ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

সমবায়ের আইন বিগত সরকার গলা টিপে হত্যা করেছিল : ডিএসসিসি প্রশাসক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, সমবায় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, গ্রামীণ অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারস্পরিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক। তবে বিগত সরকার সমবায় আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

শনিবার ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তরের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সমবায়। কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সংহতি ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও সমবায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের শত বছরেরও বেশি ইতিহাস থাকলেও এ খাত যতটা এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ততটা এগোতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ সমবায়ের তিন অংশীজন-সমিতির সদস্য, সরকার এবং সমবায় অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার ঘাটতি।

আব্দুস সালাম বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সমবায় আইন কার্যকর ছিল, ২০১৪ সালে বিগত সরকার তা পরিবর্তন করে সমবায় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সেই আইন পরিবর্তনের ফলে সমবায় আন্দোলন আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই স্বৈরাচারী আমলে প্রণীত আইন পরিবর্তন করে একটি গণমুখী সমবায় আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, সমবায়ীদের মূল দাবি হলো, অডিট ফি ও সমবায় উন্নয়ন তহবিল বাবদ ১৩ শতাংশ পরিশোধের পাশাপাশি বিগত সরকারের আরোপ করা অতিরিক্ত ২০ শতাংশ আয়কর বাতিল করা। তার ভাষ্য, এই অতিরিক্ত করের কারণে সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমবায় খাতের উন্নয়নে চারটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ও বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমবায় পণ্যের বাজারসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরকে নবীন সমিতিগুলোকে শুরুতেই দমন না করে সংশোধন ও বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমবায় দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান খাত, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ছাড়াই সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমবায় খাতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

সমবায়ের আইন বিগত সরকার গলা টিপে হত্যা করেছিল : ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেট টাইম : ০১:০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, সমবায় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, গ্রামীণ অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পারস্পরিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক। তবে বিগত সরকার সমবায় আন্দোলনকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

শনিবার ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তরের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সমবায়। কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সংহতি ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও সমবায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের শত বছরেরও বেশি ইতিহাস থাকলেও এ খাত যতটা এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ততটা এগোতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ সমবায়ের তিন অংশীজন-সমিতির সদস্য, সরকার এবং সমবায় অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও আন্তরিকতার ঘাটতি।

আব্দুস সালাম বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সমবায় আইন কার্যকর ছিল, ২০১৪ সালে বিগত সরকার তা পরিবর্তন করে সমবায় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সেই আইন পরিবর্তনের ফলে সমবায় আন্দোলন আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই স্বৈরাচারী আমলে প্রণীত আইন পরিবর্তন করে একটি গণমুখী সমবায় আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, সমবায়ীদের মূল দাবি হলো, অডিট ফি ও সমবায় উন্নয়ন তহবিল বাবদ ১৩ শতাংশ পরিশোধের পাশাপাশি বিগত সরকারের আরোপ করা অতিরিক্ত ২০ শতাংশ আয়কর বাতিল করা। তার ভাষ্য, এই অতিরিক্ত করের কারণে সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমবায় খাতের উন্নয়নে চারটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমবায় সমিতিগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ ও বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে। আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমবায় পণ্যের বাজারসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরকে নবীন সমিতিগুলোকে শুরুতেই দমন না করে সংশোধন ও বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমবায় দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান খাত, যেখানে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ছাড়াই সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমবায় খাতে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।