ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

মামলার যাঁতাকলে পড়ে আর কোন্দলে জেরবার বিএনপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭
  • ৩৪৪ বার

এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা বিএনপি এখন চলছে দায়সারাভাবে। মামলার যাঁতাকলে পড়ে এবং জেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অনেকটা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে দলটি। এ জেলায় ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে হাতিয়া ছাড়া ৫টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল অবস্থার পরও ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোটে না আসায় সব আসন দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়ায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শত শত নেতাকর্মীকে আসামি করে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও রেহাই পাননি। ফলে মামলা মাথায় নিয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সম্মেলনে বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে সভাপতি, নোয়াখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদকে সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ার হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সম্মেলন শেষ হয়। দীর্ঘ ৬ বছরেও জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। গেল বছরের ৩০শে ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদ ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমগীর আলো এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান ও সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেগমগঞ্জ থেকে ছাত্রদলের একাধিক নেতাকে কাউন্সিলর করায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোট না নিয়ে এক মাস পর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানকে সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী মাহবুব আলমগীর আলোকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর নোয়াখালী জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানান পদ বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। পরে গেল মাসের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা গোলাম হায়দার বিএসসিকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে আর একটি নতুন কমিটির নাম প্রস্তাব করেন। ঐ কমিটির নাম প্রস্তাবের পরও জেলায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১৯৯২ সালের পর বিএনপির কোনো সম্মেলন হয়নি। পরে অ্যাডভোকেট আবদুর রহিমকে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ আবুল কাশেম ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর পর সাধারণ সম্পাদকের পদ শূন্য হলে ২ সদস্যের কমিটি দিয়েই টানা ২৫ বছর ধরে চলছে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু অর্ধশতাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে অন্তরালে রয়েছেন, সে কারণে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা যুবদলের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৯৯৪ সালে। তখন মাহবুব আলমগীর আলোকে সভাপতি ও বাবু কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর পর টানা ২৪ বছর ধরে চলছে এভাবে ২০১১ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। ওই কমিটি ৭ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে অছাত্র, বিবাহিত ও কর্মীবিচ্ছিন্ন নেতাদের দিয়েই চলছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইতিপূর্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার পর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আশা করছিলেন, হয়তো অছাত্র ও বিবাহিতদের কবল থেকে ছাত্রদলের জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব রক্ষা পাবে। কিন্তু দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। এভাবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি-অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ নেতারা জানান, এখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তরুণ নেতাদের আস্থার সংকট দিন দিন বাড়ছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের কারণে এখানে বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অতীতে গ্রহণযোগ্য যেসব নেতা ভোটের রাজনীতিতে এগিয়ে গেছেন, তাঁদের নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়। ফলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি। দলের তরুণ নেতাদের একজন বলেন, ‘নোয়াখালী বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন ও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আছেন। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব আগলে রেখেছেন, তাদের অনেকেই দিনে বিএনপি করেন আর রাতে আওয়ামী লীগের হয়ে যান। এই নেতাদের দিয়ে নোয়াখালী বিএনপিকে আর সক্রিয় করা সম্ভব না।’ তার মতে ‘ত্যাগী’ ও ‘জনপ্রিয়’ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, জেলা বিএনপির সম্মেলন গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এ বি এম জাকারিয়াকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু আমাকে বিএনপি থেকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি-সেক্রেটারি না করে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষাণা দেয়। ফলে জেলা বিএনপি মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী নেতাদের দফায় দফায় বৈঠকের পর গত ২৪শে এপ্রিল কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে এ জেড এম গোলাম হায়দার বিএসসি, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সোনাইমুড়ীর মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক, অধ্যাপক লিয়াকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শহিদুল ইসলাম কিরন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আবুল কাশেম, কোষাধ্যক্ষ পদে আবু নাছের ও ১নং সদস্য করে অ্যাডভোকেট আবদুর রহিমসহ ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

মামলার যাঁতাকলে পড়ে আর কোন্দলে জেরবার বিএনপি

আপডেট টাইম : ০১:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা বিএনপি এখন চলছে দায়সারাভাবে। মামলার যাঁতাকলে পড়ে এবং জেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অনেকটা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে দলটি। এ জেলায় ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে হাতিয়া ছাড়া ৫টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল অবস্থার পরও ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোটে না আসায় সব আসন দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়ায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শত শত নেতাকর্মীকে আসামি করে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও রেহাই পাননি। ফলে মামলা মাথায় নিয়ে হতাশ নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সম্মেলনে বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে সভাপতি, নোয়াখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদকে সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ার হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সম্মেলন শেষ হয়। দীর্ঘ ৬ বছরেও জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। গেল বছরের ৩০শে ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদ ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমগীর আলো এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান ও সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেগমগঞ্জ থেকে ছাত্রদলের একাধিক নেতাকে কাউন্সিলর করায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোট না নিয়ে এক মাস পর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানকে সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী মাহবুব আলমগীর আলোকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর নোয়াখালী জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানান পদ বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। পরে গেল মাসের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা গোলাম হায়দার বিএসসিকে সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে আর একটি নতুন কমিটির নাম প্রস্তাব করেন। ঐ কমিটির নাম প্রস্তাবের পরও জেলায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১৯৯২ সালের পর বিএনপির কোনো সম্মেলন হয়নি। পরে অ্যাডভোকেট আবদুর রহিমকে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ আবুল কাশেম ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর পর সাধারণ সম্পাদকের পদ শূন্য হলে ২ সদস্যের কমিটি দিয়েই টানা ২৫ বছর ধরে চলছে উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু অর্ধশতাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে অন্তরালে রয়েছেন, সে কারণে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা যুবদলের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৯৯৪ সালে। তখন মাহবুব আলমগীর আলোকে সভাপতি ও বাবু কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর পর টানা ২৪ বছর ধরে চলছে এভাবে ২০১১ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। ওই কমিটি ৭ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে অছাত্র, বিবাহিত ও কর্মীবিচ্ছিন্ন নেতাদের দিয়েই চলছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইতিপূর্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার পর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আশা করছিলেন, হয়তো অছাত্র ও বিবাহিতদের কবল থেকে ছাত্রদলের জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব রক্ষা পাবে। কিন্তু দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। এভাবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি-অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ নেতারা জানান, এখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তরুণ নেতাদের আস্থার সংকট দিন দিন বাড়ছে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের কারণে এখানে বিএনপি নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অতীতে গ্রহণযোগ্য যেসব নেতা ভোটের রাজনীতিতে এগিয়ে গেছেন, তাঁদের নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়। ফলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি। দলের তরুণ নেতাদের একজন বলেন, ‘নোয়াখালী বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন ও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী আছেন। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব আগলে রেখেছেন, তাদের অনেকেই দিনে বিএনপি করেন আর রাতে আওয়ামী লীগের হয়ে যান। এই নেতাদের দিয়ে নোয়াখালী বিএনপিকে আর সক্রিয় করা সম্ভব না।’ তার মতে ‘ত্যাগী’ ও ‘জনপ্রিয়’ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, জেলা বিএনপির সম্মেলন গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এ বি এম জাকারিয়াকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু আমাকে বিএনপি থেকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি-সেক্রেটারি না করে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষাণা দেয়। ফলে জেলা বিএনপি মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী নেতাদের দফায় দফায় বৈঠকের পর গত ২৪শে এপ্রিল কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি পদে এ জেড এম গোলাম হায়দার বিএসসি, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সোনাইমুড়ীর মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক, অধ্যাপক লিয়াকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শহিদুল ইসলাম কিরন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আবুল কাশেম, কোষাধ্যক্ষ পদে আবু নাছের ও ১নং সদস্য করে অ্যাডভোকেট আবদুর রহিমসহ ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।