ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ বার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

আপডেট টাইম : ১২:৩৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।