জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে বেশ জোরেশোরে। আগামী ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির প্রস্তুতি, আয়োজনে চমক, নতুনত্ব, নতুন বছরের ভাবনা ও অঙ্গীকার নিয়ে শনিবার সকালে মধুর ক্যান্টিনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেইন। মেধাবী এ ছাত্রনেতার সাক্ষাতকার নিয়েছেন ছবি তুলেছেন দ্বীপময় চৌধুরী ডিউক।
৬৯ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠন গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যে উদ্ভাসিত। বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধনীতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে জাতির প্রয়োজনে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের প্রয়োজনে কাজ করছে এ সংগঠন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ওয়ান ইলেভেনের সময় অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন মাঠে না থাকলেও ছাত্রলীগ ছিল সক্রিয়। ছাত্রলীগের একজন কর্মী হওয়টাই অনেক বেশি গৌরবের।
উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০২১ সালের মধ্যে রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার যে টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছাত্রলীগ কি ভূমিকা রাখতে পারে?
জাকির হোসেইন: দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ছাত্রলীগ সব সময়ই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এমন ধারা অব্যাহত থাকবে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করে বাংলাদেশকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিতে ছাত্রলীগ সবসময় কাজ করছে।
আগামী ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এবারের আয়োজনে বিশেষ কোনো চমক বা নতুনত্ব থাকছে কি?
জাকির হোসেইন: বরবারের মতো এবারো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালন করা হবে। নতুনত্ব বলতে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। মেধা ও মননে উদ্বুদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে। অন্যান্যবারের চেয়ে এবার দেয়াল, লিখন, পোস্টার, ফেস্টুন নিয়ে সাবেক নেতাদের কাছ থেকেও প্রশংসা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান নিয়ে নিজেদের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করছেন।
নতুন বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোনো অঙ্গীকার বা নেতাকর্মীদের জন্য দিক নির্দেশনা রয়েছে কিনা?
জাকির হোসেইন : ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষর মুক্ত করার অঙ্গিকার নিয়েছে আমাদের সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে চায় ছাত্রলীগ। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দেশের মানুষ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন হলে অবশ্যই আমরা এগিয়ে যাবো।
সংসদের বাইরে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের অধিকাংশই অছাত্র। তারা মাঝে মধ্যে হুংকার দেন রাজনৈতিক মাঠ দখল করার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
জাকির হোসেইন : যেখানে ৭ শতাধিক লোক নিয়ে কমিটি গঠন করে আর যাদের বয়স ৪৫ থেকে ৫০, এমন বাবা-চাচাদের দলকে আমরা কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করি না। কারণ তারা নিজেদের ঘরই গোছাতে পারছে না। দলটিতে কোনো ধরণের চেইন অব কমান্ড নেই, এমনকি গঠনতন্ত্রও নেই।
আমাদের সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
জাকির হোসেইন: নিউজকেও ধন্যবাদ। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
Reporter Name 

























