হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘পরিবার পরিকল্পনা: জনগণের ক্ষমতায়ন, জাতির উন্নয়ন।’ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা ইত্যাদি।
রাজধানীতে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের ক্ষমতায়ন জরুরি। যেকোনো দেশের অগ্রগতির পূর্বশর্ত পরিবার পরিকল্পনা। ছোট পরিবার দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অগ্রগামী শিক্ষার মাধ্যমে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, তার সরকার দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও অন্যান্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে কিশোরী, শিশু ও নারী স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবায় গৃহীত সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যে জাতির সামগ্রিক উন্নয়নকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যে উন্নয়ন আসবে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে।
এদিকে, আগামী ৪০ বছর পর দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এমন বিপরীত চিত্রের আশা করা হলেও এ মুহূর্তে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এসজিডি অর্জনে ২০১২ সালে বৈশ্বিক পরিবার পরিকল্পনা বা এফপি ২০২০ উদ্যোগে অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ সরকার। ওই উদ্যোগে বাংলাদেশকে কয়েকটি কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা ২০২০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে।
এ মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য এক সম্মেলনে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী বাধাগুলো যাচাই করা হবে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।লক্ষ্যগুলো হলো ২০২০ সালের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার (টিএফআর) ২ দশমিক শূন্যে নামিয়ে আনা। পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা (আনমেইড নিড) ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীদের ঝরে পড়ার হার ৩০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা। গর্ভনিরোধ ব্যবহারকারীদের হার (সিপিআর) ৬২ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীতকরণ। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (এলএপিএম) গ্রহণের হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশে উন্নীতকরণ।
তবে সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে জন্মহার ছিল ২ দশমিক ৩। ২০১৪ সালে তা একই সূচকে অবস্থান করে। ওই সময় পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা ছিল ১৩ দশমিক ৫, দুই বছর পর ১২ দশমিক। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীদের ঝরে পড়ার হার ৩৬ থেকে ২০১৪ সালে ৩০-এ নামে। গর্ভনিরোধ ব্যবহারকারীদের হার ২০১২ সালে ছিল ৬১। দুই বছর পর তা ৬২ দশমিক ৪-এ উন্নীত হয়।
পরিবার পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৮ বছরের অঙ্গীকারের ৫ বছর শেষ হতে চলেছে। সময় আছে ৩ বছর। সে অনুযায়ী আগেকার বছরের সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মধ্যে বিশাল ব্যবধান। এটা এসজিডি অর্জনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।
তবে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৯৪ সালের পর যেভাবে পরিবার পরিকল্পনায় অগ্রগতি হয় তাতে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব ছিল। কিন্তু গত দুই দশকে প্রান্তিকপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনার সেবা পৌঁছায় না। নবদম্পতিদের ঘরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের ২ মাসে একবার পরিদর্শন করার কথা। রেজিস্টারে সেসব তথ্য লিপিবদ্ধ থাকবে। কিন্তু কর্মীরা লিপিবদ্ধ করেন ঠিকই, মাঠে যান না। তারা ব্যস্ত থাকেন ইপিআই, কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে। এতে ৪৫ শতাংশ দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রতিবছর অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের সংখ্যা ১৩ লাখ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
Reporter Name 






















