ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী অধিনায়ক হলে গোল উদযাপন করার সময় পাবেন না হালান্ড সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ রাষ্ট্রপতি ভোটের বৈঠক আহ্বান করলেন সিইসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতার কাছাকাছি—দাবি পাকিস্তানের পানিতে তলিয়ে আছে কমিউনিটি ক্লিনিক, নেই স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ‘প্রায় চূড়ান্ত’, নতুন মহাসচিব কে?

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে ১২ নির্দেশনা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু পরীক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করে নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ রয়েছে। এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার রয়েছে।

এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য ও ভুয়া প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে ১২টি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১. আবেদনপত্রে আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।

৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা যেতে পারে।

৪. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৫. পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।

৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

৭. মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।

৯. ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র নিতে হবে।

১০. পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।

১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।

১২. ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকির ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে ১২ নির্দেশনা

আপডেট টাইম : ১১:১৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে কিছু পরীক্ষার্থী নিজে অংশগ্রহণ না করে নানা ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ রয়েছে। এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার রয়েছে।

এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য ও ভুয়া প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে ১২টি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১. আবেদনপত্রে আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।

৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা যেতে পারে।

৪. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৫. পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।

৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

৭. মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।

৯. ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র নিতে হবে।

১০. পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।

১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে।

১২. ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকির ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।