ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহমা জাতের গরু মেটাবে মাংসের চাহিদা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭
  • ৩১০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখিপুরে বাড়ছে ‘ব্রাহমা’ জাতের গরু পালন। এ জাতের ষাঁড়ের মাত্র ৩ বছর বয়সে ওজন হয় এক টন। যে হারে এ ব্রাহমা জাতের গরু পালন বাড়ছে তাতে দেশের সিংহভাগ মাংসের চাহিদা পূরণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের মাংসের ঘাটতি দূর করার জন্য ২০০৮ সালে আমেরিকা থেকে উন্নত ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন (বীর্য) নিয়ে এসে নির্বাচিত দেশীয় জাতের গাভীকে প্রজনন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এ জাতের গরু উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। এ উপজেলায় ২০০ খামারিকে নির্বাচন করে ৫ শতাধিক গাভীকে প্রজনন দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে ১৫০টি বাছুর জন্মেছে। দুই থেকে আড়াই বছরের বাছুরের ওজন হবে ৭৪০ থেকে ৭৬০ কেজি। এ জাতের গরুর এক বছরের মধ্যে দেশি গরুর চেয়ে তিনগুণ বেশি মাংস হয়। সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের আখতার হোসেন ব্রাহমা জাতের গরু পালন করছেন। তার ২ বছর ৪ মাস বয়সী ষাঁড় বাছুরটির ওজন হয়েছে ৭৬০ কেজি। তিনি বলেন, ষাঁড়টি খুবই শান্ত স্বভাবের। পড়াশোনার ফাঁকে আমার ছেলেমেয়েরা ওই ষাঁড়ের খাবার-দাবার আর যত্ন করেন। তিনি আরও বলেন, দেশি গরুর মতো এ গরু সবকিছুই খায়। আমার ষাঁড় গরুটি দেখার জন্য প্রায়ই টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী থেকে মানুষ আসেন।
ওই গ্রামের নূরুল ইসলামের ২ বছর ৩ মাস বয়সী ষাঁড়ের ওজন হয়েছে ৭৪০ কেজি। প্রতিমা বংকী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ষাঁড়ের ওজন হয়েছে ৬৮০ কেজি। সানবান্ধা গ্রামের আবদুর রহমান তালুকদারের গরুর ওজন হয়েছে ৬৪০ কেজি, সখীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের গরুর ওজন হয়েছে ৬৪৫ কেজি।
এ ব্যাপারে সখিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, খামারিদের মাঝে ওষুধপত্র, ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করছি। ১৮ মাস পর এ গরুর মাংস খাওয়ার উপযোগী হবে। খামারিরা এ গরু লালন-পালন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। ব্রাহমা জাতের গরু পালনে দেশে আমিষের ঘাটতি পূূরণে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, ৩ বছর বয়সী একটন ওজনের ষাঁড় কিংবা বকনা গরু খামারিরা ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহমা জাতের গরু মেটাবে মাংসের চাহিদা

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখিপুরে বাড়ছে ‘ব্রাহমা’ জাতের গরু পালন। এ জাতের ষাঁড়ের মাত্র ৩ বছর বয়সে ওজন হয় এক টন। যে হারে এ ব্রাহমা জাতের গরু পালন বাড়ছে তাতে দেশের সিংহভাগ মাংসের চাহিদা পূরণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের মাংসের ঘাটতি দূর করার জন্য ২০০৮ সালে আমেরিকা থেকে উন্নত ব্রাহমা জাতের গরুর সিমেন (বীর্য) নিয়ে এসে নির্বাচিত দেশীয় জাতের গাভীকে প্রজনন করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ‘বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এ জাতের গরু উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। এ উপজেলায় ২০০ খামারিকে নির্বাচন করে ৫ শতাধিক গাভীকে প্রজনন দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে ১৫০টি বাছুর জন্মেছে। দুই থেকে আড়াই বছরের বাছুরের ওজন হবে ৭৪০ থেকে ৭৬০ কেজি। এ জাতের গরুর এক বছরের মধ্যে দেশি গরুর চেয়ে তিনগুণ বেশি মাংস হয়। সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের আখতার হোসেন ব্রাহমা জাতের গরু পালন করছেন। তার ২ বছর ৪ মাস বয়সী ষাঁড় বাছুরটির ওজন হয়েছে ৭৬০ কেজি। তিনি বলেন, ষাঁড়টি খুবই শান্ত স্বভাবের। পড়াশোনার ফাঁকে আমার ছেলেমেয়েরা ওই ষাঁড়ের খাবার-দাবার আর যত্ন করেন। তিনি আরও বলেন, দেশি গরুর মতো এ গরু সবকিছুই খায়। আমার ষাঁড় গরুটি দেখার জন্য প্রায়ই টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী থেকে মানুষ আসেন।
ওই গ্রামের নূরুল ইসলামের ২ বছর ৩ মাস বয়সী ষাঁড়ের ওজন হয়েছে ৭৪০ কেজি। প্রতিমা বংকী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ষাঁড়ের ওজন হয়েছে ৬৮০ কেজি। সানবান্ধা গ্রামের আবদুর রহমান তালুকদারের গরুর ওজন হয়েছে ৬৪০ কেজি, সখীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের গরুর ওজন হয়েছে ৬৪৫ কেজি।
এ ব্যাপারে সখিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, খামারিদের মাঝে ওষুধপত্র, ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করছি। ১৮ মাস পর এ গরুর মাংস খাওয়ার উপযোগী হবে। খামারিরা এ গরু লালন-পালন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। ব্রাহমা জাতের গরু পালনে দেশে আমিষের ঘাটতি পূূরণে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, ৩ বছর বয়সী একটন ওজনের ষাঁড় কিংবা বকনা গরু খামারিরা ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।