ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

লোটাস কামাল ও বাহারের এলাকায় নৌকা-ধান যা পেলো

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭
  • ৩২০ বার

বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর কাছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট হয়েছে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তারপরেও জয়ের আশায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের কাছে এই ফলাফল একটা বড় ধাক্কা। কেন পরাজয় হলো, তার কারণ অনুসন্ধান শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের দুই এমপি আ ক ম বাহারউদ্দিন ও পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামালের এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে হেরেছেন নৌকার প্রার্থী সীমা।

সীমা হেরেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নির্বাচনী এলাকাতেও। নির্বাচনের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী, মুস্তফা কামালের এলাকায় সীমার চেয়ে সাক্কু ভোট বেশি পেয়েছেন চার হাজার। মুস্তফা কামালের নির্বাচনী এলাকার নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র একটি কেন্দ্রে পাস করেছেন সীমা। এটাও আওয়ামী লীগের হারের একটি কারণ।

অন্যদিকে আ ক ম বাহারউদ্দিনের এলাকার আঠারো কেন্দ্রের অধিকাংশগুলোতে হেরেছেন সীমা। সূত্র জানায় বাহারের এলাকার ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মাত্র তিন থেকে ৪টি ভোটকেন্দ্রে জিতেছেন সীমা।

লোটাস কামাল ও বাহারের এলাকার এমন ফলাফলেই সীমারের হারের সবচেয়ে বড় বলে মনে করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রের অনেক নেতা।

তারা বলছেন, চিরপ্রতিদ্বন্দী ‘আফজাল-বাহার দ্বন্দের বলি’ হয়েছেন সীমা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আ ক ম বাহারউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সীমার পিতা এ্যাড. আফজাল পরিবারের প্রকাশ্য বিরোধ থাকায় তিনি নির্বাচনে সীমার পক্ষে তেমনভাবে কাজ করেননি। অনেকে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে যারা দিনে আফজাল ও সীমার পক্ষে ছিলেন, রাতে তারা সাক্কুর হয়ে কাজ করছেন, আর ভোটের দিন তারা দিনে সীমার নৌকা প্রকীকের ব্যাজ পরে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সাক্কুকে বিজয়ী করেছেন।

উল্লেখ্য কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার ও আফজল খানের দ্বন্দ্ব। যখন আফজল খানের কন্যা সীমাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দেখা করতে যান এমপি বাহারের কাছে। তখন বাহার সীমাকে বলেন, তোমাকে দোয়া করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। যদিও পরে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের চাপে পড়ে এমপি বাহার নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ১০৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি কেন্দ্রে ৬৮ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাককু। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৬১ ভোট।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লোটাস কামাল ও বাহারের এলাকায় নৌকা-ধান যা পেলো

আপডেট টাইম : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭

বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর কাছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট হয়েছে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তারপরেও জয়ের আশায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের কাছে এই ফলাফল একটা বড় ধাক্কা। কেন পরাজয় হলো, তার কারণ অনুসন্ধান শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের দুই এমপি আ ক ম বাহারউদ্দিন ও পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামালের এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে হেরেছেন নৌকার প্রার্থী সীমা।

সীমা হেরেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নির্বাচনী এলাকাতেও। নির্বাচনের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী, মুস্তফা কামালের এলাকায় সীমার চেয়ে সাক্কু ভোট বেশি পেয়েছেন চার হাজার। মুস্তফা কামালের নির্বাচনী এলাকার নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র একটি কেন্দ্রে পাস করেছেন সীমা। এটাও আওয়ামী লীগের হারের একটি কারণ।

অন্যদিকে আ ক ম বাহারউদ্দিনের এলাকার আঠারো কেন্দ্রের অধিকাংশগুলোতে হেরেছেন সীমা। সূত্র জানায় বাহারের এলাকার ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মাত্র তিন থেকে ৪টি ভোটকেন্দ্রে জিতেছেন সীমা।

লোটাস কামাল ও বাহারের এলাকার এমন ফলাফলেই সীমারের হারের সবচেয়ে বড় বলে মনে করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রের অনেক নেতা।

তারা বলছেন, চিরপ্রতিদ্বন্দী ‘আফজাল-বাহার দ্বন্দের বলি’ হয়েছেন সীমা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আ ক ম বাহারউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সীমার পিতা এ্যাড. আফজাল পরিবারের প্রকাশ্য বিরোধ থাকায় তিনি নির্বাচনে সীমার পক্ষে তেমনভাবে কাজ করেননি। অনেকে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে যারা দিনে আফজাল ও সীমার পক্ষে ছিলেন, রাতে তারা সাক্কুর হয়ে কাজ করছেন, আর ভোটের দিন তারা দিনে সীমার নৌকা প্রকীকের ব্যাজ পরে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সাক্কুকে বিজয়ী করেছেন।

উল্লেখ্য কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার ও আফজল খানের দ্বন্দ্ব। যখন আফজল খানের কন্যা সীমাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দেখা করতে যান এমপি বাহারের কাছে। তখন বাহার সীমাকে বলেন, তোমাকে দোয়া করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। যদিও পরে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের চাপে পড়ে এমপি বাহার নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ১০৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি কেন্দ্রে ৬৮ হাজার ৭৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাককু। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৬১ ভোট।