ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার

কাতারের সাবেক আমির এবং দেশটির আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে রোববার (১২ জুলাই) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান।

আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। ফাদার আমির মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।’

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সালে কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। প্রায় দুই দশকের শাসনামলে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়। তার শাসনামলেই কাতার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানসূচক ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

তার মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির সরকার শিগগিরই জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই কাতার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কাতারের সাবেক আমির এবং দেশটির আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে রোববার (১২ জুলাই) তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান।

আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে আমিরি দিওয়ান গভীর শোকের সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। মহান আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। ফাদার আমির মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।’

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ সালে কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। প্রায় দুই দশকের শাসনামলে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়। তার শাসনামলেই কাতার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হামাদ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানসূচক ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

তার মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির সরকার শিগগিরই জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার নেতৃত্বেই কাতার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন যুগে প্রবেশ করেছিল।