ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:২০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৯ বার

নেত্রকোনায় বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া কৃষি প্রণোদনার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার কলমাকান্দাসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় এ অভিযোগে কৃষকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন তারা।

অভিযোগের পর কলমাকান্দায় এক কৃষি উপসহকারীর স্ত্রীর নাম প্রণোদনার তালিকায় থাকার সত্যতা পাওয়ায় তাকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বাঁধ ব্যবস্থাপনা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে জেলার হাওরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ধানখেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক একটি ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকার চাল ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন প্রণোদনার তালিকা প্রস্তুত করে। তবে তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্তি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজনদের নাম তালিকায় থাকার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেন কৃষকরা। কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গণস্বাক্ষরসহ ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর খান ও শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। তবে পরে অভিযুক্ত শাহিনুর আলম প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাতায়াত ব্যয় দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে প্রতিবেদকের অভিযোগ।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রণোদনার তালিকা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। তিনি জানান, উপজেলায় ৮ হাজার ২৩৩ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২৩৩ জন কৃষক প্রণোদনা পেয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৯১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মানবিক সহায়তা পেয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে কৃষি অধিদপ্তর অভিযুক্ত শাহিনুর আলমকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বদলি করে। অপর অভিযুক্ত নূর খানকে অন্য একটি ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৭:২০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনায় বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলহানির শিকার কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া কৃষি প্রণোদনার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার কলমাকান্দাসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় এ অভিযোগে কৃষকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন তারা।

অভিযোগের পর কলমাকান্দায় এক কৃষি উপসহকারীর স্ত্রীর নাম প্রণোদনার তালিকায় থাকার সত্যতা পাওয়ায় তাকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বাঁধ ব্যবস্থাপনা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে জেলার হাওরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ধানখেত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক একটি ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকার চাল ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন প্রণোদনার তালিকা প্রস্তুত করে। তবে তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্তি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজনদের নাম তালিকায় থাকার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেন কৃষকরা। কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গণস্বাক্ষরসহ ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর খান ও শাহিনুর আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। তবে পরে অভিযুক্ত শাহিনুর আলম প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাতায়াত ব্যয় দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে প্রতিবেদকের অভিযোগ।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রণোদনার তালিকা নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। তিনি জানান, উপজেলায় ৮ হাজার ২৩৩ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২৩৩ জন কৃষক প্রণোদনা পেয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৯১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মানবিক সহায়তা পেয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে কৃষি অধিদপ্তর অভিযুক্ত শাহিনুর আলমকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বদলি করে। অপর অভিযুক্ত নূর খানকে অন্য একটি ইউনিয়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।