ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

করিমগঞ্জে জেসি চারকল কারখানা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৫
  • ৭৫৬ বার

করিমগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য জেসি চারকল নামের একটি কার্বন কারখানার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল করেছে এলাকাবাসী। শনিবার ১১টায় বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিবাদল উপেক্ষা করে শত শত নারী-পুরুষ-শিশু এ সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেয়।

পরিবেশ প্রতিবেশ সামাজিক আন্দোলন নামে স্থানীয় একটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে।

করিমগঞ্জ পৌর এলাকার আয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে কার্বন কারখানার ক্ষতিকর দিক বিষয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে যোগ দেয় বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার নারী-মানুষ। তারা এ সময় শিল্প কারখানা চাই, তবে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কারখানা চাই না-এ ধরণের বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, লোকালয়ে কৃষি জমির ওপর জেসি চারকল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে যে চারকল ও কার্বন পাউডারের কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে তা পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকি বয়ে আনবে। এ কারখানার নির্গত কার্বন ও বর্জ্যে আক্রান্ত হবে আয়লাসহ পাঁচটি গ্রামের কৃষিজীবী মানুষ, ফসলি জমি, পরিবেশ-প্রতিবেশ ও প্রকৃতি।

কাজেই বিপজ্জনক এ কারখানার কাজ বন্ধ করতে হবে। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি তৈরি হলে ফসলি জমি উর্বরা শক্তি হারাবে, কৃষক-শ্রমিক হারাবে তার স্বাভাবিক শ্রম ও কর্মক্ষমতা। শিশু ও বৃদ্ধসহ সকল বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে এবং তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে জনপদের মানুষ ও প্রাণিকূল।

সেই সাথে বায়ূমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি গাছপালাও মরে যাবে। ব্যাহত হবে সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত এলাকার আর্থ-সামাজিক জীবন। স্থানীয় কৃষক আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি কফিল আহমেদ, কবি শ্মশান ঠাকুর, শরিফ উদ্দিন মোজাহিদ, পৌর কাউন্সিলর ওসমান গণি, হাবিবুর রহমান বিপ্লব, আবু সুফিয়ান, মিজানুর রহমান ও রিয়াজুল ইসলাম।

সমাবেশ শেষ একটি মিছিল সমাবেশ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে এর আগে গত ২৩ জুলাই উক্ত দাবীতে এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে মৌন মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেয়।

স্মারকলিপিতে প্রশাসনের কাছে এ কারখানা বন্ধের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে আজো প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরে ব্যাপকহারে প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌর এলাকার আয়লা গ্রামে জেসি চারকল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি চারকল ও কার্বন পাউডার তৈরির একটি কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেন এরশাদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে এর আবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে পরিবেশ, কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এলাকাবাসী এ কারখানার কাজ বন্ধে আন্দোলনে নামে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

করিমগঞ্জে জেসি চারকল কারখানা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল

আপডেট টাইম : ১১:০১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৫

করিমগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য জেসি চারকল নামের একটি কার্বন কারখানার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল করেছে এলাকাবাসী। শনিবার ১১টায় বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিবাদল উপেক্ষা করে শত শত নারী-পুরুষ-শিশু এ সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেয়।

পরিবেশ প্রতিবেশ সামাজিক আন্দোলন নামে স্থানীয় একটি পরিবেশবাদী সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে।

করিমগঞ্জ পৌর এলাকার আয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে কার্বন কারখানার ক্ষতিকর দিক বিষয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে যোগ দেয় বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার নারী-মানুষ। তারা এ সময় শিল্প কারখানা চাই, তবে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কারখানা চাই না-এ ধরণের বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, লোকালয়ে কৃষি জমির ওপর জেসি চারকল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে যে চারকল ও কার্বন পাউডারের কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে তা পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক হুমকি বয়ে আনবে। এ কারখানার নির্গত কার্বন ও বর্জ্যে আক্রান্ত হবে আয়লাসহ পাঁচটি গ্রামের কৃষিজীবী মানুষ, ফসলি জমি, পরিবেশ-প্রতিবেশ ও প্রকৃতি।

কাজেই বিপজ্জনক এ কারখানার কাজ বন্ধ করতে হবে। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটি তৈরি হলে ফসলি জমি উর্বরা শক্তি হারাবে, কৃষক-শ্রমিক হারাবে তার স্বাভাবিক শ্রম ও কর্মক্ষমতা। শিশু ও বৃদ্ধসহ সকল বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটবে এবং তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে জনপদের মানুষ ও প্রাণিকূল।

সেই সাথে বায়ূমন্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি গাছপালাও মরে যাবে। ব্যাহত হবে সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত এলাকার আর্থ-সামাজিক জীবন। স্থানীয় কৃষক আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি কফিল আহমেদ, কবি শ্মশান ঠাকুর, শরিফ উদ্দিন মোজাহিদ, পৌর কাউন্সিলর ওসমান গণি, হাবিবুর রহমান বিপ্লব, আবু সুফিয়ান, মিজানুর রহমান ও রিয়াজুল ইসলাম।

সমাবেশ শেষ একটি মিছিল সমাবেশ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে এর আগে গত ২৩ জুলাই উক্ত দাবীতে এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে মৌন মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ দাবিতে একটি স্মারকলিপি দেয়।

স্মারকলিপিতে প্রশাসনের কাছে এ কারখানা বন্ধের দাবি জানানো হয়। বক্তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে আজো প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরে ব্যাপকহারে প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌর এলাকার আয়লা গ্রামে জেসি চারকল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি চারকল ও কার্বন পাউডার তৈরির একটি কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেন এরশাদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে এর আবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে পরিবেশ, কৃষি জমি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এলাকাবাসী এ কারখানার কাজ বন্ধে আন্দোলনে নামে।