ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো মাটির ঘরের ঐতিহ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৭ বার

xr:d:DAF0C7M4m5o:37,j:4151602126755093964,t:23111411

একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল মাটির ঘর। প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাসি-কান্না, স্মৃতি আর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঘরগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার স্রোতে। ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে কিশোরগঞ্জে এখন টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি মাটির ঘর।

গরমে শীতল, শীতে উষ্ণতা- প্রাকৃতিকভাবেই এমন আরামদায়ক ঘর তৈরি হতো এঁটেল মাটি, পাটের আঁশ, বাঁশ, তক্তা আর খড় কিংবা টিনের ছাউনিতে। একটি ঘর নির্মাণে সময় লাগত ছয় মাস থেকে এক বছর। কিন্তু আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং দক্ষ কারিগরের সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের এই ঐতিহ্য।  ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে মাটির ঘর খুঁজে পাওয়া দুরূহ।

পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের শুক্রবাদ, খামা, তালদর্শী, আদিত্যপাশা, বারাবর, চামরাইদ, কামারকোনা, মেহেরধনবাড়ী, মজিতপুর ও জামালপুর গ্রামের কিছু পরিবার এখনও বসবাস করছেন মাটির ঘরে। কোথাও রান্নাঘর, কোথাও গুদামঘর, আবার কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের এই নিদর্শন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল মাটির ঘর। এখন নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে পাকা ভবনের দিকে। ফলে শুধু একটি ঘর নয়, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ স্থাপত্য, নির্মাণকৌশল আর শত বছরের জীবনধারার এক অমূল্য ইতিহাস।

কিশোরগঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আমিনুল হক সাদী মতে, এগারসিন্দুর শুধু একটি জনপদ নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি টিকে থাকা মাটির ঘরগুলো সংরক্ষণ করে এলাকাটিকে প্রত্নপল্লী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তাদের।

এই মৃৎশিল্প সংরক্ষণ না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো মাটির ঘর দেখবে শুধু বইয়ের পাতায়। তাই ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলো রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো মাটির ঘরের ঐতিহ্য

আপডেট টাইম : ১২:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

একসময় গ্রামবাংলার পরিচয় ছিল মাটির ঘর। প্রজন্মের পর প্রজন্মের হাসি-কান্না, স্মৃতি আর ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঘরগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার স্রোতে। ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে কিশোরগঞ্জে এখন টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি মাটির ঘর।

গরমে শীতল, শীতে উষ্ণতা- প্রাকৃতিকভাবেই এমন আরামদায়ক ঘর তৈরি হতো এঁটেল মাটি, পাটের আঁশ, বাঁশ, তক্তা আর খড় কিংবা টিনের ছাউনিতে। একটি ঘর নির্মাণে সময় লাগত ছয় মাস থেকে এক বছর। কিন্তু আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং দক্ষ কারিগরের সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের এই ঐতিহ্য।  ইট-সিমেন্টের দালানের ভিড়ে মাটির ঘর খুঁজে পাওয়া দুরূহ।

পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের শুক্রবাদ, খামা, তালদর্শী, আদিত্যপাশা, বারাবর, চামরাইদ, কামারকোনা, মেহেরধনবাড়ী, মজিতপুর ও জামালপুর গ্রামের কিছু পরিবার এখনও বসবাস করছেন মাটির ঘরে। কোথাও রান্নাঘর, কোথাও গুদামঘর, আবার কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের এই নিদর্শন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল মাটির ঘর। এখন নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে পাকা ভবনের দিকে। ফলে শুধু একটি ঘর নয়, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ স্থাপত্য, নির্মাণকৌশল আর শত বছরের জীবনধারার এক অমূল্য ইতিহাস।

কিশোরগঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আমিনুল হক সাদী মতে, এগারসিন্দুর শুধু একটি জনপদ নয়, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি টিকে থাকা মাটির ঘরগুলো সংরক্ষণ করে এলাকাটিকে প্রত্নপল্লী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তাদের।

এই মৃৎশিল্প সংরক্ষণ না হলে আগামী প্রজন্ম হয়তো মাটির ঘর দেখবে শুধু বইয়ের পাতায়। তাই ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলো রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।