ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫
  • ৭৪৮ বার

ছোটবেলায় কাগজ দিয়ে নৌকা তো অনেকেই বানিয়েছেন৷ বড় হয়ে বানিয়েছেন? না, না, ছোট নয়৷ রীতিমতো যাত্রিবাহী নৌকা বানিয়েছেন কখনো? জার্মানির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী যা করে দেখালো, তা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো৷ গত বছর থেকে ব্রেমারহাফেনের মেরিটাইম মিউজিয়ামে কাগজ আর কার্ডবোর্ড নিয়ে নৌকা বানানো শুরু করেছিল তারা৷ সঙ্গে অবশ্য নৌকা তৈরিতে পারদর্শী আক্সেল ডোরমানও ছিলেন৷ তাঁর তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীরাই বেশির ভাগ কাজ করেছে৷ কষ্ট হয়েছে, সময়ও লেগেছে অনেক৷ তৈরি শেষ হলে ক্রেনে উঠিয়ে নৌকাটি নিয়ে আসা হয় নদীতে৷

‘নঙর ছাড়িয়া নায়ের দে রে দে মাঝি…’

নৌকা বানিয়ে রেখে দিলে তো হবে না৷ ওরা কাগজ আর কার্ডবোর্ড দিয়ে নৌকাটা বানিয়েছে তো ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য৷ অবশেষে এলো সেই দিন৷ আক্সেল ডোরমান এবং মেরিটাইম মিউজিয়ামের কর্মকর্তা গেরো ক্লেমকে-কে সঙ্গে নিয়ে পাক্কা মাঝিদের মতো নৌকা ভাসালো দশজন কিশোর-কিশোরী৷কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

তিন বছরের পরিকল্পনা

কাগজের নৌকা আগেও বানানো হয়েছে৷ তবে সেগুলো ছিল ছোট এবং স্বল্পস্থায়ী৷ সপ্তাহখানেক পানিতে রাখার পর আপনা-আপনিই নৌকার নানা অংশ ভিজে খসে খসে পড়তো৷ এবারের নৌকা সেগুলোর চেয়ে বড়৷ শুধু তাই নয়, ৩ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ এই নৌকা টিকবেও বেশি দিন৷ গেরো ক্লেমকে আশা করছেন, তিন বছর অন্তত টিকবে এটি এবং মাঝে মাঝে এটা পানিতে ভেসেও বেড়াবে৷

যেভাতে তৈরি হলো….

প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা নৌকাটি তৈরি করাটা ছিল বড় রকমের চ্যালেঞ্জের মতো৷ আক্সেল ডোরমান এবং গেরো ক্লেমকে-র নেতৃত্ব এবং প্রেরণায় সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলও হয়েছে গোর্চ-ফোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

৯ হাজার কাগজ আর ৮০টি বোর্ড

নৌকার কাঠামোর একটি অংশ অবশ্য কাঠ দিয়ে তৈরি৷ কাঠ একেবারেই ব্যবহার না করলে তো নৌকাটি মানুষের ওজনই নিতে পারতো না৷ যা হোক, ওই কয়েক টুকরো কাঠের বাইরে আর কী লেগেছে জানেন? খবরের কাগজের ৯ হাজারটি পৃষ্ঠা এবং ৮০ টুকরা ধূসর রঙের কার্ডবোর্ড৷ ছবিতে ক্লেমকে-র সঙ্গে কাগজে কাগজ জোড়া দিচ্ছে লিয়া৷

কর্মযজ্ঞ

নৌকা তৈরির মূল কাজটা হয়েছে মেরিটাইম মিউজিয়ামের এই কক্ষে৷ এখানেই ৯ হাজার কাগজে আঠা লাগিয়ে লাগিয়ে দাঁর করানো হয় মূল কাঠামো৷ কাগজের ৩৪টি স্তর আঠা দিয়ে লাগিয়ে তৈরি করা হয় নৌকাটি৷ তৈরি শেষে নির্ধারিত দিনে ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রেমারহাফেন শহরের নদীতে৷ আর তারপর? সেই আনন্দভ্রমণ! ।ডচভেলে।কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

আপডেট টাইম : ০৬:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০১৫

ছোটবেলায় কাগজ দিয়ে নৌকা তো অনেকেই বানিয়েছেন৷ বড় হয়ে বানিয়েছেন? না, না, ছোট নয়৷ রীতিমতো যাত্রিবাহী নৌকা বানিয়েছেন কখনো? জার্মানির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী যা করে দেখালো, তা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো৷ গত বছর থেকে ব্রেমারহাফেনের মেরিটাইম মিউজিয়ামে কাগজ আর কার্ডবোর্ড নিয়ে নৌকা বানানো শুরু করেছিল তারা৷ সঙ্গে অবশ্য নৌকা তৈরিতে পারদর্শী আক্সেল ডোরমানও ছিলেন৷ তাঁর তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীরাই বেশির ভাগ কাজ করেছে৷ কষ্ট হয়েছে, সময়ও লেগেছে অনেক৷ তৈরি শেষ হলে ক্রেনে উঠিয়ে নৌকাটি নিয়ে আসা হয় নদীতে৷

‘নঙর ছাড়িয়া নায়ের দে রে দে মাঝি…’

নৌকা বানিয়ে রেখে দিলে তো হবে না৷ ওরা কাগজ আর কার্ডবোর্ড দিয়ে নৌকাটা বানিয়েছে তো ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য৷ অবশেষে এলো সেই দিন৷ আক্সেল ডোরমান এবং মেরিটাইম মিউজিয়ামের কর্মকর্তা গেরো ক্লেমকে-কে সঙ্গে নিয়ে পাক্কা মাঝিদের মতো নৌকা ভাসালো দশজন কিশোর-কিশোরী৷কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

তিন বছরের পরিকল্পনা

কাগজের নৌকা আগেও বানানো হয়েছে৷ তবে সেগুলো ছিল ছোট এবং স্বল্পস্থায়ী৷ সপ্তাহখানেক পানিতে রাখার পর আপনা-আপনিই নৌকার নানা অংশ ভিজে খসে খসে পড়তো৷ এবারের নৌকা সেগুলোর চেয়ে বড়৷ শুধু তাই নয়, ৩ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ এই নৌকা টিকবেও বেশি দিন৷ গেরো ক্লেমকে আশা করছেন, তিন বছর অন্তত টিকবে এটি এবং মাঝে মাঝে এটা পানিতে ভেসেও বেড়াবে৷

যেভাতে তৈরি হলো….

প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা নৌকাটি তৈরি করাটা ছিল বড় রকমের চ্যালেঞ্জের মতো৷ আক্সেল ডোরমান এবং গেরো ক্লেমকে-র নেতৃত্ব এবং প্রেরণায় সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলও হয়েছে গোর্চ-ফোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ

৯ হাজার কাগজ আর ৮০টি বোর্ড

নৌকার কাঠামোর একটি অংশ অবশ্য কাঠ দিয়ে তৈরি৷ কাঠ একেবারেই ব্যবহার না করলে তো নৌকাটি মানুষের ওজনই নিতে পারতো না৷ যা হোক, ওই কয়েক টুকরো কাঠের বাইরে আর কী লেগেছে জানেন? খবরের কাগজের ৯ হাজারটি পৃষ্ঠা এবং ৮০ টুকরা ধূসর রঙের কার্ডবোর্ড৷ ছবিতে ক্লেমকে-র সঙ্গে কাগজে কাগজ জোড়া দিচ্ছে লিয়া৷

কর্মযজ্ঞ

নৌকা তৈরির মূল কাজটা হয়েছে মেরিটাইম মিউজিয়ামের এই কক্ষে৷ এখানেই ৯ হাজার কাগজে আঠা লাগিয়ে লাগিয়ে দাঁর করানো হয় মূল কাঠামো৷ কাগজের ৩৪টি স্তর আঠা দিয়ে লাগিয়ে তৈরি করা হয় নৌকাটি৷ তৈরি শেষে নির্ধারিত দিনে ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রেমারহাফেন শহরের নদীতে৷ আর তারপর? সেই আনন্দভ্রমণ! ।ডচভেলে।কাগজের নৌকায় আনন্দভ্রমণ