ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ১৫ বার

কাতারের সাবেক আমির এবং দেশটির আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে রোববার (১২ জুলাই) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান।

আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। ফাদার আমির মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।’

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সালে কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। প্রায় দুই দশকের শাসনামলে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়। তার শাসনামলেই কাতার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানসূচক ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

তার মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির সরকার শিগগিরই জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই কাতার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কাতারের সাবেক আমির এবং দেশটির আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে রোববার (১২ জুলাই) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান।

আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। ফাদার আমির মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।’

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সালে কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। প্রায় দুই দশকের শাসনামলে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়। তার শাসনামলেই কাতার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানসূচক ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

তার মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির সরকার শিগগিরই জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই কাতার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল।