বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, টাকা ছাপানোর জন্য ব্যবহৃত কাগজ ও কালি বিশেষায়িত হওয়ায় এসব উপকরণের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও সীমিত।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকা নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের নকশা পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে নতুন নকশার নোট চালুর কারণে মুদ্রণ ব্যয় বেড়েছে—এমনটি মনে করেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা। তার মতে, নকশা পরিবর্তনের ব্যয় খুবই কম। নতুন নকশার কারণে মূলত নোট মুদ্রণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ কাগজ ও কালির দাম বেড়ে যাওয়া।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে নোট মুদ্রণের খরচ বাড়লেও নতুন নোট ছাপানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি বলেও জানান আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নোট মুদ্রণে ব্যয় হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এর আগের অর্থবছর ২০২২-২৩ সালে এ খাতে ব্যয় হয় ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে নোট মুদ্রণের ব্যয় ছিল ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নোট মুদ্রণের খরচে বিনিময় হারেরও প্রভাব রয়েছে। তবে গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে আন্তঃব্যাংক গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ৮ পয়সা বা প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
ফলে নোট মুদ্রণের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে বিনিময় হারের পরিবর্তনের চেয়ে কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সংকটই বড় কারণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
Reporter Name 






















