ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

ঐতিহ্য ও ইসলামী স্থাপত্যশিল্পে নির্মিত হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৪৭ বার

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় অবস্থিত ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের ছোঁয়ায় নির্মিত অন্যতম এক মসজিদ ‘হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ’। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ। মসজিদের অপূর্ব নির্মাণশৈলীর জন্য স্থানীয়দের কাছে তো বটেই, পর্যটকের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রতি শুক্রবার জেলা ও জেলার বাইরে থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য ছুটে আসেন এই মসজিদে।

জানা যায়, বাংলা ১৩৬৫ সালে বাগমারী পীর হিসেবে পরিচিত চিশতিয়া তরিকার অন্যতম পীর হজরত আবদল গফুর চিশতির (রহ.) নির্দেশে মাওলানা আবদুল খালেক চিশতির তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মিত হয়। নকশা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হজরত আবদুল কাদের ।

মসজিদটির বড় বৈশিষ্ট্য এর অবকাঠামোগত নির্মাণ কৌশলী। মসজিদের বাইরের দেয়ালে রয়েছে পোড়ামাটি, কাঁচ ও চীনামাটির টুকরার সমন্বয়ে বিভিন্ন নকশা খোদাই করা। দিনে যখন সূর্যের আলো মসজিদের দেয়ালে পড়ে, তখন ফুটে ওঠে এর প্রকৃত সৌন্দর্য। সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠা মসজিদের নজরকাড়া রূপ মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মসজিদের কক্ষের দৈর্ঘ্য ৪৯.৫০ ফুট ও প্রস্থ ২২.৫০ ফুট।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের কথা চিন্তা করে মসজিদে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি গম্বুজ। এর মধ্যে বড় একটি ও চারপাশে চারটি ছোট গম্বুজ। রড ছাড়াই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে ৪০ ফুট লম্বা মিনার। মিনারটির নিচে একটি ছোট কক্ষ রয়েছে যেখান থেকে আজান দেওয়া হয়। মসজিদটিতে অনুসরণ করা হয়েছে মুঘল স্থাপত্যরীতি।

হজরত শাহ সুলতান বলখির চারজন শিষ্য, যারা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে এসেছিলেন, তাদের মাজার রয়েছে মসজিদের পূর্বপাশে। চারটি মাজারের মধ্যে দুটির পরিচয় জানা গেলেও বাকি দুটি অজানা। পরিচয় জানা মাজার দুটির একটি শাহ কালামজি এবং অন্যটি শাহ এলেমজির। সাধারণ কবর থেকে এ কবরগুলো অনেক লম্বা। প্রতি শুক্রবার তো বটেই, সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে মসজিদ প্রাঙ্গণে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

ঐতিহ্য ও ইসলামী স্থাপত্যশিল্পে নির্মিত হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ

আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় অবস্থিত ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের ছোঁয়ায় নির্মিত অন্যতম এক মসজিদ ‘হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ’। জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ১৫ কিমি দূরে ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ। মসজিদের অপূর্ব নির্মাণশৈলীর জন্য স্থানীয়দের কাছে তো বটেই, পর্যটকের কাছেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রতি শুক্রবার জেলা ও জেলার বাইরে থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য ছুটে আসেন এই মসজিদে।

জানা যায়, বাংলা ১৩৬৫ সালে বাগমারী পীর হিসেবে পরিচিত চিশতিয়া তরিকার অন্যতম পীর হজরত আবদল গফুর চিশতির (রহ.) নির্দেশে মাওলানা আবদুল খালেক চিশতির তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মিত হয়। নকশা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হজরত আবদুল কাদের ।

মসজিদটির বড় বৈশিষ্ট্য এর অবকাঠামোগত নির্মাণ কৌশলী। মসজিদের বাইরের দেয়ালে রয়েছে পোড়ামাটি, কাঁচ ও চীনামাটির টুকরার সমন্বয়ে বিভিন্ন নকশা খোদাই করা। দিনে যখন সূর্যের আলো মসজিদের দেয়ালে পড়ে, তখন ফুটে ওঠে এর প্রকৃত সৌন্দর্য। সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠা মসজিদের নজরকাড়া রূপ মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মসজিদের কক্ষের দৈর্ঘ্য ৪৯.৫০ ফুট ও প্রস্থ ২২.৫০ ফুট।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের কথা চিন্তা করে মসজিদে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি গম্বুজ। এর মধ্যে বড় একটি ও চারপাশে চারটি ছোট গম্বুজ। রড ছাড়াই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে ৪০ ফুট লম্বা মিনার। মিনারটির নিচে একটি ছোট কক্ষ রয়েছে যেখান থেকে আজান দেওয়া হয়। মসজিদটিতে অনুসরণ করা হয়েছে মুঘল স্থাপত্যরীতি।

হজরত শাহ সুলতান বলখির চারজন শিষ্য, যারা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে এসেছিলেন, তাদের মাজার রয়েছে মসজিদের পূর্বপাশে। চারটি মাজারের মধ্যে দুটির পরিচয় জানা গেলেও বাকি দুটি অজানা। পরিচয় জানা মাজার দুটির একটি শাহ কালামজি এবং অন্যটি শাহ এলেমজির। সাধারণ কবর থেকে এ কবরগুলো অনেক লম্বা। প্রতি শুক্রবার তো বটেই, সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে মসজিদ প্রাঙ্গণে।