৮ কোটি টাকা। আগামী অক্টোবর মাসে রাশিয়া সরকার বাংলাদেশকে এ গম সরবরাহ করবে। চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর দিয়ে এ গম আমদানি করা হবে।