ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানের মাঠে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার

স্কুলের শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি স্কুলে যাওয়া এবং বইয়ের জগতে ডুবে থাকা। তবে আমাদের পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে ধান চাষ, কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়েছে। তারা পরিদর্শন করেছে কৃষি প্রযুক্তি গ্রাম।

ব্যতিক্রমী এই পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের কারণে মাত্র কয়েক মাসেই আলোচনায় এসেছে বিদ্যালয়টি। শুধু বইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নাজমুল হাসান জয় ও সাহানাজ পারভীন সানুর নেতৃত্বে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সহায়তায় দিনাজপুর সদরের কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করে।

শুরুতে শিক্ষার্থীরা ব্রির আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতের ধান ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসানের নির্দেশনায় তারা কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি গ্রামের রাইস গার্ডেনে তিন মৌসুমের বিভিন্ন জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে। এতে ধান চাষ, চাষের পদ্ধতি, বিভিন্ন জাত ও মৌসুম সম্পর্কে তারা ধারণা লাভ করে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান আহনাফ বলে, ‘আমরা প্রতিদিনই ভাত খাই। তবে ধান উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না। আমাদের শিক্ষকদের ধন্যবাদ, তাঁরা আমাদের এ সুযোগ করে দিয়েছেন। ধানের যে এত জাত আছে, সেটিও আমরা জানতাম না। দিনাজপুরে এত সুগন্ধি জাতের ধান আবাদ হয়, এটাও জানতাম না। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিশা ফাইরুজ বলে, ‘এক মাঠে ৫৪ জাতের ধান দেখে আমি বিস্মিত। আগে ধানখেত দেখেছি, কিন্তু এভাবে কখনো দেখিনি। দিনাজপুরে এত জাতের ধান আবাদ হয়! দিনাজপুরের সন্তান হিসেবে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে।’

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান বলেন, ‘এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা এসে এসব প্রদর্শনী পরিদর্শন করে অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন। আজ পাঠশালা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসেছে। তাদের আগ্রহ দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি। ভবিষ্যতে তারাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম রয়েছে। দিনাজপুর সদরের কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম এর একটি। এখানে তিন মৌসুমের বিভিন্ন জাতের ধান রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে কৃষক ও আগ্রহীরা স্বচক্ষে বিভিন্ন জাতের ধানের তুলনা করে নিজেদের উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার ফলাফল সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। এতে তাঁরা আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ধানের মাঠে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা

আপডেট টাইম : ১১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুলের শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি স্কুলে যাওয়া এবং বইয়ের জগতে ডুবে থাকা। তবে আমাদের পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে ধান চাষ, কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়েছে। তারা পরিদর্শন করেছে কৃষি প্রযুক্তি গ্রাম।

ব্যতিক্রমী এই পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের কারণে মাত্র কয়েক মাসেই আলোচনায় এসেছে বিদ্যালয়টি। শুধু বইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নাজমুল হাসান জয় ও সাহানাজ পারভীন সানুর নেতৃত্বে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সহায়তায় দিনাজপুর সদরের কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করে।

শুরুতে শিক্ষার্থীরা ব্রির আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতের ধান ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে ব্রি দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসানের নির্দেশনায় তারা কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি গ্রামের রাইস গার্ডেনে তিন মৌসুমের বিভিন্ন জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে। এতে ধান চাষ, চাষের পদ্ধতি, বিভিন্ন জাত ও মৌসুম সম্পর্কে তারা ধারণা লাভ করে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান আহনাফ বলে, ‘আমরা প্রতিদিনই ভাত খাই। তবে ধান উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না। আমাদের শিক্ষকদের ধন্যবাদ, তাঁরা আমাদের এ সুযোগ করে দিয়েছেন। ধানের যে এত জাত আছে, সেটিও আমরা জানতাম না। দিনাজপুরে এত সুগন্ধি জাতের ধান আবাদ হয়, এটাও জানতাম না। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিশা ফাইরুজ বলে, ‘এক মাঠে ৫৪ জাতের ধান দেখে আমি বিস্মিত। আগে ধানখেত দেখেছি, কিন্তু এভাবে কখনো দেখিনি। দিনাজপুরে এত জাতের ধান আবাদ হয়! দিনাজপুরের সন্তান হিসেবে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে।’

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান বলেন, ‘এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা এসে এসব প্রদর্শনী পরিদর্শন করে অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন। আজ পাঠশালা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসেছে। তাদের আগ্রহ দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি। ভবিষ্যতে তারাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম রয়েছে। দিনাজপুর সদরের কাউগাঁ-হুগলীপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম এর একটি। এখানে তিন মৌসুমের বিভিন্ন জাতের ধান রাইস গার্ডেনের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে কৃষক ও আগ্রহীরা স্বচক্ষে বিভিন্ন জাতের ধানের তুলনা করে নিজেদের উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার ফলাফল সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। এতে তাঁরা আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন।