ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ বার

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেখানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের মূল জান্তা সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ের অন্যান্য প্রক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে। প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ফ্রন্টেই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে সে সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল এবং আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরেছিল। বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে বলে তিনি জানান।

সংসদ নেতা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করে।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, যার ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।

সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন চলমান রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেখানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের মূল জান্তা সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি কনফিডেন্স বিল্ডিংয়ের অন্যান্য প্রক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে। প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ফ্রন্টেই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে সে সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল এবং আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরেছিল। বর্তমান সরকারও সেই নীতির ধারাবাহিকতায় টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে বলে তিনি জানান।

সংসদ নেতা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এবং মানবিক সহায়তা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করে।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, যার ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।

সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন চলমান রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।